রাজশাহীতে বিকেএসপি স্থাপন শিগগিরই মাননীয় মেয়র ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুরূহ কাজ সম্ভব হয়েছে : ক্রীড়া সচিব

আপডেট: মে ২৫, ২০২২, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এর আওতায় রাজশাহীতে ক্রীড়া স্কুল প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) বিকেলে পবার অভয়ের মোড় এলাকার খিরসিন মৌজায় রাজশাহী বিকেএসপি’র নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন। পরে তিনি ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক প্রদান করেন। এসময় ভূমি অধিগ্রহণ ২৩ জন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

অধিকৃত ভূমি চত্বরে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এঁর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক, বিকেএসপি’র (অর্থ ও প্রশাসন)’র পরিচালক আনোয়ার হোসেন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লসমী চাকমা, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন, পবা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন বলেন, রাজশাহী নগরী এতদিন ছিল গ্রিন-ক্লিন ও শিক্ষা নগরী। বিকেএসপি’র প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পর রাজশাহী শিক্ষানগরীর পাশাপাশি রাজশাহী স্পোর্টস নগরীতেও পরিণত হবে। এখন থেকে রাজশাহীতে খেলোয়াড় তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই প্রতিষ্ঠান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত অনুপ্রেরণায় ও দিকনির্দেশনায় আটটি বিভাগীয় শহরে বিকেএসপির প্রতিষ্ঠান তৈরি হতে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহীতে ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। আর এই দ্রুত সময়ের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজটি সম্পূর্ণ হয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায়।

কাজের অগ্রগতির বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আগামী এক বছর অর্থাৎ জুনের মধ্যে অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ শেষ হবে। তবে পর্যায়ক্রমে দেশের আট বিভাগেই বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে। রাজশাহীর পবা উপজেলার খিরসন মৌজায় ১৭ একর জমির ওপর গড়ে উঠবে এই প্রতিষ্ঠান।

এই প্রতিষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের ছেলে-মেয়েরা অগ্রাধিকার পাবে। একদিন রাজশাহী বিকেএসপি থেকে সাকিব আল হাসানের মতো খেলার তৈরি হবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন ক্রীড়ামোদী মানুষ ছিলেন। তিনি খেলাধূলার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে খেলাধূলার কোনো বিকল্প নেই। একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠন করতে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধূলায় উন্নয়ন করতে হবে। তবেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন সফল হবে।

বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত অনুপ্রেরণায় রাজশাহীতে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শাখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর জমি সংক্রান্ত জটিলতা কেটেছে। আজ রাজশাহীবাসীর জন্য বিশেষ দিন, তারা ক্রীড়া অঙ্গণে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। এছাড়াও ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের চেক সচিব মহোদয় নিজ হাতে হস্তান্তর করছেন। আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই অসমাপ্ত কাজ শতভাগ সম্পূর্ণ হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, খেলোয়াড় তৈরিতে বিকেএসপির নিজস্ব মহিমা আছে। ইতোমধ্যে অনেক তারকা খেলোয়াড় উপহার দিয়েছে বিকেএসপি। কিন্তু জোনভিত্তিক চিন্তা করলে রাজশাহী থেকে ঢাকায় বিকেএসপিতে গিয়ে পরিচিত হওয়াটা কঠিন ব্যাপার ছিল।

এখন রাজশাহীতেই সবগুলো ইভেন্টের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এটা রাজশাহীর মানুষের জন্য বিশাল সুযোগ। বিকেএসপির রাজশাহীর স্কুলে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ক্রিকেট, শুটিং, ফুটবল, অ্যাথলেটিকস, তায়কোয়ান্দো, সাঁতার, কারাতে, বক্সিং, জুডো, উশু, জিমন্যাস্টিকস, বাস্কেটবল, টেনিস, হকি, আর্চারি, ভলিবল, ও টেবিল টেনিসসহ ১৭টি খেলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। দেশি-বিদেশি কোচেরা দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করবেন।

পবার হড়গ্রাম এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ইসরাত জাহান বলেন, রাজশাহীবাসীর বিকেএসপির স্বপ্ন জমির জটিলতার কারণে পিছিয়ে ছিল। আমার তিন কাঠা জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আমি দুই দিন পর অধিগ্রহণের চেক হাতে পেলাম। এখন এটা হচ্ছে, দেখে ভাল লাগছে। কারণ, ক্রীড়াঙ্গণে রাজশাহীর সুনাম আছে। এখানে অনেক ভালো খেলোয়াড় তৈরি হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা এখানে সুযোগ পাবে। বাড়ির পাশে অভিভাবকের সংস্পর্শে তারা খেলা শিখবে। এখান থেকে উঠে গিয়ে জাতীয় পর্যায়ে দেশের জন্য অবদান রাখবে- এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।