রাজশাহীতে ঢাকার সমপর্যায়ের চলচ্চিত্র নির্মিত হতে পারে : হাসান আজিজুল হক

আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০১৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক বলেছেন, ‘আমরা প্রমান করবো যে রাজধানীতে যে মানের কাজকর্ম হতে পারে, যে মানের চলচ্চিত্র হতে পারে, আমাদের রাজশাহীতেও ঠিক সেই একই মানের চলচ্চিত্র হতে পারে। এমনকি কোন কোন জায়গায় রাজশাহী হয়তো রাজধানীকেও ছেড়ে যাবে।
গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় নগরীর পাঠানপাড়াস্থ লালন মঞ্চে ‘মুক্ত চলচ্চিত্র মুক্ত প্রকাশ’ শ্লোগানে রাজশাহী ফিল্ম সোসাইটির আয়োজিত চারদিন ব্যাপি আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রাজশাহী ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা আহসান কবীর লিটনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি ডা. এফ এম এ জাহিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি ড. সাজ্জাদ বকুল। স্বাগত বক্তব্য দেন, রাজশাহী ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জাবীদ অপু। ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য দেন, উৎসব পরিচালক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহারিয়ার চয়ন।
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘রাজশাহীতে এখন যেটা হচ্ছে, এটা নতুন একটা ব্যাপার। আমি অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত যে ঢাকার বাইরেও কিছু হচ্ছে। এছাড়া যা কিছু ঘটে ঢাকায়। রাজধানী আলোকিত, রাজধানী সংগ্রামমুখর, রাজধানী সংস্কৃতিমুখর সবকিছুই রাজধানীকেন্দ্রিক। আর বাকি দেশ কি অন্ধকারে থাকবে?’
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘যে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে এবং রাজধানী শুধু মাত্র জ্বলে সেই দেশ রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘সমস্ত দেহের স্বাস্থ্য যদি মুখে এসে জমে তবে মুখটা লাল টকটকে দেখাতে পারে কিন্ত স্বাস্থ্য ভালো বুঝায় না।’ তো এটাই হচ্ছে আসল কথা যে গোটা দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে রইবে আর শিল্প, সাহিত্য সাংস্কৃতি যা কিছু হবে সব ওই রাজধানীতে। এটা কোন উন্নত দেশের পরিচয় হতে পারে না। উন্নত দেশের পরিচায়ক এটা হতে পারে। ’
একটা উন্নতদেশের উন্নয়ন প্রায়শই সর্বত্রই সমানতালে হওয়া উচিত। উন্নতদেশগুলোতে গিয়ে দেখতে পারবেন ওদের সংস্কৃতি সবই একই কারো সাথে কারো পার্থক্য করা যাবে না। কারণ যা ক্ছিু হয় সবটুকুই সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক।
অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘রাজশাহী এখন বাংলাদেশের চারটি বৃহৎ মহানগরীর মধ্যে একটি। সেই জন্য এর উন্নতি অন্যান্য জায়গার তুলনায় হয়েছে। এতে আমিও খুশি। আমি বলতে পারি যেন সবাই রাজধানীকে স্পর্ধা করতে পারে যে তোমরা যা কিছু করেছ, বা যা কিছু করতে পারো আমরা তা করে পারি শুধু-ই নয়, ক্ষেত্র বিশেষে আমরা তার চেয়ে ভালো কিছু করতে পারি।’
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হকসহ অতিথিরা ফানুস উড়িয়ে চারদিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
প্রসঙ্গত, রাজশাহীর দুটি ভেন্যুতে (বড়কুঠি মুক্তমঞ্চ ও লালন মঞ্চ) মোট ৪০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। প্রতিদিন বিকাল সাড়ে পাঁচটা হতে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত দুটি ভেন্যুতেই একযোগে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ