রাজশাহীতে কঠোর প্রশাসন || শহরে প্রবেশ ও বের হওয়া যাবে না : জরুরি সেবা ছাড়া দোকানপাট বন্ধ

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২০, ১১:২৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বিভাগীয় সমন্বয় সভায় সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ-সোনার দেশ

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মানুষকে ঘরে রাখতে আরও কঠোর হয়েছে রাজশাহীর প্রশাসন। রাজশাহীতে আর কাউকে ঢুকতে বা বেরোতে দেয়া হবে না এবং অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে আসতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সোমবার (৬এপ্রিল) সন্ধ্যার পর থেকে রিকশা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। লোকজন যে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হয় এবং রাজশাহীতে প্রবেশ ও বের হতে না পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়টি বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সভায়। এছাড়াও পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত রিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্বণ বলেন, আমাদের আরএমপির সদর দফতর থেকে মাইকিং করা হয়েছে। ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে অনির্দিষ্টকালের জন্য। এছাড়া শহর রক্ষার জন্য আমাদের আরএমপি এলাকার প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়া হবে। গত কয়েক দিনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও অটোরিকশা করে পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে হাজার হাজার মানুষ রাজশাহী শহরে প্রবেশ করেছে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী মাইকিং করে তরিতরকারি ক্রয় করার জন্য সকালের দিকে কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলা রাখা হতে পারে। তাও সদর দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে এ সভায় অন্যদের মধ্যে অংশ নিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এসএম হাফিজ আক্তার, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান, রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক প্রমূখ।
সভায় রাজশাহী বিভাগের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিভাগে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগের রোগি শনাক্ত হলে কী কী করণীয় সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মানুষকে ঘরে রাখতে প্রশাসনের কঠোর হওয়া এবং সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভা শেষে বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, রাজশাহী বিভাগে এখনও করোনা আক্রান্ত রোগি শনাক্ত হয়নি। তবে শনাক্ত হলে কীভাবে রোগটি মোকাবিলা করা যাবে সে বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। তিনি বলেন, রাজশাহীতে জেনারেল হাসপাতাল নেই। তাই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দুটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং তিনটি স্টেডিয়ামকেই প্রস্তুত রাখার ব্যাপারে সবাই সহমত প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া আইনের প্রয়োগ করে মানুষকে আপাতত বাড়িতে রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অতিব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন না। প্রশাসন এ বিষয়টি নিশ্চিত করবে। সড়কে জরুরি কাজে নিয়োজিত এবং পণ্য পরিবহনকারী গাড়ি ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এদিকে সভা শেষেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে রাজশাহী শহরে প্রবেশের আগের কয়েকটি মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। রাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। এভাবে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া জনসমাগম ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও।