রাজশাহীতে বন্ধুর বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০২৩, ১:১২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে অপহরণের ১০ দিন পর বন্ধুর ভাড়া বাসার সেপটিক ট্যাংক থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণ করার পর মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম মাহফুজুর হোসেন ওরফে সজল (৩৮)। রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম মুন্সিপাড়া এলাকায় তার বাড়ি। সজলের বাবার নাম মোহাম্মদ মর্তুজা হোসেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আরিফুল হক চৌধুরী ওরফে রিপন (৪০)। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আবদুলপুর গ্রামের মৃত হামিদুল হকের ছেলে। রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানার সন্তোষপুর মহল্লার এক বাসায় ভাড়া থাকতেন রিপন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক জানান, নিহত সজল ও আসামি রিপন দুই বন্ধু। তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সজলের বাবা মর্তুজা হোসেন বুধবার নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১ অক্টোবর সুজনকে অপহরণ করা হয়েছে। সজলকে ফিরিয়ে দিতে অপহরণকারী প্রথমে ১ কোটি এবং পরে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক আরও জানান, এই জিডির পর নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করা ব্যক্তির অবস্থান রিপনের ভাড়া বাসায়। এরপর রিপনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন রিপন জানান, অপহরণের পরদিন ২ অক্টোবর রিপনকে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে গতকাল বুধবার রাতে কাশিয়াডাঙ্গা ও শাহমখদুম থানা এবং ডিবি পুলিশ রিপনকে নিয়ে তাঁর ভাড়া বাসায় অভিযানে যায়। এ সময় রিপনের দেখানো সেপটিক ট্যাংক থেকে সজলের লাশ উদ্ধার করা হয়।

বিজয় বসাক বলেন, এ ঘটনায় রিপনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন নিহত ব্যক্তির বাবা। সজলের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামি রিপনকে বৃহস্পতিবারই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এর আগেও রিপনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। এসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ