রাজশাহীতে বাড়ছে ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ থাকা লোকের সংখ্যা || ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎকদের মত লকডাউনের

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২০, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

তারেক মাহমুদ


রাজশাহীতে করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে বাড়ছে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে হোম কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে। তবে সে তুলনায় আইসোলেশন সেন্টারের প্রস্তুতি কতটা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সেই সথে চিকিৎসা উপকরণ আর প্রশিক্ষিত লোকবলের অভাব তো রয়েছেই। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, প্রয়োজন অনুসারে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা আইসোলেশন সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেবেন। এদের মধ্যে অন্তত ৫ জনকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হলেও আইসোলেশন ইউনিটে নেয়া হয়নি কাউকে। রাজশাহীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালকে করা হয়েছে আইসোলেশন ইউনিট। প্রস্তুত করা হয়েছে ৩০টি শয্যা। কিন্তু এখানে নেই আইসিইউ শয্যা,পরীক্ষাগার কিংবা অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসার উপকরণ। সংকট আছে দক্ষ লোকবলের। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। বাড়তি সর্তকতায় জ্বর সর্দি আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে হাসপাতালের বাইরে। আর প্রয়োজন অনুসারে আইসোলেশন সেন্টারে গিয়েও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরাই চিকিৎসাসেবা দেবেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যবিভাগ বলছে, আপতত হোম কোয়ারেন্টাইনে জোর দেয়া হচ্ছে। করোনা পরীক্ষার কিট ও চিকিৎসকদের সুরক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা দ্রুতই করা হবে। বিভাগের ৮ জেলায় গতকাল রোববার পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে ব্যক্তির মোট সংখ্যা ৩ হাজার ২শ’ জন।
এদিকে এখনো চিহ্নিত হয়নি রাজশাহীতে করোনায় আক্রান্ত কোনো রোগী দাবি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের নিয়ে আতঙ্ক করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ও রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তারা জানাচ্ছেন, বিদেশ থেকে আসা অনেক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়নি ও হোম কোয়ারেন্টিনে নেয়া যায়নি অনেককে। তাই দেরি না করে অল্প সময়ের মাঝেই গোটা রাজশাহীকে লকডাউন না করলে পরিস্থিতি চিকিৎসকদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই দেরি না করে দ্রুত রাজশাহীকে লোক ডাউন করার প্রয়োজন মনে করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
রাজশাহী স্বাস্থ্য পরিচালক গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য জানান, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় যে তালিকা তৈরি করে দিচ্ছে সেটি নিয়েই আমরা হোম কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করছি। দিনে দিনে ‘হোম কোয়ারেন্টইন’ এ থাকা লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিত ভালো রাখতে রাজশাহীকে লডডাউন করলে ভালো হয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামেক হাসপাতালের একাধিক সিনিয়র চিকিৎসক জানিয়েছেন, এই বিষয়টি বন্দুকের গুলির চেয়ে বেশি গতিশীল। একবার শুরু হয়ে গেলে থামানো অনেক কষ্টের হয়ে উঠবে। এখনই সচেতন না হলে পরে সমস্যার শেষ থাকবে না। পরিস্থিত সামাল দিতে রাজশাহীকে লডডাউন করার আহ্বান জানিয়েছেন রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা।