রাজশাহীতে বন্ধ ২০ হাজার পোল্ট্রি খামার ডিম ও মুরগির দাম নির্ধারণসহ খামারিদের ৫ দফা দাবি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২, ১১:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


রাজশাহীতে নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনায় সম্ভাবনাময় পোল্ট্রি শিল্পের ২০ হাজার খামার বন্ধ হয়ে গেছে দাবি করে এই শিল্প রক্ষায় সরকারিভাবে ডিম ও মুরগির দাম নির্ধারণসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছেন খামারিরা। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান রাজশাহী পোল্ট্রি ফার্মার ঐক্য পরিষদ।

৫ দফা দাবি সমূহ হলো- সরকারিভাবে সঠিক উৎপাদন খরচ নির্ধারণের মাধ্যমে ডিম ও মাংসজাত মুরগির মূল্য নির্ধারণ, সরকারিভাবে স্বল্পমূল্যে খামারিদের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন, মেডিসিন ও চিকিৎসা সেবা প্রদান, খামারিদের স্থাপিত বৈদ্যুতিক মিটারগুলোকে কৃষিভিত্তিক মিটারে রূপান্তর, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে স্বল্পসুদে ও সহজ পদ্ধতিতে জামানতবিহীন ঋণ প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের পুনর্বাসনে সরকারি প্রণোদনা।

এরআগে একই দাবিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন, ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মানিকুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন, পরিষদের আহ্বায়ক হামিদুল আলম। তিনি বলেন, করোনাকালে রাজশাহীর খামারিরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে প্রায় ৫০ হাজার খামারের মধ্যে ২০ হাজার খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এরমধ্যে নানা অজুহাতে খাবার ও মেডিসিনের দাম বেড়েছে। মুরগি ও ডিমের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সে তুলানায় দাম বাড়ে নি। সম্প্রতি ডিম ও মুরগির দাম বাড়লে খামারিদের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় না নিয়ে অযৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এতে একটি ডিমে ১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২ টাকা করে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি দপ্তরগুলো মাঠ পর্যায়ে নামমাত্র কার্যক্রম পরিচালনা করে। তারা খামারিদের সঠিক তথ্য, দুঃখ, দুর্দশা কিংবা উন্নয়নে কোনো কাজ করেন না। খামারিদের এই দুদর্শার সময়ে যদি সরকার সঠিক পরিকল্পনা না নেয় তবে অচিরেই এই শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই আমরা চাই সরকার খাবার, মেডিসেনের দাম নির্ধারণ করে দিয়ে ডিমের উৎপাদন খরচের সঙ্গে ৫০-৬০ পয়সা লাভ দিক।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী পোল্ট্রি ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একটি লেয়ার মুরগির ডিম আসতে সময়লাগে ৬ মাস। এসময়ে একটি মুরগির পেছনে খরচ পড়ে ৬৫০-৬৭৫ টাকা। মুরগি তার সময়কালে ৪৮০-৫০০ টি ডিম পাড়ে। বর্তমানে ৫০ কেজি খাবারের দাম ২৮৬০ টাকা। প্রতিটি মুরগি ৬ টাকা ৮৪ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৫৫ পয়সা পর্যন্ত খাবার খায়। এখানে সব মুরগি আবার ডিমও দেয় না। গড়ে একটি লাল ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ে ১০ টাকা এবং সাদা ডিমে ৯ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু আড়তে দাম পাচ্ছেন ৭ টাকা ৬০ পয়সা এবং ৮ টাকা। প্রতিটি ডিমে খামারিদের ১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এমন অবস্থার উত্তরণে পোল্ট্রি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী পোল্ট্রি ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী পোল্ট্রি ফার্মার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইসমাইল, রাজশাহী ভেট এক্সিকিউটিভ সহ-সভাপতি ডা. মো. শফিক ভুঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সানাউল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার মো. আখতার হোসেন জানান, পোল্ট্রির দাম বাড়লে খামারের সংখ্যা বাড়ে। দাম কমলে খামারের সংখ্যাও কমে যায়। যেদিক থেকে হয়তো খামার বন্ধ হওয়ার তাদের দেয়া তথ্য ঠিক। তবে তাদের তথ্য ও সংগঠনগুলোর তথ্য মিলবে না। এটার বিভিন্ন কারণ আছে। আর সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাণিসম্পদ দপ্তর কাজ করছে।