রাজশাহীতে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উদযাপিত

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১, ১০:০৩ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


‘ডিজিটাল সাদাছড়ি, নিরাপদে পথ চলি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নগরীতে ‘বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস’ পালিত হয়। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল। এসময় ১৫ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবী শাহীন আকতার রেনী।

রাজশাহী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল নাহার আভা’র সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারীয়া পেরেরা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. আব্দুল্লা আল ফিরোজ, পি.এইচ.টি.সি এর শিক্ষক মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মীর শামীম আলী এবং প্রতিবন্ধিদের মধ্যে থেকে বক্তব্য দেন জাতীয় অন্ধ ও বধীর সংস্থা সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান।

সভায় বক্তারা প্রতিবন্ধিদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধি ও প্রতিবন্ধিদের তৈরি বোতলজাত ‘মুক্তা পানি’ প্রতিটি সরকারি দফতরে ব্যবহার করার জন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেই সাথে রাস্তা ও ফুটপাতগুলো প্রতিবন্ধি বান্ধব করে গড়ে তোলার বিষয়ে অনুরোধ করা হয়। এছাড়াও গণপরিবহনে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করেন তাঁরা। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানান জাতীয় অন্ধ ও বধীর সংস্থা সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হবে । এছাড়াও প্রতিবন্ধিদের তৈরী বোতলজাত ‘মুক্তা পানি’ প্রতিটি সরকারি দফতরে ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, বাংলাদেশ উন্নতির মানদন্ডে এগিয়ে চলেছে। আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। সেই কারণে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা মাথায় রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ প্রতিবন্ধী। তাই টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে বিপুল এই জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রাকে (এসডিজি) সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়ন, অংশগ্রহণ ও সুরক্ষাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য শাহীন আকতার রেনী বলেন, আমাদের সমাজের সবচেয়ে বেশি অবহেলিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা। তাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি-বেসরকারি আর্থিক সেবার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এছাড়াও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের জন্য সুন্দর ভবিষৎ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে পারবে বলে জানান তিনি।