রাজশাহীতে কমেছে টিকা নিয়ে কুসংস্কার-অনীহা, দ্বিতীয় ডোজ ৭ এপ্রিল

আপডেট: মার্চ ১৮, ২০২১, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

মাহাবুল ইসলাম:


রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে শুরুতে অনেকের মধ্যে নানা ধরনের কুসংস্কার এবং অনীহা দেখা গেলেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টিকাদান কর্মসূচি। এখন স্বতঃর্স্ফূতভাবেই টিকা নিচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। পিছিয়ে নেয় উপজেলা পর্যায়ের সাধারণ মানুষও। রাজশাহীতে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ শেষে ৭ এপ্রিল শুরু হবে দ্বিতীয় ডোজ প্রদান।
রাজশাহী সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে গত মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) রাজশাহী জেলায় মোট ৩ হাজার ১৬৫ জন করোনার ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৬২৯ ও নারী ১ হাজার ৫৩৬ জন। নগরীতে ৪৪৮ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এরমধ্যে পুরুষ ২১৫ জন নারী ২৩৩ জন।
রাজশাহীতে করোনা ভ্যাকসিনের বরাদ্দ ছিলো ১ লক্ষ ৮০ হাজার ডোজ। এরমধ্যে পাশর্^বর্তী ৩ টি জেলা নাটোরে ৫০০ ভয়েল, জয়পুরহাটে ৭০০ ভয়েল ও নঁওগাতে ১ হাজার ৫০০ ভয়েল পাঠানো হয়েছে। বাকিটা রাজশাহীতেই প্রদান করা হচ্ছে। প্রথম দিকে স্বাস্থ্য অফিসের নির্দেশনা ছিলো এই ১ লক্ষ ৮০ হাজার ডোজ ৯০ হাজার মানুষকে প্রদান করা হবে। পরে এটা প্রথম ডোজ হিসেবে প্রদান করতে বলা হয়। আর এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে প্রায় ৪০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন আছে।
রাজশাহীতে করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে কিছু কুসংস্কার-অনীহা থাকলেও সরকারের কার্যকরি পদক্ষেপের কারণে টিকা প্রদান কার্যক্রমে অসহায় ও নিম্নবিত্তসহ গ্রামাঞ্চলের মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে অংশগ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরীর পদ্মা পাড় এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক সালাউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, করোনা টিকা নিয়ে প্রথম দিকে অনেক সংশয় ছিলো। তবে টিকা নিয়ে টিভিতে যেভাবে দেখেছেন তাতে এটা ক্ষতিকর মনে হয় নি। আর এখন পর্যন্ত সরাসরি টিকা নেয়ার কথা তাকে কেউ বলেনি। তাই তিনি টিকা নেননি। এছাড়া তিনি সুস্থই আছেন। সেই রকম হলে টিকা নিবেন।
টিকা কার্যক্রমে কুসংস্কার, অনীহা, অসহায় ও গ্রামাঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ বিষয়ে কথা হয় রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় (রাবি)’র সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর সালেহ মোহাম্মদ এর সঙ্গে। তিনি জানান, রাজশাহীরসহ বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতা, স্বাস্থ্য বাস্তবতায় নিয়তিবাদীর একটা প্রভাব আছে। অনেক মানুষ বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেকে করোনাকে বিশ^াস করে না। এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকার যেসকল পদক্ষেপ নিয়েছে তা কার্যকরি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, করোনা ভ্যাকসিন সরকার শুধু ধনীদের বা বিশেষ কোনো শ্রেণির জন্য না। এটা সকল শ্রেণি- পেশার মানুষের জন্য। আর সার্বিক দিক বিবেচনায় এটা বলা যায়, টিকা প্রদান কার্যক্রমে সমাজের নিম্নবিত্ত ও অসহায় মানুষের অংশগ্রহণ সন্তুষ্টিজনক ছিলো।
রাজশাহী সিভিল সার্জন কাইয়ুম তালুকদার জানান, রাজশাহীতে করোনা ভ্যাকসিনের নেয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক আছে। এ কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণও ভালো। তবে জেলার প্রত্যেকটা জায়গায় এক রকম না। কোথাও কোথাও টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে দোদ্যুল্যমনতার মানসিকতাও দেখা যাচ্ছে। রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রথমদিকে কিছু মানুষ এই কার্যক্রমের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটা বুঝতে পারছিলো না। যেটা পরবর্তীতে তাদের কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সহযোগিতা করে। যারা তাদের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে তাদের সহযোগিতা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, রাজশাহীতে এখন যে পরিমাণ করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ আছে তা আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। দ্বিতীয় ডোজ এপ্রিলের ৭ তারিখ থেকে প্রদান করা হবে।