রাজশাহীতে নদীবন্দর চাই রাসিক মেয়রের দাবি, রাজশাহীর মানুষের দাবি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯, ১:৫১ পূর্বাহ্ণ

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক পদ্মা নদী ড্রেজিং ও শহর রক্ষা বাঁধ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাজশাহীর পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে গেলেন মঙ্গলবার। প্রতিমন্ত্রীর সাথে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ছিলেন। নদী ড্রেজিং, শহর রক্ষা বাঁধ সম্প্রসারণ ও খাল পুনঃখনন নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিমন্ত্রীকে দুইটি ডিও লেটার দেন মেয়র লিটন। ডিও লেটারে তিনি অনেক প্রসঙ্গের মধ্যে নদী খনন করে নাব্যতা বৃদ্ধিসহ একটি নদীবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্বরোপ করেন। মেয়রের যুক্তি হলোÑ নদীবন্দর প্রতিষ্ঠা হলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্বল্প ব্যয়ে নৌ-পথে বিভিন্ন মালামাল পরিবহণ সম্ভব হবে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বেকার সমস্যারও সমাধান হবে। এ অঞ্চলের শিল্পের প্রসার ঘটবে এবং জনসাধারণের আর্থ-সামজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
রাসিক মেয়রের নদীবন্দরের দাবি রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের দাবি। এটা সময়েরও দাবি। ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের সম্ভাবনার সবটুকুই গ্রহণ করতে হবে, কাজে লাগাতে হবে এবং অর্থনৈতক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে হবে।
বিশ্ব ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরনটা পাল্টে গেছে। এক দেশ আরেক দেশের সাথে সমঝোতা-সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। সন্দেহ নেই পদ্মা নদী রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের সে ধরনেরই এক সম্ভাবনা- যা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গত শতাব্দির সত্তর দশকেই পদ্ম নদীতে বড় বড় বার্জে পণ্য পরিবহণ হয়েছে। ওইসময় নদী ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র ছিল। কিন্তু ফারাক্কা বাঁদ দেয়ার পরেই নদী নাব্যতা হারিয়ে ফেলে। ফলে নদী পথের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক টানাপোড়নের কারণে বিষয়টি গুরুত্ব হারাতে থাকে। পদ্মা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি আছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ নির্ধারিত পানির হিস্যা পেয়ে থাকে কিন্তু এই পানির সদ্ব্যহার করা এতোদিন সম্ভব হয় নি- যা সম্ভাবনাগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো। নদী বন্দরের সম্ভাবনাটা কাজে লাগানো মোটেও কঠিন কাজ নয়। এটা এখন রাজনৈতিক সদিচ্ছার ব্যাপার। বর্তমান সরকারের সে সদিচ্ছা আছে। ইতোমধ্যেই তার প্রকাশও ঘটেছে। পদ্মায় গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের প্রস্তাবনা আছে। এই প্রস্তাবনার ব্যাপারে ভারত সরকারের কোনো আপত্তিও নেই। ৮ আগস্ট দেশটির পানিসম্পদ সচিব উপেন্দ্র প্রাসাদ সিং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে ভারতের অনাপত্তির কথা জানান।
গঙ্গা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে পদ্মার ব্যাপক এলাকায় সারা বছর নাব্যতা ধরে রাখা যাবে। সে ক্ষেত্রে রাজশাহীতে নদীবন্দর প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিই শুধু হবে না- মৎস্য সম্পদ সমৃদ্ধ হবে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ নদী পথে যাতায়াত করতে পারবে। এ অঞ্চলের খরাপ্রবণতা কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মাননীয় রাসিক মেয়র নদীবন্দরের যে দাবি উত্থাপন করেছেন তা যৌক্তিক এবং সেটা বাস্তাবায়নযোগ্য-। সরকার নিশ্চয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে- সে প্রত্যাশাই রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ