রাজশাহীতে চলছে মোড় ফাঁকাকরণের লকডাউন নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ফার্মেসিগুলোতে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০২১, ৯:০৮ অপরাহ্ণ

মাহাবুল ইসলাম:


রাজশাহীতে লকডাউনের কয়েকদিনের চেয়ে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) মোড়গুলো ফাঁকা রাখতে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে। সড়কগুলোতে সীমিত পরিসরে চলাচলকারী গাড়ি নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনই জরিমানা করছে ভ্রাম্যমান আদালত। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখার অনুমতি থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ও ফার্মেসিগুলোতে উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।
সরকারের ঘোষণাকৃত সাত দিনের কঠোর লকডাউন শেষ হতে না হতেই আরো সাত দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে লকডাউনে নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা বেড়েছে। নগরীর মোড়গুলো অনেকটা ফাঁকা থাকলেও অলিগলিতে মানুষের সমাগম দেখা যাচ্ছে। এছাড়া হাফ শার্টার টেনে ক্রেতার অপেক্ষায় উঁকি মারছেন অনেক দোকানি।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, এদিন সকাল থেকে ছিলো আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর বাড়তি তৎপরতা। মোড়গুলোতে কোনো ধরনের যানবাহন রাখতে দেয়া হচ্ছিলো না। অন্যান্য দিনের চেয়ে পুলিশের বাড়তি উপস্থিতি ছিলো। সক্রিয় ছিলো পুলিশের টহল দল। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিলো। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী গাড়িগুলোকেও জেরার মুখে পড়তে দেখা যায়। নগরীর প্রবেশ পথগুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। তবে বৈশাখের তাপদাহে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা শিথিলতা নেমে আসে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখার কথা বলা হলেও নগরীর মুদি দোকান, কাঁচাবাজারসহ ফার্মেসিগুলোতে উপক্ষিতই থাকছে স্বাস্থ্যবিধি। গরম বাড়তে থাকায় মাস্ক পরতেও অনীহা তৈরি হয়েছে। নিশ্চিত হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বও। অথচ এসব জায়গায় তেমন তদারকি দেখা যাচ্ছে না।
নগরীর আরডিএ মার্কেট ও নিউ মার্কেট বন্ধ থাকলেও বাইরের দোকানগুলোতে অনেককেই সার্টার টেনে বাইরে কাস্টমার জোগাড় করতে দেখা গেছে। দু-একজন ফুটপাতের দোকানিও পসরা সাজিয়েও বসছেন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কোর্ট বাজারের মেইন গেট বন্ধ থাকলেও অর্ধেক শার্টার টেনে অনেক দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে।
নগরীর শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর, শিরোইল বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, নিউমার্কেট, সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের রাস্তাগুলো একেবারেই ফাঁকা ছিল। তবে ভেতরের সরু রাস্তাগুলো দিয়ে সীমিত পরিসরে চলছে চার্জার অটো, অটো রিকশা।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনা মো. আবু কালাম সিদ্দিক জানান, লকডাউন বাস্তবায়নে রাজশাহীতে কড়াকড়ি করা হয়েছে। নগরীতে স্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সকল থানা লকডাউন বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এবং তিনি নিজেও মাঠে কাজ করছেন।
তিনি আরো জানান, সকালের দিকে বাজারগুলোতে কিছুটা ভিড় ছিলো। যা এখন নেই। পুলিশের টহল টিম ঘুরে ঘুরে মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলছেন। জনসমাগম যেন না হয় সেজন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবেই লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের ৪ টি ভ্রাম্যমাণ টিম সমন্বয় করে মাঠে কাজ করছে। কোথাও জনসমাগম বা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে না। কেননা যেখানে জনসমাগম হচ্ছে বা এমন কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর লকডাউনে কোনো শিথিলতা নেই।
এদিকে, মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের (বিধিনিষেধের) সময় আরো সাতদিন বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে লকডাউনের সময়সীমা ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত হলো।