রাজশাহীতে জেঁকে বসছে শীত

আপডেট: ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :



রাজশাহীতে জেঁকে বসছে শীত। এর সঙ্গে প্রবাহিত ঠান্ডা হিমেল হাওয়া কয়েকদিন ধরেই শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। দিন শুরু হলেও দীর্ঘসময় পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারদিক। এর ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। কাজের সন্ধানে আসা শ্রমজীবী মানুষ নগরীতে কাজ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহীতে এই মৌসুমের তীব্্র শীত পড়ে গত সোমবার। ওইদিন রাজশাহীতে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপরের দিন মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপরের দিন গতকাল বুধবার নগরীতে তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।
নগরীর রেলগেট এলাকায় পবা উপজেলা থেকে কাজ করতে আসা শ্রমিক মোখলেসুর রহমান বলেন, বেলা ১২টার আগে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকায় এর মধ্যে কোনো কাজই পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এইজন্য দুই ধরে কোনো কাজ পাচ্ছি না।
নগরীর আমবাগান এলাকার ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ রইস উদ্দিন বলেন, শীতের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। শীতের তীব্রতার কারণে ঘরের বাহিরে যাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঠান্ডা হিমেল হাওয়া। কয়েকদিন ধরেই শৈত্য প্রবাহ বইছে।
রিকশাচালক ইয়াকুব আলী বলেন, ঠান্ডার কারণে কয়েকদিন ধরে রিকশা নিয়ে বের হতে পারছি না। এর আগে প্রতিদিন সাতটার মধ্যেই রিকশা নিয়ে বের হতাম। ঠান্ডা বাতাসের কারণে এখন রিকশা নিয়ে বের হতে হতে ১২টা বেজে যাচ্ছে।
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান জানান, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।এর মধ্যে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তির সংখ্যা বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বলে জানান এই চিকিৎসক।