রাজশাহীতে গোপালভোগে জমেছে আমের হাট

আপডেট: মে ২৫, ২০২৪, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর বানেশ্বর বাজারে উঠেছে গোপালভোগ বা রানিপছন্দ আম। শনিবার (২৫ মে) এই জাতের আম কেনা-বেচা হয়েছে প্রতিমণ ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। একই সাথে কেনা-বেচা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের গুটি জাতের আমও। তবে গত মৌসুমের তুলনায় এবার সব আমের দাম বেশি বলেছেন- ক্রেতা-বিক্রেতারা। আর গুটি জাতের আম প্রকারভেদে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে।

শনিবার (২৫ মে) দুপুরে বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার আম কেনা-বেচা হচ্ছে বানেশ্বর হাটে। হাটে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ভ্যান গাড়ি ও নসিমন-করিমনে করে আম নিয়ে আসছেন। এসব গাড়িতে ৩০ থেকে ৬০টি ক্যারেট (আম রাখার ঝুড়ি) আম থাকছে।

আমচাষি আব্দুল হান্নান বলেন, গাছে পাকা আম দেখা দিয়েছে। রাতে পাকা আম গাছ থেকে ঝরে পড়ছে। তার বাগানে ৩৫টা আমের গাছ রয়েছে। গোপালভোগ জাতের আমপাড়া শুরু হয়েছে। চারটি গাছের আম হয়েছে ৭৩ ক্যারেট। দামের বিষয়ে আব্দুল হান্নান বলেন, গতবছরের তুলনায় এবছর আমে দাম ভালো আছে। শেষ পর্যন্ত এমন দাম থাকলে ভালো টাকা পাবেন বলে আশা করেন তিনি।

বানেশ্বর হাটের আম বিক্রেতা রইসুল ইসলাম বলেন, আজকেই প্রথম হাটে গোপালভোগ বা রানিপছন্দ আম বিক্রি হচ্ছে। এর আগে গুটি জাতের আম বিক্রি হয়েছে। তবে গুটি জাতের আমের চাহিদা কম। যারা কিনেছেন তারা আচার করার জন্য কিনেছেন। তবে এখন গোপালভোগ আম কেনা-বেচা হচ্ছে, সেই আম মানুষ পাকা অবস্থায় খাবে। এখন আস্তে আস্তে সব আম পেকে যাবে।

আড়তে আম বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, হাটে আম বিক্রি হচ্ছে ঠিক। তবে খুচরা ক্রেতা কম। বেশির ভাগ আম আড়ৎদাররা কিনে নিচ্ছেন। তারা একসাথে চাষি ও ব্যবসায়ীদের থেকে বেশি করে আম কিনে ট্রাক ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠায়। তবে সড়কের পাশে খুচরাভাবে আম কেনা-বেচা হচ্ছে। হাটে প্রতিদিন আম কেনা-বেচা হচ্ছে। তারমধ্যে এখন পর্যন্ত হাটের দিন (শনিবার-মঙ্গলবার) বেশি আম কেনা-বেচা হয়।

ম্যাংগো ক্যালন্ডার অনুয়ায়ী এ বছর লক্ষ্মণভোগ বা লখনা ৩০ মে এবং একই তারিখে হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি গাছ থেকে নামানো যাবে। এ ছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা আম, ১৫ জুন আম্রপালি এবং ফজলি, ৫ জুলাই বারি-৪ আম, ১০ জুলাই আশ্বিনা, ১৫ জুলাই গৌড়মতি ও ২০ আগস্ট থেকে ইলামতি আম নামানো যাবে। এ ছাড়া কাটিমন ও বারি-১১ আম সারা বছর সংগ্রহ করা যাবে।

বানেশ্বর আম হাটের ইজারাদার মাসুদ রানা বলেন, রাজশাহীর সবচেয়ে খেতে ভাল এমন আমগুলোর মধ্যে রয়েছে গোপালাভোগ, লক্ষ্মণভোগ, ক্ষীরশাপাতি ও ল্যাংড়া। হাটে গোপালভোগ আম আশা শুরু হয়েছে লক্ষ্মণভোগ, ক্ষীরশাপাতি ও ল্যাংড়া আসতে বাকি। হাটে আমের আমদানি বেড়েছে। এবার তুলনামূলক আমের ফলন কম। তবে ফলন কম হলেও আমের দাম ভাল আছে। গত বছর মৌসুমের শুরুতে গোপালাভোগ আমের দাম ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ। কিন্তু এবছর একই সময় প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়।

প্রসঙ্গত, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় আমের সম্ভাব্য উৎপাদন ২ লাখ ৬০ হাজার ৩১৫ টন। এ বছর আমের আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে। যার গড় ফলন ধরা হয়েছে ১৩ দশমিক ২৮ টন।

নাটোরের বাজারে এলো গোপালভোগ
নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরে শনিবার (২৫ মে) থেকে বাজারে আসছে গোপালভোগ জাতের আম। এ উপলক্ষে শনিবার সকালে নাটোর সদর উপজেলার কামারদিয়ার গ্রামে আম পাড়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল ওয়াদুদ।

এ উপলক্ষে কামারদিয়ার গ্রামের কৃষকদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নাটোর সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সোনিয়া পারভীন, কৃষক শাহ আলম প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক আবু নাছের ভূঁঞা বলেন, বাজারে যাতে অপরিপক্ব এবং ভেজাল মিশ্রিত কোনো ফল বিক্রি করতে না পারে সেই বিষয়ে প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারী করছে। কোনো ব্যবসায়ী বা বাগান মালিক সেই কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল ওয়াদদু বলেন, এ বছর জেলায় ৫ হাজার ৭১৮ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। আশা করছি কৃষকরা ন্যায্য দাম ও ফলন পাবেন।

Exit mobile version