রাজশাহীতে পণ্যপরিবহণ শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১, ১০:১২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


পণ্যপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ১৫ দফা দাবি আদায়ে সারাদেশের মতো ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছে রাজশাহীর শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে রাজশাহীতে এই কর্মবিরতি চলছে। রাজশাহীতে ভোর থেকে কোনো পণ্যপরিবহণকারী ট্রাক ছেড়ে যায় নি।

বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমুভার পণ্যপরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে এই কর্ম বিরতি পালন হচ্ছে। পণ্যপরিবহণ নেতারা বলছেন, পণ্যপরিবহন মালিক শ্রমিকরা সব সময় অবহেলিত। পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারা মালিক-শ্রমিকরা প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছে। যেখানে পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের সুবিধাবাদী একাংশ ব্যক্তি স্বার্থে কাজ করছে। কিন্তু শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে তারা কাজ করছে না। একারণে পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা তাদের অধিকার রক্ষার ১৫ দফা দাবির বাস্তবায়নে ২১ সেপ্টেম্বর ভোর ৬ টা থেকে কর্মবিরতি পালন করছে। যেটা ২৪ সেপ্টেম্বর ৬ টা পর্যন্ত চলবে।

রাজশাহী জেলা ট্রাক মালিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ভোর থেকেই কর্মবিরতি চলছে। রাজশাহীতে প্রায় ১ হাজারের মতো পণ্যপরিবহনকারী ট্রাক আছে। যেগুলো রাজশাহী ছেড়ে যায় নি। আবার বাইরের গাড়িও আসে নি। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় যারা হয়তো মাঝরুটে আটকে আছে তারা চলাচল করছে।
তিনি আরও জানান, এটা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। কেন্দ্র থেকে যা বলা হবে তারা সেটা বাস্তবায়ন করবেন।

এরআগে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গায় অবস্থিত রাজশাহী ট্রাক মালিক গ্রুপ কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভা করেছিলো তারা।

১৫ দফা দাবি হলো- মোটরযান শ্রমিকদের উপর আরোপিত ‘অগ্রিম আয়কর’ এর উপর বর্ধিত আয়কর অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। যেসব চালক ভারী যানবাহন চালাচ্ছেন তাদের সকলকে সহজশর্তে সরকারি ফি এর বিনিময়ে ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন করতে হবে। পণ্যপরিবহণ খাতের সরকার নিবন্ধিত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর গঠনতন্ত্রসম্মত কল্যাণ তহবিলের চাঁদা সংগ্রহের উপর কোন বিধিনিষেধ আরোপ করা চলবে না।

চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সমীপে পেশ করা প্রস্তাব ও সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সকল শ্রেণির মোটরযানের নিয়োজিত সড়ক পরিবহন শ্রমিকদেরকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মত রেশনিং সুবিধার আওতায় আনতে হবে। চট্টগ্রামে অবস্থিত ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মনোনিত প্রতিনিধি এবং সকল ড্রাইভার ও সহযোগীকে চট্টগ্রাম বন্দরে হয়রানিমুক্ত প্রবেশের সুবিধার্থে বাৎসরিক নবায়নযোগ্য বায়োমেট্রিক স্মার্ট কার্ড প্রদান করতে হবে।

গাড়ির কাগজপত্র চেকিং এর জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করতে হবে। পণ্যবাহী গাড়ি যত্রতত্র দাঁড় করানো যাবে না। পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যসহ সকল প্রকার হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। প্রতি পঞ্চাশ কিলোমিটার পর পর পণ্য পরিবহন শ্রমিকদের জন্য দেশের সড়ক-মহাসড়কের নিরাপদ দূরত্বে ও প্রাইম মুভার ট্রেইলার টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনায় অথবা চোর ডাকাতের হাতে অথবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা অথবা তাদের হেফাজতে মৃত্যু বরণকারী সড়ক পরিবহন শ্রমিক পরিবারকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এককালীন নগদ ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত শ্রমিকের পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা প্রদান করতে হবে। সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত যাবতীয় সরকারি সংস্থা ও ফোরামে বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক- প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যাংকলরি শ্রমিক ফেডারেশন এর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ