রাজশাহীতে জমে উঠছে মৌসুমি ফলের বেচাকেনা

আপডেট: June 1, 2020, 11:15 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক :


নগরীর শিরোইল বাসটার্মিনাল এলাকায় বিক্রি হচ্ছে খিরসাপাত আম-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাজারগুলোতে করে মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। বাজারে মিলছে মধুমাসের ফল আম ও লিচু। সবুজের মাঝে লাল লিচুর পসরা নিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। হাক ডাক আর ক্রেতাদের দরদামে জমে উঠছে বাজার। আমের মধ্যে গোপালভোগ আর কিছু গুটি জাতের আম বাজারে বেচাকেনা চলছে।
সোমবার (১ জুন) নগরীর শিরোইল, কোর্টবাজার ও সাহেববাজার ঘুরে দেখা যায়, আম ব্যবসায়ীরা গত দিনগুলোর চেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে সরাসরি বেচাকেনার চেয়ে প্যাকেটজাত করতে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।
নগরীর কোর্টবাজারে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ আম ব্যবসায়ী কুরিয়ারের মাধ্যমে রাজশাহীর বাইরে আম বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারে এখন রাজশাহীর স্থানীয় গোপালভোগ আম বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে এসে আম কিনবেন এমন ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। এখন অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ারে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তারা আম বিক্রি করছেন।
সরকার ফল ভান্ডারের তানভির আলম সরকার জানান, স্বশরীরে এসে আম কিনছেন এমন ক্রেতার সংখ্যা কম। রাজশাহীর বাজারে এখন গোপালভোগ আম পাওয়া যাচ্ছে। তারা নিজস্ব কুরিয়ার ইউএস বাংলার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় আম পাঠাচ্ছেন। তারা স্বল্প খরচে রাজশাহীর বিভিন্ন জায়গায় হোম ডেলিভারির মাধ্যমেও আম বিক্রি করছেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের চেয়ে বেড়েছে আম ও লিচুর দাম। প্রতিমণ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় গোপালভোগ ও হিমসাগর আম বিক্রি হয়েছে। আর ১০০ লিচু বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।
আমের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ঝড়ে এবার আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী চড়া দামে বাগান কিনেছিলেন। কিন্তু অনুমানের চেয়ে এ বছর ঝড়ে আম বেশি পড়ে গেছে। যার কারণে এবার আমের দাম খুব বেশি কমবে বলে মনো হয় না। আর গত কয়েকদিনের চেয়ে আজকে আমের দাম কিছুটা বেশি।
লিচু ব্যবসায়ী হেলালউদ্দিন জানান, গত কয়েকদিনের চেয়ে আজকে প্রতিশত লিচুতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়লেও রাজশাহীতে লিচুর দাম কম। গতবার ৩ শ টাকাতে যে লেচু বিক্রি করেছি সে লিচু ২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এবার ঝড় আর দাম না থাকায় লিচু ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে।
এদিকে, বাজারে পরিপক্ব কাঁঠাল দেখা না গেলেও মিলছে কাঁচা তাল। অনেকে ডাবের পাশাপাশিও তাল বিক্রি করছেন। মৌসুমি ফল হিসেবে তাল কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহও ছিলো বেশি। একটি তাল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়।
তালের খুচরা বিক্রেতা রফিক হোসেন বলেন, গ্রীষ্মের এ সময় তালের চাহিদা ভালোয় থাকে। আমরা জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে তাল সংগ্রহ করে নিয়ে আসি। যেটা বাজারের বিভিন্ন জায়গায় কেটে কেটে বিক্রি করি। এখন তালের দাম ভালোয় আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ