রাজশাহীতে চার মাসে ৬০ হাজার মানুষের টেলিমেডিসিন সেবা

আপডেট: July 14, 2020, 12:04 am

তারেক মাহমুদ:


রাজশাহীতে করোনা মহামারির এই সময় চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সংক্রমণভীতি। রামেক হাসপাতাল ও বাইরের চিকিৎসকের চেম্বারে ঝুঁকি বেশি এই বিবেচনায় রোগীরাও এসব স্থানে যেতে চাচ্ছেন না। কিন্তু মানুষের চিকিৎসা সেবা দরকার। আর উপযুক্ত পরিবেশ ও যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর কিছু ঘাটতি থাকায় সরাসরি রোগীর সংস্পর্শে না আসাকে উচিত বলে মনে করছেন অনেক চিকিৎসক। তবে তারাও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে চান।

এদিকে করোনাকালে রাজশাহীতে এখন মানুষের প্রধান সহায় হয়ে উঠেছে টেলিমেডিসিন সেবা। রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরাও মনে করছেন, মহামারির সময় চিকিৎসার সেরা বিকল্প টেলিমেডিসিন। করোনা রোগীরা হাসপাতালের চেয়ে বেশি সেবা পাচ্ছেন এই বিকল্প পন্থায়। রামেক হাসপাতালের তথ্য মতে, রাজশাহীতে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরাই এই সেবা দিচ্ছেন। ১৫ জন চিকিৎসক বিভিন্ন সময় ভাগ করে রোগীদের সাথে কথা বলে পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রতিদিন ৪৫০ থেকে ৫০০ জন ফোনে কথা বলে পরামর্শ নিচ্ছেন। গত চার মাসে টেলিমেডিসিনে সেবা পেয়ে মোট ৬০ হাজার রোগী। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সেবা পেয়েছে ৩ শতাধিকের বেশি রোগী। হাসপাতাল সূত্র মতে এই সেবা এখন অন্য চিকিৎসকরাও দিচ্ছে। আর করোনা চিকিৎসার জন্য মানুষ ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার এসব ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। রাজশাহী মেডিকেলসহ বে-সরকারি স্বাস্থ্যসেবাগুলোর অনেক চেম্বারে রোগী কলসেন্টারে, হাসপাতালে, চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে অথবা সরাসরি চিকিৎসকের কাছে ফোন করছেন। আর চিকিৎসক রোগীর সাথে কথা বলে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। কখনো এক্্ররে বা পরীক্ষার সুপারিশ করছেন। রোগী পরীক্ষার ফলাফল ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে বা ই-মেইলেও পাঠাচ্ছে। তবে কোন পরীক্ষা কোথায় করা যাবে, কোন ওষুধ কোথায় পাওয়া যাবে, তারও পরামর্শ থাকে কিছু ব্যবস্থাপত্রে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগের প্রধান ডা সুব্রত ঘোষ জানান, আমাদের বিভাগের কয়েক মাস এই সেবা দেয়া হচ্ছে এ জন্য কয়েকজন চিকিৎসক সার্বিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে। ‘রোগীকে সরাসরি দেখে চিকিৎসা দেয়া এবং প্রযুুক্তি ব্যবহার করে চিকিৎসা দেয়ার মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। মহামারি পরিস্থিতিতে সর্বোত্তম বিকল্প টেলিমেডিসিন সেবা। তাতে রোগী ও চিকিৎসক নিরাপদে থাকতে পারবে।
লিভার বিভাগের প্রধান ডা. হারুণ আর রশীদ জানান, গতকাল (রোববার) পর্যন্ত আমি মোট ২৩ টি টেলিমেডিসিন সেবা দিয়েছি। কয়েক মাস থেকে এই সেবা চলছে। এটা একটা ভালো বিষয়Ñ ছোটখাটো বিষয়ে রোগীরা হাসপাতালে না এসে সেবা পাচ্ছে। আর একটু বেশি খারাপ রোগীদের দেখতে হচ্ছে। তবে ওই খারাপ রোগী একটু সুস্থ হলে তাকেও টেলিমেডিসিন সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এটা করোনার সংক্রমণ রোধে রোগী ও চিকিৎসক নিরাপত্তায় থাকছে।

রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসকদের কাছে সেবা পাওয়া এসএম শামসুজ্জোহা জানান, আমার ভাস্তির বয়স কয়েক মাস। তার কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকদের ফোন দিলে তারা সমস্যা শুনে ওষুধ দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এই শিশু বিভাগে যতবার পরামর্শ নিয়েছি ভালো ফলাফল পেয়েছি। তিনি আরো জানান, তবে অন্য বিভাগে এই সেবা নিতে গিয়ে মাঝে মাঝে ফোন ব্যস্ত ও ফোন দিলে অনেকে ধরে না। এটা সঠিকভাবে দেখা দরকার।

নগরীর কাজিহাটা এলাকার যুবক শরিফ জোহা জানান, আমার বন্ধুর পরামর্শে রামেক হাসপাতালের টেলিমেডিসিনের নম্বরগুলো পেয়ে আমার পরিবারের কারো কোনো সমস্যা হলে সেবা নিয়েছি তাতে ভালো হয়েছে। আমার মতে এই সেবা করোনার সময়ে খুব গুরুত্ব রেখেছে। তবে কিছু চিকিৎসকের নম্বরে ফোন দিলে ধরে না আবার ফোন কেটে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদি নির্দিষ্ট কোনো টাইম করা যায় তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয়।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জাননি, টেলিমেডিসিন সেবা শুধু নির্দিষ্ট চিকিৎসকরাই দিচ্ছেন না। আমরাও এখন এটার মাঝে ডুকে গেছি। নির্দিষ্টের বাইরে এখন বেশিরভাগ চিকিৎসক এই সেবা দিচ্ছেন। সরকারি নির্দেশ মতো করোনার সংক্রমণ রোধে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। এখন পর্যন্ত ভালো ফলাফল পাচ্ছি। তিনি জানান, রাজশাহীতে গত চার মাসে মোট ৬০ হাজার মানুষ টেলিমেডিসিন সেবা পেয়েছে। প্রতিদিন সবার কাছে প্রায় পাঁচশতাধিক কল আসছে।