রাজশাহীতে করোনায় ৫০ বছরের উর্ধ্বে মৃত্যু বেশি

আপডেট: মে ১১, ২০২১, ১০:২৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের অধিকাংশ ৫০ বছরের উর্ধ্বে। আর আক্রান্তের হার বেশি ৫০ বছরের নিচে। রামেক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫০ এর কম বয়সী মানুষ বাইরে বেশি থাকছে তাই আক্রান্ত বেশি হচ্ছে। অন্যদিকে মৃতদের বেশির ভাগ পঞ্চাশের উর্ধ্বে। কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫০ বছরের উপরে আক্রান্তদের রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা কম। করোনা তাদের শরীরে খুব দ্রুত আক্রান্ত করতে পারে। তাই ৫০ ও ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ আছে, কিডনী, লিভারের সমস্যা তাদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির ফারাকের কারণে এই তারতম্য হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনায় আক্রান্তের ক্ষেত্রে যুবক ও শিশুর সংখ্যাও কম নয়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রামেক হাসপাতালে ৫০ জনের অধিক শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মারা গেছে ৯ বছরের একটি শিশু। শিশুটির কিডনী ৬০ শতাংশ নষ্ট হওয়ায় করোনা সংক্রামণ দ্রুত সংক্রমণ করে শিশুটি মারা গেছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
রামেক হাসপাতাল সূত্র বলছে, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ১০০ জনের ৬০ জনের বয়স ৬১ থেকে ৯০ বছর। বাকি ৬০ থেকে ৫০ বছর। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের কোভিড-১৯ এর পাশাপাশি অন্য রোগ ছিল। এরমধ্যে বেশি আক্রান্ত ৩০-৪০ বছর বয়সী। এই বয়সী মানুষের বাইরে চলাচল বেশি হওয়ায় সংক্রমণের হারও বেশি বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এখন পর্যন্ত করোনায় কত জন মারা গেছে তার সঠিক তথ্য দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তাই হাসপাতালে করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা কত তা জানা যায়নি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান বাদশা জানান, ৪০ বছরের বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে কারণ তারা বাইরে বেশি থাকছে। আর ৫০ ও ৬০ উর্ধ্ব মানুষ মারা যাচ্ছে তাদের রোগ প্রতিরোধ কম। তারা বিভিন্ন রোগেও আক্রান্ত থাকে তাই এই বয়সের মানুষের শরীরে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পরে। তাই তাদের মারা যাওয়ার সংখ্যা বেশি।
শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. বেলাল হোসেন জানান, করোনায় শিশুরা বেশি বাসায় থাকে। বেশি সময় ধরে বাচ্চরা অসুস্থ্য বেশি থাকে। তাদের শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়ে থাকে তাই তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা কম। বেশিভাগ শিশু বাসায় থেকে আমাদের পরামর্শ নিয়ে তাদের অভিভাবকরা সেবা নেয়।
তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রায় ৫০ জনের বেশি শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সেবা নিয়েছে। আর মারা গেছে একজন শিশু। যে শিশুটি মারা গেছে তার বয়স ৯ বছর। তার কিডনীর সমস্যা ছিলো তাই দ্রুত সংক্রামণ হয়ে মারা গেছে।
রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, হাসপাতালে করোনায় যে সকল রোগী ভর্তি থাকে তাদের মধ্যে ৫০ উপরে যাদের বয়স তারা বেশি মারা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজন মারা গেছে সেই বিষয়ে তিনি তথ্য দিতে পারেনি।
তিনি জানান, এই সপ্তাহে মোট ২০ জনের মত করোনা রোগী মারা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার মোট চারজন মঙ্গলবার রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান বলে জানান হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস। তিনি জানান, হাসপাতালের ২৯ নম্বর ওয়র্ডে এই দুইজন, কেবিনে একজন ও আসিইউতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে করোনা ওয়ার্ডে ৮৭ জন ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ২৯ জন করোনা শনাক্ত বাকি ৫৮ জন করোনা উপসর্গ রয়েছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন মোট ১১ জন।