উত্তরবঙ্গে পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২২, ১:০০ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক :


বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ১০ দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় রাজশাহীতে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাজশাহী থেকে কোনো রুটে বাস ছেড়ে যায়নি। বাইরের কোনো বাসও রাজশাহীতে প্রবেশ করেনি। ঢাকাগামী কোচগুলোও সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে।

ধর্মঘটের কারণে বাস বন্ধ থাকায় সকাল থেকে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বাস না চলায় অটোরিকশা বা ছোট বাহনে মানুষ গন্তব্যে যাচ্ছেন। এজন্য তাদের বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে। এছাড়া চাপ বেড়েছে ট্রেনে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহানগরের শিরোইল, ভদ্রা ও রেলগেট বাস টার্মিনালে আসেন যাত্রীরা। কিন্তু বাস না পেয়ে কেউ বিকল্প যানবাহন কেউবা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অনেককে আবার রাজশাহী রেলস্টেশনে ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজশাহীর আন্তঃজেলা রুটের যাত্রীরাও। সিএনজি, হিউম্যান হলার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন বিকল্প যানবাহনে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে যাত্রীরা জরুরি প্রয়োজনে নিজ গন্তব্যে রওয়ানা দিচ্ছেন।

শুক্রবার সরকারি চাকরির পরীক্ষা আছে। তাই বৃহস্পতিবার সকালেই রাজশাহী থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়েছেন আব্দুল মমিন। তিনি বলেন, চারদিন আগেই ট্রেনের টিকিট পাইনি। গত রাত থেকে আবার বাস বন্ধ। এখন বিকল্প উপায়ও দেখছি না।

পরিবার নিয়ে রাস্তায় গাড়ির খোঁজে করছেন নওগাঁ থেকে আসা শিশির আলী। তিনি বলেন, নওগাঁ থেকে রাজশাহী আসতে সময় লেগেছে পাঁচ ঘণ্টা। খরচ হয়েছে ৫০০ টাকা। যেখানে স্বাভাবিক দিন লাগে ২০০ টাকা। এখন ঢাকা যেতে কত টাকা লাগবে বুঝতেছি না।
তিনি বলেন, আমি গরিব মানুষ। চাকরিতে যোগ দিতেই হবে। কাল শুক্রবার আছে। দেখি এখান কতদূর যেতে পারি।

এদিকে, ধর্মঘটের ফলে চাপ বেড়েছে ট্রেনে। তাই বিভিন্ন রুটের ট্রেনের টিকিট এরইমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। টিকিট না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়েই রওয়ানা দিচ্ছেন। এছাড়া রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে যেসব ট্রেন আসছে ও যাচ্ছে তাতে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেন, আমাদের অনেক দিনের দাবি ছিল এটি। আমরা নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। তবে আমাদের কোনো আশ্বাস না দেওয়ায় আমার আজ ( বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে স্বেচ্ছায় কর্মবিরতিতে গেছি।

মানুষের ভোগান্তি ও বিএনপির সমাবেশের বিষয়ে চানতে চাইলে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেন, আমরা তো মানুষ পরিবহনই করছি না। তাই ভোগান্তি আমাদের দিক থেকে নেই। আর বিএনপির সঙ্গে এই পরিবহন ধর্মঘটের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আমাদের দাবি আদায়ের স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো আরও বলেন, আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বুধবারের মধ্যে সড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলবে।

১০ দাবিতে এই ধর্মঘট ডেকেছে পরিবহন মালিক সমিতি। সেগুলো হলো, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধন করতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে মহাসড়ক বা আঞ্চলিক মহাসড়কে থ্রি-হুইলার (নসিমন, করিমন, ভটভটি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ইত্যাদি) চলাচল বন্ধ করতে হবে।

জ্বালানি তেল ও যন্ত্রাংশের অস্বাভাবিক মূল্য হ্রাস করতে হবে। করোনাকালে গাড়ি চলাচল না করায় সব ধরনের ট্যাক্স মওকুফ করতে হবে। সব প্রকার সরকারি পাওনা (ট্যাক্স, টোকেন, ফিটনেস) অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি বন্ধ করতে হবে।

চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত নানাবিধ জটিলতা নিরসন করতে হবে। পরিবহনের যাবতীয় কাগজপত্রাদি বা সঠিক থাকা সত্তে¡ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিআরটিসির বাস চলাচল অতিসত্বর বন্ধ করতে হবে।

ডিপো টু ডিপো চলাচল করতে পারবে। মহাসড়কে হাট-বাজার আয়োজন বা পরিচালনা করা যাবে না। চলমান হাট বাজার অতিসত্বর উচ্ছেদ করতে হবে। যাত্রী ওঠানামার জন্য পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক জেলায় ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ ও ট্রাক ওভারলোড বন্ধ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ