রাজশাহীতে চিকনগুনিয়া || মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এখনই

আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৭, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

শাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সারা দেশেই কমবেশি এই রোগের কথা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এর প্রকোপ খুব বেশি। এ নিয়ে দেশের সংবাদ মাধ্যমে বিস্তর লেখালেখিও হচ্ছে। দৈনিক সোনার দেশেও এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বুধবার প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী চিকনগুনিয়া দ্রুত দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই রাজশাহীতে চিকনগুনিয়ার প্রকোপ লক্ষ্য করা গেছে। যদিও চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগের জীবাণু সংক্রমণটা রাজশাহী থেকে নয়Ñ ঈদের ছুটিতে যারা রাজশাহী এসেছেন মূলত তারাই ভাইরাস বহন করে এনেছেন। চিকনগুনিয়া জীবাণুবাহী ব্যক্তি কোনো মশা দংশন করার পর কোনো সুস্থ মানুষকে ওই মশা দংশন করলে তারাও চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা আছে। চিকিৎসকদের মতে এ ছাড়া চিকনগুনিয়া রোগির সাথে এক বিছানায় শুলে কিংবা খেলে এ রোগ ছড়াবার কোনো অশঙ্কা নেই।
চিকনগুনিয়া নিয়ে রাজশাহীতেও এক ধরনের আতঙ্ক আছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা থেকে আগত বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে রাজশাহীতেও এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। মশার কামড়ে কোনো মানুষ জ্বর, শরীর ব্যথা অনুভব করলে তিনি চিকনগুনিয়া হয়েছে বলে আতঙ্কিত হচ্ছেন। জ্বর হলেই রোগি মনে করছেন তার চিকনগুনিয়া হয়েছে।
দেশে চিকনগুনিয়াকে নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও আন্তর্জাতিকভাবে এর প্রকোপকে পৃথিবীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মত দেয়া হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত এবং ইউরোপিয়ান রোগ নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের  যৌথ উদ্যোগে প্রচলিত গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকনগুনিয়া রোগটির ভাইরাস  ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই শতাব্দীতেই ভাইরাসটি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। জার্নাল সায়েন্টিফিক রিপোর্টে প্রকাশিত গবেষণাপত্রটিতে জলবায়ু পরিবর্তনকেই চিকনগুনিয়া ভাইরাসসহ মশাবাহিত রোগগুলোর ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত এশিয়ান টাইগার মশা এবং হলদেটে জ্বরবাহী এক প্রজাতির মশা চিকনগুনিয়া ছড়াচ্ছে। সাধারণত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা এই মশাটির উপযুক্ত পরিবেশ।
চিকনগুনিয়ার উপসর্গের মধ্যে রয়েছে অতি মাত্রায় জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যথা ও মাথা ব্যথা। আর এই এডিস মশার আক্রমণ থেকে বাঁচতে বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিস্কার, টবে পানি জমলে তা পরিস্কারসহ পরিবেশ নষ্ট হয় এমন বিষয়ের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
চিকনগুনিয়া নিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোনো ধরনের উদ্যোগ লক্ষনীয় নয়। অন্তত জনসচেতনতার জন্যও কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। উপরোন্তু রাজশাহী মহানগরীতে মশার উপদ্রুব মারাত্মভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মশা নিধনের কোনো কর্মসূচি নেই।
চিকনগুনিয়া নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করি না। বিষয়টি মহামারি আকারে দেখা দিলে তা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন হতে পারে। অতএব এখনই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। যথাশিগগিরই মশক নিধনসহ চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এখনই শুরু করা প্রয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ