রাজশাহীতে বেড়েছে পাটের দাম: খুশি কৃষক

আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৯, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বাজারে উঠেছে নতুন পাট, দামে খুশি কৃষকরা-সোনার দেশ

রাজশাহী উপজেলাগুলোর মাঠে মাঠে এখন পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো, শুকানো এবং বিক্রি করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। উপজেলাগুলোর বিভিন্ন বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাট-বাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫শ’ টাকা থেকে ২ হাজার ১শ’ টাকায়। এরমধ্যে চারঘাট উপজেলায় ১ হাজার ২১০ হেক্টর, বাঘায় ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর, দুর্গাপুরে ১ হাজার ৫১০ হেক্টর ও বাগমারায় ১ হাজার ৮শ’ বিশ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
দুর্গাপুর প্রতিনিধি জানায়, উপজেলায় এবার ৫১০ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাটের দাম বাড়তি থাকায় দুর্গাপুরের কৃষক মহাখুশি। দীর্ঘদিন কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে হতাশ হলেও কৃষকের মুখে এবার হাসি ফিরেছে। এখন মণপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ১শ’ টাকারও বেশি দামে পাট বিক্রি হচ্ছে। এ মৌসুমে এটাই পাটের সর্বোচ্চ দাম। বাজারে নতুন পাট বিক্রির শুরুতেই বাড়তি দামের সোনালি স্বপ্ন দেখছেন দুর্গাপুরের পাট চাষিরা।
শুধু তাই নয়, এ বছর দুর্গাপুর উপজেলায় পাটের আবাদও এক লাফে প্রায় ১শ হেক্টর বেড়ে গেছে। শতকরা হিসাবে পাটের আবাদ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। অতীতে পাট আবাদের ক্ষেত্রে এত বড় উৎপাদন আর দেখা যায়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পাটের ফলনও হয়েছে বাম্পার। এতে পাটের উৎপাদনও বেড়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। বাম্পার ফলন আর ভাল দাম পাওয়ায় এবার পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো, শুকানো এবং বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। তবে পাট জাগ দেয়া নিয়ে কিছুটা বিপাকে থাকলেও বড় ধরনের লোকসান হয়নি দুর্গাপুরের পাট চাষিদের।
গত কয়েক বছর পাটের কাক্সিক্ষত দাম না পেলেও এবার দাম পেয়ে কৃষক খুশি। কৃষক পর্যায়ে প্রতিমণ পাট গতবার মৌসুমের শুরুতে বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকায়। কিন্তু এবার শুরু থেকে কৃষক পাটের দাম পাচ্ছে ১ হাজার ৮শ’ থেকে ২ হাজার ১ শ টাকা।
দুর্গাপুর উপজেলাসহ আশেপাশের হাট-বাজারগুলোতে আশানুরূপ পাট উঠছে। কৃষকরা পাটের দাম ভালো পাওয়ায় খুশিতে পাট বেচাকেনা করছেন।
এদিকে, পাট বাজারে কৃষককে পাটের ন্যায্যমূল্য দিতে ও পাট ক্রয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি কমাতে চলতি মৌসুম থেকে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পাট কিনবে বলে জানিয়েছে বিজেএমসি। শুধু তাই নয়, কৃষককে পাট বিক্রির অর্থও পরিশোধ করা হবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। সেজন্য পাটচাষিদের জন্য একটি ডাটাবেজও তৈরি করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে পাট ক্রয় করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, উপজেলায় চলতি পাট মৌসুমে ১ হাজার হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে। এবছর অতিরিক্ত ৫১০ হেক্টর জমিতে বেশি পাট আবাদ হয়েছে। ফলে এ বছর পাটের আবাদে উৎপাদনও বেশি বলে আশা করা হচ্ছে। গতবছর এ উপজেলায় ১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছিল।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান বলছেন, বর্তমান সরকার দেশে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘উচ্চ ফলনশীল (উফশী) পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং উন্নত পাট পচন’ শীর্ষক গ্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের পাট উৎপাদনকারী ৪৪ জেলার ২শ’ উপজেলাকে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উপজেলায় প্রকল্পের আওতায় প্রতিবছর পাট উৎপাদনের জন্য ৩শ এবং পাটবীজ উৎপাদনের জন্য ২০ জন মোট এ উপজেলায় সাড়ে ৩শ জন চাষিকে বিনামূল্যে ভিত্তি ও প্রত্যায়িত পাটবীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, হ্যান্ড স্প্রেসহ প্রতিবছর ৫০ জন চাষিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতিতে পাটের একরপ্রতি ফলন ছিল ১৮ থেকে ২০ মণ। বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি এবং উচ্চ ফলনশীল পাটবীজ ব্যবহার করায় পাটের একরপ্রতি ফলন ২০ থেকে ২৫ মণে উন্নীত হয়েছে।
এছাড়াও গত ৫ বছরে পাটজাতীয় ফসল অর্থাৎ কেনাফ, মেস্তার ৫ জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যান্ত্রিক রিবনার আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন সরকার বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকতা ও পাট কর্মকর্তা সরকারি সহযোগিতা নিয়ে উপজেলায় পাট চাষ থেকে কৃষকের পাশে রয়েছেন। এমন কী পাট বাজারে উঠা শুরু থেকে উপজেলা প্রশাসন পাট বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। এতে কৃষকরা পাটের দাম নিয়ে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে আর প্রতারিত হচ্ছে না এবং দাম ভালো পাচ্ছে।
এদিকে বাঘা প্রতিনিধি জানায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এবার উপজেলায় ২৭০ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। গতবার চাষ হয়েছিল ৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে। এবার পাট চাষে মোটামুটি অনুকূল আবহাওয়া ছিল। কিন্তু শুরুর দিকে কোনো কোনো স্থানে বেশি বৃষ্টিপাতে কিছু রোপন করা পাট নষ্ট হয়েছিল। বর্তমানে পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছুড়ানো এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে।
গতকাল শুক্রবার উপজেলার দিঘা হাটে পাট বিক্রি করতে আসা দিঘা গ্রামের মকুল হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে লাঙ্গল, বীজ, সেচ, কাটা, পরিষ্কার করা, সারসহ যাবতীয় খরচ হয় সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এবার উৎপাদন হচ্ছে ১০ থেকে ১২ মণ।
বাউসা আমরপুর গ্রামের পাটচাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, জমিতে পানি থাকায় পাটগাছ কাটা শ্রমিকদের অনেক বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। গতবার পাট চাষ করে লোকসান গুণতে হয়েছে। এবার লোকসান না হলেও, লাভ হবে না বলে তিনি জানান। বর্তমান বাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট এক হাজার ৫শ থেকে এক হাজার ৮শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাটের ফড়িয়া ব্যবসায়ী দিঘা গ্রামের ইদ্রিস আলী বলেন, এই এলাকার চাষিরা খুব একটা যত্ন নিয়ে পাট ধোয়ার কাজ করে না। এতে করে অন্য জেলার পাটের মানের চেয়ে আমাদের পাটের মান ও রঙ ভালো হয় না।
বাউসা হেদাতিপাড়া গ্রামের মকসেদ আলী বলেন, শুক্রবার দিঘা হাটে ভ্যানে করে ৬ মণ পাট বিক্রি করতে গিয়েছিলাম। ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। তবে এরমধ্যে ভ্যান খরচ ও খাজনা খরচ দিতে হয়েছে। তবে পাটের চাহিদা আছে। বিক্রি করতে কোনো ঝামেলা পড়তে হয়নি।
পাট ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, নওগাঁয় প্রতিমণ পাটের দাম ১ হাজার ৫শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এই এলাকার পাটের মান ভালো না হওয়ার কারণে দাম তুলনামূলক কম পায় চাষিরা।
পাট সংরক্ষণকারী দিঘা গ্রামের ব্যবসায়ী আজিজুল হোসেন বলেন, পাট কিনতে শুরু করেছি। পাটের চাহিদা আছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এবার অন্য এলাকার পাট কম চাষ হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে স্থানীয়ভাবে পাটকল। এছাড়াও বিভিন্ন মোকামে পাটের টান রয়েছে।
আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কামরুল হাসান জুয়েল বলেন, সরকারিভাবে খাদ্য বিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান পাটের ব্যাগ ব্যবহার করে না। যদি সার কারখানা, চিনিকল, সিমেন্ট কারখানা, চাল ও আটাসহ বেশিরভাগ কারখানার পণ্য সরবরাহ করা হলে পাটের দাম বাড়ত বলে মনে করেন তিনি। আবার বিভিন্ন পণ্যের মোড়কের জন্য দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে যেত না। বেঁচে যেত দেশীয় পাট শিল্প।
শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, ১০০ পাটের আঁশ ছাড়ালে ২৫০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন ৩৫০-৪৫০টি পাটের আঁশ ছাড়ানো যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, পাটের জমিতে কিছু পানি থাকলে আঁশের কোনো ক্ষতি হয় না। তবে অপরিপক্ক পাট কাটলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। বর্তমান বাজারে ওঠা পাটগুলো হয়তো পরিপক্ক হওয়ার আগে কাটা হয়েছে ফলে ফলন কিছুটা কম হচ্ছে। এ উপজেলা ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ফলন হয়েছে ২ দশমিক ৬৫ মেট্রিকটন। উপজেলায় মোট উৎপাদন হয়েছে ৯ হাজার ৬৫৮ মেট্রিকটন।
এদিকে চারঘাট প্রতিনিধি জানায়, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, এবার চারঘাট উপজেলায় পাটের চাষ করা হয়েছে ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। বর্ষণের কারণে কিছু পাট কাটা বন্ধ রয়েছে। উপজেলার ইউসুফপুর টাঙ্গন এলাকার মারজিদুল সরকার জানান, আমি এবার পদ্মার চরে প্রায় দুই বিঘা জমিতে পাটের চাষাবাদ করি। পানি আসার আগেই পাটগুলো কেটে বাড়ির পাশে জাগ দিয়েছিলাম। আর অল্প কিছু পাট পদ্মার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় ডুবে গেছে।
তিনি বলেন, আগের তুলনায় এবার পাটের দাম ভালো, মণ প্রতি ১ হাজার ৫শ থেকে ১ হাজার ৬শ টাকা দরে বিক্রি করেছি।
খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামের মকবুল হোসেন বলেন, আমি আড়াই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। কিন্ত পাটের আঁশ ছাড়ানোর শ্রমিকের যেমন সংকট তেমনি মজুরিও বেশি। তবে আগের চেয়ে এবার দাম ভালো থাকায় আমরা খুশি । এবার পাটের বাজারে মণ প্রতি দাম ১ হাজার ৫শ থেকে ১ হাজার ৭শ টাকা দরে বিক্রি করেছি।
পুঠিয়া প্রতিনিধি জানায়, উপজেলায় পাট চাষিরা পাটের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছে না। চাষিদের মতে প্রতি মণ পাট ২৫ শ থেকে ২৮ শ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হলে তাদের লাভ থাকতো।
এবারে পাট মৌসুমের প্রথম দিকে ১ হাজার ৫শ থেকে ১ হাজার ৬শ টাকায় প্রতি মণ বিক্রি করতে পারলেও চাষিদের হিসেবে সেটা যথেষ্ট মূল্য নয়। এজন্য অনেক চাষি পাট বাড়িতে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। কোরবানি ঈদের আগে যারা পাট বিক্রি করেছিলেন ১ হাজার ৬শ টাকায় তারা এখন বিক্রি করছেন ১ হাজার ৭শ পঞ্চাশ থেকে ১ হাজার ৮শ টাকায়। সরকার বেঁধে দেয়া মূল্যের চাইতে তা অনেক কম। এ বিষয়ে হাটিতে গিয়ে জানা গেছে, এ গ্রামের শতকরা ৯০ জন মানুষ পাট চাষের সঙ্গে জড়িত। তাদের জমিগুলো পাটচাষের উপযোগী হওয়ায় ১০ কাঠা হলেও তারা পাট চাষ করে।
গ্রামের পাট চাষি আমির আলী জানান, তিনি দু’বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এর মধ্যে আট কাঠা জমির পাটের ওজন হয়েছে ৫ মণ এবং তা ঈদের আগে ১ হাজার ৬ শ টাকা মণ হিসেবে বানেশ্বর হাটে বিক্রি করেছেন। অন্য জমির পাট ওজন করা হয়নি। দাম বাড়বে এ আশায় ঘরে রেখে দিয়েছেন। কারণ এ দামে পাট বিক্রি করলে লাভ হবে না।
তিনি বলেন, পাটের বীজ (প্রতি কাঠা হিসেবে) ১ শ গ্রামের মূল্য ১৫ টাকা। দুইবার নিড়ানিতে প্রায় ১ শ্রমিক। সার ইউরিয়া, ডিএসপি, টিএসপি, পটাশ, দস্তা যার মূল্য ১ শ পঞ্চাশ টাকা। পাট কাটা এবং জাগ দেয়া শ্রমিক ১ জন। পাট ধোয়া ১জন। এছাড়াও জমিতে চাষ দেয়ার খরচ আছে।
শ্রমিকের দাম ৪ শ টাকা দিন, শ্রমিকের ২ বেলা খাওয়া রয়েছে। নিজের শ্রম তো আছেই। এভাবে দেখলে প্রায় কাঠা প্রতি ৯ শ টাকার মত খরচ। আর ১ কাঠার পাট বিক্রি হচ্ছে ৯ শ টাকায়।
বাগমারা প্রতিনিধি জানায়, উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগমারায় চলতি মৌসূমে ১ হাজার ৮শ বিশ হেক্টর জমিতে পাটের চাষাবাদ করা হয়েছে। পাটে তেমন কোনো পোকা-মাকড়ের উপদ্রব দেখা না দেয়ায় এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টির পানি হবার কারণে পাটের উৎপাদন ভাল হয়েছে। কৃষকরা জানান, এখন পর্যন্ত পাটের বাজার দর ভাল।
হামিরকুৎসা ইউনিয়নের আলোকনগর গ্রামের নামোপাড়ার আলমগীর হোসেন জানান, তিনি এবার আড়াই বিঘা জমিতে তিনি পাটের চাষ করেছিলেন। পাটের উৎপাদন ভাল হয়েছে এবং বাজার দরেও সন্তুষ্ট বলেও তিনি জানান। একই এলাকার আয়ুব আলী তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। পাটের বাজার দর ভাল থাকায় লাভভান হচ্ছেন বলে আয়ুব আলী জানান। এছাড়াও একই এলাকার আবদুল মান্নান, সরদারপাড়ার নাসির উদ্দিন পাটের আবাদ করে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে উপজেলায় সবচেয়ে বড় পাটের হাট হলো তাহেরপুর হাট। এই হাটে বাগমারা, মোহনপুর. পুঁঠিয়া, দুর্গাপুর, নাটোর ও নওগাঁর বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকরা পাট বেচতে আসেন। মৌসুমের প্রতি শুক্রবার ও সোমবার হাটের দিন উপজেলার দূরের গ্রাম ও নওগাঁর আত্রাই. রানীনগরসহ দূরের কৃষকরা পাট বোঝাই ট্রলি বা ভ্যান নিয়ে আসেন। তারা অনেক সময় হাট বারের আগের রাতেই পাট এনে আড়তে রাখেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উপজেলায় পাটের উৎপাদন ভাল হয়েছে। বর্তমান বাজার দর ভাল থাকায় কৃষকরা অধিক লাভবান হতে পারবে।