রাজশাহীতে কমছে তাপমাত্রার পারদ

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২২, ১১:১৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


মাঘ মাসের চতুর্থ দিন অতিবাহিত করে আজ পঞ্চম দিন। মাঘের শুরু থেকেই দিনের বেলা মেঘলাভাব আর গুড়িগুড়ি বৃষ্টির আবহ না থাকলেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ কমছে। প্রতিদিনিই গড়ে প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমছে। সন্ধ্যার পর থেকে ভোরের দিকে এই তাপমাত্রা নিচের দিকে নামছে। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এভাবেই কমতে কমতে শৈতপ্রবাহে রূপ নেবে বলে ধারণা করছে আবহওয়া অফিস।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাজশাহীতে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ১৭ জানুয়ারি ছিলো ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন ১৬ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া ১৫ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মাঘের প্রথম চার দিনের আবহওয়ার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দিনের বেলা বাতাস থাকলেও আবহাওয়া রৌদ্রোজ্জ্বল ছিলো। বেলা গড়াতেই রোদের তেজ কিছুটা বাড়তে থাকে। দুপুর সাড়ে ৩ টা-৪ টা পর্যন্ত রোদ্রৌজ্জ্বল থাকে। এরপরে বাতাসের সঙ্গে ঠান্ডা নামতে শুরু করে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জেষ্ঠ্য পর্যবেক্ষক এএফএম গাউসুজ্জামান বলেন, রাজশাহীতে প্রায় সারাদিনই এখন রোদ্রৌজ্জ্বল থাকছে। তবে মাঘ মাসের পর থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ক্রমই কমছে। ধারণা করা হচ্ছে এটা আরও কমবে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে। সামনে অন্তত দু’টি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা আছে।

রাজশাহীতে ১৮ জানুয়ারি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন বাতাসের আর্দ্রতা সর্বোচ্চ সকাল ৬ টায় ছিলো ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন সন্ধ্যা ৬ টায় ৭৪ শতাংশ।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে শীলাবৃষ্টি হওয়ার পর থেকে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। সোনার দেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যমতে, হিমেল বাতাস বইছে পুরো জেলায়। সকালে ঝলমলে রোদের দেখা মিললেও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কাবু হয়ে পড়ছে এ জনপদের মানুষ। গত ৫ দিন ধরে সূর্যের তেমন প্রখরতা নেই। শীত নিবারণের জন্য ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছুটছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, তারপর রাত বাড়লেই হিমেল বাতাসের রাজত্ব। আর এরই সঙ্গে কদর বাড়তে শুরু করেছে গরম কাপড়ের। সকাল, দুুপুর গড়িয়ে রাত পর্যন্ত হিমেল বাতাস বইছে। এতে মানুষের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে রিকশা চালক, খুদে ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ তেমন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এছাড়া জেলা শহরের রিকশা যাত্রীর সংখ্যাও কম। উত্তরের সীমান্তবর্তী এই জেলা শহরসহ আশেপাশের উপজেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমা হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফলে শ্রমজীবি ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বাড়ছে দুর্ভোগ। তাদের বিভিন্ন কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। মাসুদুর রহমান নামে এক রিকশা চালক জানান, সন্ধ্যার পর হিমেল বাতাস বাড়তে থাকায় রিকশা চালাতে বাতাস কাবু করে দিচ্ছে। উপায় নেই, সংসার চালাতে অর্থের দরকার। চালাতেই হবে।

এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে গরম কাপড়ের চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে। দাম ও গুনগত মানসম্পন্ন আর দোকানভেদে বিভিন্ন ধরনের সোয়েটার, চাদর, ছোটদের গরম কাপড়ের সেট, টুপির দোকানে ক্রেতার ভিড় বেড়েছে। জেলা শহরের ভাসমান দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের পসরা নিয়ে বসায় বিক্রিও প্রত্যাশার তুলনায় বেশ ভাল হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা। ফুটপাতের দোকানগুলোতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষদের ভিড় বেশি। ফুটপাত ব্যবসায়ী মোমিন আলী জানান, বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকছে। বড় থেকে শুরু করে ছোটদের কাপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে। আর শীত যতই বাড়বে ব্যবসা তাদের ততই বাড়বে।