রাজশাহীতে তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের মোটরগাড়ি || প্রতি দুই ঘণ্টায় একটি করে গাড়ি উৎপাদনে

আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০১৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় নিলয়-ওসমান মোটর ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের মোটরগাড়ি। এই কাজে পুরুষদের পাশাপাশি কর্মসংস্থান হচ্ছে নারীদেরও। ১৫ আসনবিশিষ্ট সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব এ গণপরিহণটি রাজশাহী অঞ্চলের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে। পুরোদমে উৎপাদনে থাকায় কারখানায় এখন প্রতি দুই ঘণ্টায় একটি করে গাড়ি তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিসিক এলাকায় সাত বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত নিলয়-ওসমান ইন্ডাস্ট্রিজ। এই কারখানাটি পরিচালনা করছে নিটল-নিলয় গ্রুপ। ব্যবস্থাপনায় রয়েছে যশোরের নিতা কোম্পানি লিমিটেড। গত বছরের ৮ মার্চ এ কারখানাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। নিলয়-ওসমান মোটর ইন্ডাস্ট্রিজ তৈরি করছে ‘নিতা টেম্পু’। রাজশাহী অঞ্চলের জন্য তৈরিকৃত এই যানবাহনে আসন রয়েছে ১৫টি। আসনগুলো আরামদায়ক। এর ফলে রাজশাহীর গণপরিবহনে যুক্ত হলো আধুনিক যানবাহন। যানবাহনে যুক্ত হলো আধুনিকতার ছোঁয়া। এর সঙ্গে মোটরগাড়ি তৈরিতে সৃষ্টি হলো কর্মসংস্থানের। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করছেন মোটরগাড়ি তৈরিতে।
কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদুন্নবী জুয়েল বলেন, কারখানায় মূলতঃ মোটরগাড়ির বডি ফেব্রিকেশনের কাজ চলছে। গাড়ির মূল বডি আসছে কোম্পানির যশোরের কারখানা থেকে। রাজশাহীর এই কারখানায় উৎপাদিত গাড়ি রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাজারজাত করা হচ্ছে। ডিজেল চালিত এই গাড়ির দাম রাখা হয়েছে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগামিতে সিএনজি জ্বালানি দিয়ে গাড়িটি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কারখানাকে ১১টি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে টেইলারিং, ফেব্রিকেশন এবং ফিনিশিং বিভাগে কাজ কারছেন নারীরা। এদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ এর মধ্যে। ফেব্রিকেশন ও ফিনিশিং বিভাগে পুরুষ কর্মীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন একদল দক্ষ নারী কর্মী।
গতকাল বুধবার কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, কারখানা স্টোরের অর্ধেকটা ভাগ করে তৈরি করা হয়েছে টেইলারিং বিভাগ। এই বিভাগের শুরু থেকেই কাজ করছেন আশরাফুননেসা। আশরাফুন্নেসা বলেন, এই কারখানায় কাজ শুরুর আগে বিভিন্ন বাসায় সেলাইয়ের কাজ করা হতো। এজন্য কারখানায় কাজ করতে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। স্বাচ্ছন্দ্যেই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে।  সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতন। আর খাবার বাবদ ৮০০ টাকা মোট ৭ হাজার ৩০০ টাকায় স্বচ্ছন্দ্যে চলছে তার সংসার।
একই বিভাগে কাজ করছেন ওজিফা খাতুন। তিনি স্থানীয় ইউসেপ স্কুল থেকে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে এই কারখানায় কাজ শুরু করেছেন। তিনিও কাজের পরিবেশ এবং বেতনভাতা নিয়ে সন্তুষ্ট।
টেইলারিং বিভাগের পাশেই রয়েছে ফেব্রিকেশন বিভাগ। ওখানেও কাজ করছেন একদল নারী কর্মী। এই নারী কর্মীদের সবাই ইউসেপ স্কুল থেকে ওয়েলডিং ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তারা জানান, উচ্চ শব্দের মধ্যেই তাদের সবসময় কাজ করতে হয়। স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে এইজন্য তাদের সবসময় কানে এয়ার প্লাগ পরে থাকেন। তাদের মতো অন্যান্য বিভাগের সব কর্মীরা উচ্চ শব্দের হাত থেকে রেহাই পেতে এই এয়ারপ্লাগ পরেন। এছাড়া মাথায় হেলমেটও রাখতে হয়। প্রাথমিক চিকিৎসারও সুব্যবস্থা আছে এই কারখানায়। ছোটখাটো কাটাছেঁড়ায় কারখানার নিজস্ব চিকিৎসকরাই স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন। কারখানার পুরুষ সহকর্মীরাও সহযোগিতা মনোভাবাপন্ন।
মাহমুদুন্নবী জুয়েল বলেন, বর্তমানে কারখানায় ১৭২ জন দক্ষ কর্মী কাজ করছেন। এদের মধ্যে ৩০ জন নারী কর্মী। পুরোদমে উৎপাদনে থাকায় কারখানায় এখন প্রতি দুই ঘণ্টায় একটি করে গাড়ি তৈরি হচ্ছে। দিনে তৈরি হচ্ছে ১৬টি। এ অঞ্চলে একমাত্র তারাই মিগ ওয়ের্ল্ডিং করেই গাড়ি তৈরি করছেন। কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয় বলে জানান তিনি।