রাজশাহীতে দিনের বেলা ঢিলেঢালা, বিকেলের পর কড়াকড়ি লকডাউন নির্দেশনা অমান্য করায় ৭৮ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা ও ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট: এপ্রিল ৭, ২০২১, ৯:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে দিনের বেলা ঢিলেঢালা আর বিকেলের পর কড়াকড়ির মধ্যে দিয়ে চলছে লকডাউন। তবে লকডাউনের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাইরে মানুষ কম দেখা গেলেও তৃতীয় দিনের চিত্রটা ছিলো ভিন্ন। এদিন নগরীর চারটি প্রবেশ পথে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও ছিলোনা তেমন কড়াকড়ি। বাইরে থেকে নগরীতে যানবাহন প্রবেশ করতেও দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজন কিংবা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না করেই ঘুওে বেড়াতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে। গত দুই দিন নগরীর মোড়গুলো প্রায় ফাঁকা থাকলেও আজকে অনেক মোড়ে আড্ডা জমতেও দেখা গেছে।
আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার পরিবহণ বন্ধ থাকলেও সরকারী নির্দেশনাকে অমান্য করে নগরীর কোর্ট মার্কেট ও আরডিএ মার্কেটসহ ফুটপাতের অনেক দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে। অনেকে অর্ধেক শাটার টেনে দোকান খোলা রেখেছেন। তবে অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মার্কেটগুলোতে ক্রেতা সমাগম ছিলো কম।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই বেচাকেনা কম। তার মধ্যে আবার লকডাউন। লকডাউনের কারণে গতবার তেমন কোন ব্যবসায় করতে পারেনি তারা। অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের। এমন ক্ষত শুকাতে না শুকাতে আবারো লকডাউন। সরকারকে লকডাউন দেয়ার আগে এসব বিষয়গুলো ভাবতে হবে। তবে তারা উপায় না দেখেই দোকান খোলা রাখছেন। তবে ক্রেতা নাই। আবার প্রশাসন এসেও বন্ধ করে দিচ্ছে।
গার্মেন্টস ব্যবসায়ী লিটন আলী জানান, লকডাউন দেয়ার অগেই ইদের প্রস্তুতি হিসেবে তারা মালামাল কিনে রেখেছেন। কিন্তু গতবারের মতো আবারও লকডাউন। গতবারের মতো আবারও ব্যবসা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব মাল হয়তো আবারো অবিক্রিত থেকে যাবে। আবারো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
লকডাউনের তৃতীয় দিনে পথচারীদের অধিকাংশকের কাছে মাস্ক থাকলেও তা সঠিক নিয়মে পরতে দেখা যায় নি। কেউ হাতে আবার কেউ নাকের নিচেই রাখছেন মাস্ক। নগরীর কাঁচাবাজার, মুদি দোকানসহ ফার্মেসিগুলোতে ক্রেতাদের সমাগম কম থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে অবহেলা ছিলো। অটোগুলোতে অধিকাংশ যাত্রী মাস্ক ব্যবহার করলেও সামাজিক দূরত্বেও বালাই ছিলো না। গতকাল বুধবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১০ টার পর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
অন্যদিকে, লকডাউনের গত তিন দিনেই বিকেলের পর নগরী জুরে প্রায় নিস্তব্ধ পরিবেশ দেখা গেছে। একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে কম বের হয়েছেন। এছাড়া বিকেলের পর পুলিশের বাড়তি টহলও লক্ষ্য করা গেছে। বিকেলের পর চায়ের দোকানগুলো বন্ধ করতেও তৎপর ছিলো পুলিশ।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরিফুল হক জানান, রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণভাবে লকডাউন চলছে। সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা প্রশাসনের ৪ টি টিম মাঠে কাজ করছে। লকডাউনে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করছেন তাদেরকে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর আরডিএ মার্কেট বা অন্য মার্কেটে যারা দোকান খুলেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে হয়তো কিছু দোকান খোলা থাকতে পারে। তবে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসনের তিনটি ভ্রাম্যমান আদালত স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও ৮ হাজার ১০০ টাকা জরিমানাসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া গোদাগাড়ি ও পুঠিয়া উপজেলায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।