রাজশাহীতে নতুন করে আইসোলেশনে দুই রোগি

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২০, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জ্বর-সর্দি ও কাশি নিয়ে রাজশাহীর সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা চারজন রোগি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। তবে নতুন করে আরও দুইজন আইসোলেশনকে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনার চিকিৎসার জন্য গঠিত কমিটির নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বুধবার (৮এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ ব্রিফিং করেন। তিনি বলেন, আইডি হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা চার রোগির করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রামেকের ল্যাবে তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ। তাদের দুইজন ছুটি নিয়ে চলে গেছেন।
ডা. আজিজুল হক আজাদ বলেন, নতুন করে আরও তিনজন রোগি ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজনকে আইসোলেশন ও একজনকে পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এদের একজনের বাড়ি নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালি এলাকায়। আরেকজনের বাড়ি নওদাপাড়া এলাকায়। এ দুজনের মধ্যে একজন ঢাকার মিরপুরে থাকতেন। ছয় দিনের জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজশাহী এসে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন তিন রোগির করোনার পরীক্ষা করা হবে।
ডা. আজিজুল হক জানান, রামেক হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে মাত্র একজন রোগি ভর্তি আছেন। এক্স-রে রিপোর্ট দেখে তাকে ছুটি দেয়া হবে। রাজশাহীতে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত কোনো রোগি সনাক্ত হননি। তবে করোনা রোগি পাওয়া গেলেও চিকিৎসা যেন নিশ্চিত হয় তার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনা পরিস্থিতিতেও রামেক হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। মঙ্গলবার হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকেই চিকিৎসা নিয়েছেন ৫১০ জন। ভর্তি হয়েছেন ৬৫৬ জন।
রামেকের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের করোনা পরীক্ষাগারে বুধবার পর্যন্ত ৭৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যা বৃহস্পতিবার পরীক্ষা করা হবে। বর্তমানে ল্যাবে বুধবার ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁ থেকে ২৭, বগুড়া থেকে ১৩, রাজশাহী, জয়পুরহাট ও নাটোর থেকে ৯ জন ও সিরাজগঞ্জের ৩ জনের নমুনা আছে।
গত ১ এপ্রিল ল্যাব চালুর পরে এ পর্যন্ত মোট ১৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মাঝে সবগুলোর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
বুধবার সকালে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক জানান, সর্বশেষ গত সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারত ফেরত পাঁচজনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়। রাজশাহী জেলা ও মহানগরে গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১১০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আনা হয়। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৫২ জন। রাজশাহীতে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগের কোনো রোগি পাওয়া যায়নি।
এদিকে পিআইডি তথ্য বিবরণীতে জেলা প্রশাসন প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১১০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কাউকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়নি। ডিএসবির তথ্য মতে ১ মার্চ ২০২০ থেকে বিদেশ প্রত্যাগত ২ হাজার ৯৫৯ জন। এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে মোট ১০৫২ জন বিদেশ প্রত্যাগতকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে কেউ নেই। এ পর্যন্ত জেলায় কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহীতে ১০টি সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের ১১৫টি বেড করোনা চিকিৎসায় প্রস্তুত করা হয়েছে। ১৬ জন ডাক্তার ও ১৩ জন নার্স করোনা চিকিৎসায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন। ২০২০ সেট ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ মজুত রয়েছে। ইতোমধ্যে ১০১৭ সেট পিপিই বিতরণ করা হয়েছে।
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত জেলার ৬৩ হাজার ৩০৭টি পরিবারে ৬৩৩.০৭০ মে. টন খাদ্য সামগ্রী এবং ১১ হাজার ৪৯১টি পরিবারে ১৩ লাখ ৬০ হাজার নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। আরও ৫২৪.৪২০ মে. টন খাদ্য সামগ্রী ও ২৭ লাখ ৫ হাজার নগদ অর্থ মজুত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা যায়।
প্রতিবেদনে জেলার প্রতিটি উপজেলার খাদ্য ও অর্থ সহায়তার পরিমাণ এবং সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ