রাজশাহীতে বেড়েছে তেল, মাংস ও সবজির দাম

আপডেট: জুন ১১, ২০২১, ৯:২৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে বেড়েছে তেল, মাংস ও সবজির দাম। বেশ কিছু পণ্যের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কমতে শুরু করলেও আবার বাড়তে শুরু করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ থেকে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৬০ টাকা। তবে এ সপ্তাহে ৫৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে নগরীর বিভিন্ন জায়গায়। গত সপ্তাহে প্যাকেটজাত সয়াবিন প্রতিকেজি ১৪০ টাকা। যা এ সপ্তাহে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও অস্বস্তি রয়েছে সবজির বাজারে। আগের মতোই চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে কিছু সবজি। বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে বেগুন, বরবটি, করলা, কচুর দাম বেশি। পেঁয়াজ গত সপ্তাহে থেকে ৪ থেকে ৫ টাকা কমেছে। এদিকে কঠোর লকডাউন ঘোষণায় নগরীর বাজারগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়।
মুদি দোকানি ইব্রাহিম জানান, প্যাকেটজাত সয়াবিন প্রতিকেজি কোম্পানির দামে কিনছি ১৪৪ টাকায়। আমরা তো লাভ ধরে বিক্রি করবো। প্রতি পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৬৫০ টাকা থেকে বর্তমানে ৬৮০ টাকায়। খোলা ১৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা হামিম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম আবারও বাড়লো। গরুর মাংসের দাম গেলো ইদের মধ্যে থেকেই ৫৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যা আজ ৫৭০ টাকা দাম হয়েছে। সয়াবিন তেলের দাম বেশি ছিলো তা আবারও বাড়লো। আর সবজির দাম তো উঠানামা করছেই। এভাবে চলতে থাকলে আমরা সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়বো।
শুক্রবার (১১ জুন) নগরীর সাহেববাজারে ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেশি ছিলো। এ সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা থেকে কমে ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আদা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, রসুন ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।
প্রতি কেজি আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, ঢেঁড়স ২০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, ঝিঙে ২০ থেকে ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা, বরবটি দাম বেড়ে ৩০ টাকা, সজনে ডাটা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন দাম বেড়ে ৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, কচু ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা। প্রতি পিস লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এ ছাড়াও প্রতি কেজি চিনি ৬৮ টাকা, মসুর ডাল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, সোনামুগ ১৪০ টাকা, ছোলাবুট ৬৫ টাকা, খেসারি ৮০ টাকা, বুটের ডাল ৮০ টাকা, মটর ৯৫ টাকা ও এ্যাংকর ডাল ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল ডিম ৩২ টাকা হালি ও সাদা ডিম ২৮ থেকে ৩০ টাকা।
এদিকে চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি স্বর্ণা ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, এ সপ্তাহে ৪৬ টাকা দরে বিক্রি। নতুন আটাশ ৫০ থেকে ৫৮ টাকা, এ সপ্তাহে আটাশ ৫০ থেকে ৫২ টাকা। নতুন মিনিকেট ৫৬ টাকা, পুরোনো মিনিকেট ৬০ থেকে ৬২ টাকা, বাসমতি ৬৮, এ সপ্তাহে বাসমতি ৬৫ টাকা। নাজিরশাল ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা। পোলাও চাল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, কাটারিভোগ ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে, আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক কেজির ওপরে ওজনের মাছ এক হাজার ২০০ টাকা ও এক কেজির নিচে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে রকমভেদে মৃগেল ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, রুই ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার ৯০ থেকে ১৫০ টাকা, কালবাউস ১৫০ টাকা, তেলপিয়া ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, শোল মাছ ৪০০ টাকা, পুঠিমাছ ১২০ টাকা। ময়া ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। ট্যাংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা। বাটা মাছ ১৪০০ টাকা। ছোট জালমাছ ৪০০ টাকা। নদীর গলদা চিংড়ি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। মাগুর ৪৫০ টাকা ও টাকি মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
ইদের মধ্যে থেকেই প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৬০ টাকা কেজি দরে যা ৫৭০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও খাশির মাংস ৮০০ টাকা ও ছাগলের মাংস ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ১২৫ টাকা, সোনালীর দাম কমে ২০০ টাকা, সাদা লেয়ার ১০ টাকা কমে ১৯০ টাকা, দেশি মুরগি কেজিতে ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতারা বলেন, মুরগির দাম উঠানামা করছে। গত সপ্তাহে দাম কমে আবার আজকে কয়েক টাকা বাড়তি। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ