রাজশাহীতে জমেনি ফুলের কেনাবেচা, দাম বেড়েছে কয়েকগুণ

আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২০, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

মাহাবুল ইসলাম


রাজশাহীতে মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে বেচাকেনার বিস্তর পরিকল্পনা ছিলো ফুল ব্যবসায়ীদের। অন্যান্য বছরগুলোর চেয়ে ভালো বিক্রির আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু এ পরিকল্পনার দৃশ্যপটই পরিবর্তন করে দিয়েছে করোনা পরিস্থিতি। দীর্ঘসময় ধরে ফুলের কেনাবেচা বন্ধ থাকায় বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয়েছেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা। নগরীতে এখন সামান্য কিছু ফুলের পসরা নিয়ে বসছে হাতেগোনা কয়েকটি দোকান। আগের মতো হাক-ডাক আর গ্রাহকের উপস্থিতি না থাকলেও ফুলের দাম বেড়েছে দ্বিগুন থেকে দশগুন পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে ফুলের ব্যবসা। এতে ফুল ব্যবসায়ীদের সংকটের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। পবিত্র ইদুল আজহার পর থেকে তারা দোকান নিয়ে বসেছেন। এখন সামান্য কিছু বেচাবিক্রি হচ্ছে। তারা মূলত যশোর থেকে ফুল কিনে আনেন। সেখানকার পাইকারি বাজারে ফুলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে তারা অনেক ফুল কিনতেও পারছেন না।
তারা আরো জানান, পাইকারি বাজারে করোনার আগে ১০০ রজনিগন্ধা বিক্রি হতো ৪০০ টাকায়। যেটা এখন ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ১০০ গোলাপ বিক্রি হতো ৪০০ টাকা, যেটা এখন ৭০০ টাকা এবং গাঁদা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা হাজার বিক্রি হতো যেটা এখন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া রাজশাহীতে ফুলের তোড়া দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সাহেববাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যবসায়ী ফুলের পসরা নিয়ে বসে আছেন। নেই সেই ব্যস্ততা। অন্যান্য সময় তাদের কাছে বেশকিছু ফুলের সমাহার থাকলেও এখন গোলাপ, রজনিগন্ধা, জেরবেরা আর গাঁদা ছাড়া অন্য ফুল দেখা যাচ্ছে না।
সাহেববাজার মায়ের দোয়া ফুল ভাণ্ডারের বিক্রেতা শান্ত হাসান জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে একদম বেচাকেনা নেই। প্রতিদিন দোকান খুলে বসে থাকি। যদি কিছু হয়। আগে দিনে দুই থেকে তিন হাজার টাকার বেশি বেচাকেনা হতো। এখন তা আর নেয়। তবে সামনে ১৫ আগস্ট কিছুটা বেচাবিক্রি হবে এমনটা আশা করছি।
রোজ পুষ্প বিতানের মালিক ও সাহেববাজার ফুল মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম জানান, এ বছর মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে তাদের একটা টার্গেট ছিলো। যা করোনা দুর্যোগের কারণে ভেস্তে গেছে। দীর্ঘদিন পর তারা দোকান খুলছেন। কিন্তু বেচাবিক্রি তেমন নেই। তবে চাহিদা বেশি থাকায় পাইকারি বাজারে ফুলের দাম অনেক বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, রাজশাহীতে এ বছর ফুলের আবাদ করা হয়েছে প্রায় ১২ হেক্টর জামিতে। যার অধিকাংশই গোদাগাড়ি উপজেলার। গোদাগাড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, তাদের এখানে ফুলের আবাদটা খুবই কম। এখন কয়েকজনের ফুল মাঠে আছে। আর বাকিদের ফুল এখনো তৈরি হয়নি। করোনার মধ্যে কৃষকরা এবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক জানান, রাজশাহীতে ফুলের আবাদ কম হয়। মূলত যশোর থেকেই ব্যবসায়ীরা ফুল নিয়ে আসেন। তবে লাভজনক হওয়ায় ফুল চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। এ বছর করোনার কারণে ফুলচাষীরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ