রাজশাহীতে গণমাধ্যম কর্মিদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে

আপডেট: জুন ১৯, ২০২১, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

তারেক মাহমুদ :


এক সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন রাজশাহীতে কর্মরত ৯ গণমাধ্যমকর্মী। এরপরও অন্য গণমাধ্যমকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এনিয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও তাদের পরিবারের মধ্যে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, দেশের প্রথমসারির বিভিন্ন গণমাধ্যমের রাজশাহীতে কর্মরত এ পর্যন্ত মোট ১৬ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে আটজন সাংবাদিক নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুধু সাংবাদিক নয়, তাদের অনেকের স্ত্রীরাও আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। আক্রান্তরা হলেন, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম ও তার সহধর্মিণী, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মাইনুল হাসান জনি ও তার সহধর্মিণী, সময় টিভির রাজশাহী ব্যুরো চিফ সাইফুর রহমান রকি, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার গোলাম রাব্বানী, এটিএন নিউজের স্টাফ রিপোর্টার বুলবুল হাবিব ও তার সহধর্মিণী, সোনার দেশের ফটো সাংবাদিক আলী এহসান তুহিন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপার্সন মনিরুল ইসলাম, রাজশাহী সংবাদের নিজস্ব প্রতিবেদক মীম ওবায়দুল্লাহ ও আর টিভির ক্যামেররাপার্সন সানু। এর আগে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন, মাছরাঙ্গা টিভির ক্যামেরাপার্সন মাহাফুজুর রহমান রুবেল, মোহনা টিভির রাজশাহী ব্যুরো প্রধান মেহেদী হাসান শ্যামল, এসএ টিভির রাজশাহী ব্যুরো জিয়াউল গণি সেলিম ও ক্যামেরাপার্সন আবু সাইদ, সময় টিভির রাজশাহী প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান রাজিব, বাংলার জনপদের সংবাদকর্মী মোস্তাফিজুর রহমান রকি, সানশাইনের নিজস্ব প্রতিবেদক আসাদুজ্জামান নূর।
রাজশাহীর সিনিয়র সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন ও চলাচল করছেন, তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আর সেখান থেকেই পরিবারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ। যেহেতু সাংবাদিকরা হাসপাতাল ও বাইরে গিয়ে মানুষের মাঝে খুব কাছাকাছি থেকে কাজ করেছেন। সে কারণে তারা দ্রুত সংক্রমিত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করলেও করোনায় সবচেয়ে বেশি সময় সাংবাদিকরা বাইরে কাজ করছে। অন্য পেশাজীবীরা যেমন ডিউটি ভাগ করে কাজ করেন, সাংবাকিদরে ক্ষেত্রে তেমনটি নয়।
সংবাদকর্মিরা জানাচ্ছেন, তাদের সংবাদ সংগ্রহ করতেই হয়। ২৪ ঘণ্টায় মাঠে থেকে কাজ করেন সংবাদকর্মীরা। অন্যদিকে মাঠে কাজ করতে গণমাধ্যাম কর্মীদের বেশির ভাগ হাউজগুলো সুরক্ষা সামগ্রী দিচ্ছে না। এখন সকল হাউজগুলোকে সুরক্ষা সামগ্রী দিয়ে কাজে পাঠানোর বিষয়ে জানাচ্ছেন তারা।
এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে রাজশাহীতে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে কাজ করছেন সংবাদকর্মীরা।
গণমাধ্যম কর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে ও সামনে গিয়ে কাজ করেছে। সংক্রমিত করোনা রোগীদের সার্বিক বিষয়ে দেখতে অনেক সময় করোনা ওয়ার্ডে গিয়েও কাজ করছেন সংবাদকর্মীরা। তাদের সাথে সংক্রামিত হয়েছে পরিবারের সদস্যরাও। অনেকে হাউজের চাপ বেশি থাকায় চাকরি বাঁচানোর জন্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।
প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান খান জানান, সাংবাদিকদের প্রতিকূল অবস্থা মেনে নিয়েই কাজ করতে হবে। এটা মেনেই আমরা সাংবাদিকতায় এসেছি। এখন সংক্রমণ বেশি ! তাই প্রতিটি হাউজকে সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী দিয়ে কাজে পাঠাতে হবে। যারা টিকা পায়নি বা নেয়নি তারা যেন এবার টিকা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ