রাজশাহীতে চার জেএমবি ও সাত জামায়াত নেতা গ্রেফতার ।। নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ

আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

দুর্গাপুর ও গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


অভিযানে গ্রেফতার তিন জেএমবি সদস্য-সোনার দেশ

রাজশাহীর দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও গোদাগাড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে চার জেএমবি ও সাত জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চারজন নব্য জেএমবির সদস্য। এসময় তাদের কাছ থেকে জিহাদি বই ও ধরালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানান রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী। অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কাঁকনহাট ব্রাহ্মনগ্রামে মসজিদে বসে সন্ত্রাস ও নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগে সাত জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যরা হলেন- দুর্গাপুর উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের ইসা আলীর ছেলে আসলাম (৩৭), খোদাবক্সের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩০), জোয়াদ আলীর ছেলে নুর মোহাম্মাদ আলী ওরফে বাবু হুজুর (২৮) ও পুঠিয়া উপজেলার ধাদাশ গ্রামের আবদুুল হামিদের ছেলে আবুল কাশেম রোকন (৩৮)।
গ্রেফতারকৃত জামায়াত নেতারা হলেন- উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন ধামিলা গ্রামের আবু জাকেরের ছেলে ও উপজেলার কর্মপরিষদের সদস্য নাজমুল আলম (৫০), পাকড়ী ইউনিয়নের ঝিনা গ্রামের মৃত আবদুল জাব্বারের ছেলে ও ইউনিয়ন আমির (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান) জালাল উদ্দীন, পালপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে ও জামায়াতের শুরা সদস্য কামরুজ্জামান (৪৬), ব্রাহ্মনগ্রামের নবিজ মন্ডলের ছেলে ও জামায়াতের সদস্য নাজিম উদ্দীন, কাঁকন স্টেশনপাড়ার মৃত শামসুদ্দীনের ছেলে ও জামায়াত সদস্য আতিকুর রহমান, লাহিলপাড়া গ্রামের মৃত সায়েদ আলীর ছেলে ও কাঁকনহাট পৌর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম (৫২), কাদিপুর গ্রামের তফিজুলের ছেলে ও জামায়াতের সহযোগী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যরা এলাকায় খুবই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। এদের মধ্যে নুর মোহাম্মাদ আলী ওরফে বাবু হুজুর একজন সাধারণ মুদি দোকানি, মোহাম্মদ আলী পেশায় ভ্যানচালক ও আসলাম চেতনার মোড় জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে, নুর মোহাম্মাদ আলী ওরফে বাবু হুজুরের বড় ভাই সলেমান আলী বলেন, ‘আমার ভাই একজন সাধারণ মুদি দোকানদার। সে দীর্ঘদিন থেকে চেতনার মসজিদের সামনে মুদির দোকানদারি করে আসছেন। সে ওই মসজিদে নামাজ পড়ে। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছোট চার সদস্যের পরিবার তার। তার উর্পাজনের একমাত্র উৎস হলো ওই দোকান। সেখান থেকে সে জীবিকা নির্বাহ করে। কখনো সে দোকান রেখে বাইরে যায় না। এমন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার কোন সর্ম্পক থাকতে পারে না। কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।
জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আলম জানান, জেলা পুলিশের জঙ্গি দমন বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেফতারকৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গতকাল শুক্রবার নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। ওই দিনই বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী বলেন, গ্রেফতারকৃতরা তালিকাভুক্ত নব্য জেএমবির সদস্য। সম্প্রতি তারা জেএমবিতে যোগ দিয়েছিল। পুলিশের নতুন জঙ্গিদের তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। জেলা পুলিশের জঙ্গি দমন টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
অন্যদিকে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, গতকাল সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কাঁকনহাট ব্রাহ্মনগ্রামে মসজিদে বসে সন্ত্রাস ও নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছিল স্থানীয় ২০-২৫ জন জামায়াত নেতা। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে সাত জন জামায়াত নেতা আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ