বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

রাজশাহীতে বাড়ছে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নিজেদের ঘর থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে

আপডেট: January 23, 2020, 12:17 am

এক সপ্তাহের মধ্যে রাজশাহীতে চারটি যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। কিন্তু অনেক সময় সাক্ষী ও প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে প্রকৃত আসামিরা পার পেয়ে যান। এতে করে যৌন হয়রানির সংখ্যা আবার বাড়তে থাকে। তাই যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নিজেদের ঘর থেকেই নিজেদের পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ আমাদের নিজেদের ঘরই আসলে ঠিক নাই। তাই আমাদের ঘরকে ঠিক করতে হবে। ছেলেমেয়েদের পারিবারিকভাবে যৌন হয়রানির ব্যাপারে সজাগ করতে হবে। নারীরা আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নারীদের বাদ দিয়ে সমাজ ও পৃথিবীর অস্তিত্ব চিন্তা করা যায় না। তাই নারীদের যৌন হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের প্রত্যেককেই তার নিজ নিজ জায়গা থেকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। সেই সাথে শিক্ষা কিংবা কর্ম প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘কমপ্লেইন কমিটি’ আছে কিনা তা দেখতে হবে। না থাকলে ‘কমপ্লেইন কমিটি’ গঠনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এবং প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটলে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাধারণত কোনো নারী বা কিশোরীকে তার স্বাভাবিক চলাফেরা বা কাজকর্ম করা অবস্থায় অশালীন মন্তব্য করা, ভয় দেখানো, নাম ধরে ডাকা ও চিৎকার করা, বিকৃত নামে ডাকা, কোনো কিছু ছুঁড়ে দেয়া, ব্যক্তিত্বে লাগে এমন মন্তব্য করা, যোগ্যতা নিয়ে টিটকারী করা, তাকে নিয়ে অহেতুক হাস্যরসের উদ্রেক করা, রাস্তায় হাঁটতে বাধা দেয়া, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা, ইঙ্গিতপূর্ণ ইশারা দেয়া, গায়ে সিগারেটের ধোঁয়া ত্যাগ করা, উদ্দেশ্যেমূলকভাবে পিছু নেয়া, অশ্লীলভাবে প্রেম নিবেদন করা, উদ্দেশ্যেমূলকভাবে গান, ছড়া বা কবিতা আবৃত্তি করা, চিঠি লেখা, পথরোধ করে দাঁড়ানো, প্রেমে সাড়া না দিলে হুমকি প্রদান ইত্যাদি কর্মকাণ্ড যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে। দণ্ডবিধি আইন, ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারায় যৌন হয়রানি সম্পর্কে বলা হয়েছে- যদি কোনো কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে সে নারী যাতে শুনতে পায় এমনভাবে কোনো কথা বলে বা শব্দ করে কিংবা সে নারী যাতে দেখতে পায় এমনভাবে কোনো অঙ্গভঙ্গি করে বা কোনো বস্তু প্রদর্শন করে কিংবা অনুরূপ নারীর গোপনীয়তার অনাধিকার লঙ্ঘন করে, তাহলে সে ব্যক্তি এক বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে কিংবা অর্থদণ্ডে কিংবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। প্রয়োজনে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ক্লাসরুমে যৌন হয়রানি সম্পর্কে আলোচনা করা এবং এর নেতিবাচক বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে। যৌন হয়রানি উৎসাহিত হয়-গণমাধ্যমে এমন বক্তব্য, বিজ্ঞাপন, নাটক ইত্যাদি প্রচার না করার পক্ষে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেতন ও কার্যকর করতে হবে। যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটলে সবাই ভিকটিমের পাশে দাঁড়াতে হবে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। যৌন হয়রানির শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ডায়াল করলে পুলিশি সহয়তা পাওয়া যাবে। সেইসাথে আশেপাশের র‌্যাব ব্যাটালিয়নে জানালে তার পদক্ষেপগ্রহণ করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ