রাজশাহীতে বিটিভির কেন্দ্র হবে || বর্তমান সরকারকে স্বাগত জানাই

আপডেট: মার্চ ১৮, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান মহাজোট সরকারের হাত ধরে রাজশাহী মহানগরী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে পরিগণিত হতে যাচ্ছে। সরকার বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে যা বাস্তবায়িত হওয়ার পর রাজশাহী মহানগরীর গুরুত্ব সারা দেশে অনেক বেশি উজ্জ্বল হবে। তথ্য-প্রযুক্তি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হবে।
রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গৌরবময় ঐতিহ্য আছে। সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিক বোধ থেকেই রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ টিভি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। এই কেন্দ্র দাবিতে রাজশাহীর মানুষ আবেগঘন আন্দোলনের সূচনা করেছিল। এই আন্দোলন অভিনবত্বে, গুরুত্ব ও তাৎপর্যে গত শতাব্দীর নব্বুয়ের দশকের গোড়ার দিকে সারা দেশের মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে শুরু হওয়া ওই আন্দোলনে রাজশাহীর সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা এ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। কিন্তু তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বের সরকারের কাছে রাজশাহীর মানুষের আন্দোলন কোনো গুরুত্ব লাভ করেনি। বর্তমান মহাজোট সরকার বিলম্বে হলেও রাজশাহীর মানুষের দাবিকে বাস্তবে রূপ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) রাজশাহীসহ ৫টি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। চলতি মাসের ১৪ মার্চ রাজধানীর শেরে বাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।
বর্তমান সরকার রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছে। শুরু হয়েছে রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু সিলিকন ভ্যালি তৈরির কাজ। নভোথিয়েটার বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে জমি হস্তান্তরের কাজ শেষ হয়েছে। এটির নির্মাণ কাজও দ্রুত শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহী বেতার রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অনুশীলন ও এর বিকাশে প্রভুত ভূমিকা পালন করে চলেছে। দেশের জাতীয় পর্যায়ের অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব যাঁরা রাজশাহী বেতার থেকেই নিজেদের শিল্পী ও সাহিত্য সত্তার সূচনা করেছিলেন। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, রাজশাজীতে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র চালু হলে রাজশাহী অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণসঞ্চার হবে। বরেন্দ্র অঞ্চল ইতিহাস-ঐতিহ্যে ও প্রাকৃতিক বৈচিত্রে ভরা। এসব সম্পদ- তথ্য টিভিকেন্দ্রের মাধ্যমে তা দেশবাসীর কাছে সহজেই পৌছে দেয়া সম্ভব হবে। এতে আঞ্চলিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ঘটবে বিপুলসংখ্যক সংস্কৃতিকর্মী, কলা-কুশিলব ও এ অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠির।
রাজশাহীতে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে ইতোমধ্যেই রাজশাহীর সংস্কৃতিসেবিরা স্বাগত জানিয়েছেন। তারা সরকারকে ধন্যবাদ-কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। আমরাও সরকারের মহতী উদ্যোগগে স্বাগত জানাই, প্রশংসা করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ