রাজশাহীতে বৈষম্যের ক্ষত নিয়েই বাড়ছে শিশুশ্রম শিশুশ্রম নিরোসনে কার্যক্রম ব্যবস্থা নিতে হবে

আপডেট: মে ৫, ২০২১, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। এই ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় করোনার ভয়াল ছোবলে সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীতেও শিশুশ্রমিক বাড়ছে। এ সর্ম্পকিত একটি প্রতিবেদন গতকাল মঙ্গলবার (৪ মে) ‘রাজশাহীতে বৈষম্যের ক্ষত নিয়েই বাড়ছে শিশুশ্রম’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। যেখানে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার তথ্য ও প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাজশাহীর কর্মজীবীদের ১০ থেকে ১৫ শতাংশই শিশু। যা গত বছরে সারা বাংলাদেশের জরিপে ছিলো ১২ শতাংশ। নতুন করে অনেক শিশু বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে। করোনায় স্কুল বন্ধ থাকার অজুহাতে অনেক শিশুকে কাজে দিচ্ছেন অভিভাবকরা।
শিশু শ্রম নিয়ে কাজ করা সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর বলছে, রাজশাহীতে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮ টি সেক্টরে ১৪ বছরের নিচে শিশুশ্রমিক রয়েছে মাত্র ১৯০ জন। যদিও বাস্তবে এর সংখ্যা অনেক বেশি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু নগরীর মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ এই সেক্টরগুলোতে ১৪ বছরের নিচে এক হাজারের বেশি শিশু শ্রমিক রয়েছে। আর এসব ঝুঁকিপূর্ণ সেক্টরগুলো শিশু বান্ধব না হওয়ায় প্রতিনিয়তই হেনস্তার শিকার হচ্ছে। বুলিং, মানসিক নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতনসহ যৌন হয়রানির শিকারও হচ্ছে শিশুরা।
রাজশাহীতে তেমন শিল্প-কারখানা না থাকায় কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে। এরমধ্যে যোগ হয়েছে করোনার সংকট। এতে অভিভাবকদের অনেকেই কর্ম হারিয়েছে। আয় কমেছে আরো অনেক অভিভাবকের। এতে জীবিকার তাগিদে অনেকটা বাধ্য হয়েই শিশুদের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে বেতন বৈষম্যও আরো প্রকট আকার ধারণ করছে।
শিশুশ্রম নিরসনে সরকার ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি সেক্টরের বাইরে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত শিশুদের কোনো জরিপ না হওয়ায় রাজশাহীতে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা কত তার সঠিক হিসেব নেই কারো কাছে। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরে‌্যা সারা দেশের শিশুশ্রমের রির্পোট প্রকাশ করে। কিন্তু রাজশাহীর পেক্ষিতে আলাদা কোন তথ্য না প্রকাশ করাই নির্দিষ্ট সংখ্যক শিশুশ্রমিকের হিসেবটা পাওয়া যায় না। আগামীতে এসকল তথ্য বিশ্লেষণ করে শিশুশ্রম নিরোসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দায়িত্বশীলদের আগ্রহী হতে হবে।
রাজশাহীর প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি এলাকাগুলোতে শিশুশ্রমের চিত্র আরো নাজুক। নারী ও শিশুরা যেমন বাল্য বিয়ের শিকার হয়ে একপর্যায়ে বাধ্য হচ্ছেন কাজে যেতে। অপরদিকে দ্ররিদ্রতার অষ্টেপৃষ্ঠে থাকা পরিবারগুলোর ছেলে শিশুরা বাধ্য হচ্ছেন তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কাজ করতে। এসব পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আদিবাসী এলাকাগুলোতে শিশু শ্রমের অন্যতম একটি কারণ বাল্য বিবাহ। সুতরাং বাল্য বিয়ে নিরোসনে সরকারি-বেসরকারি তৎপরতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ