রাজশাহীতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে : সিটি মেয়র

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১, ১০:২৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, আমি নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করা হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বিসিক শিল্পনগরী-২ এর কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হলে এখানে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। চামড়া শিল্প পার্কের জমিও দেখা হয়েছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্যও অনুমোদন পাওয়া গেছে। রাজশাহীতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আরো কাজ করতে হবে। রাজশাহীতে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করে তার ১০ শতাংশেরও কম এখানে বিনিয়োগ করে। বাকিটা ঢাকা-চট্রোগ্রামে বিনিয়োগ হয়। এক্ষেত্রে রাজশাহীতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উদ্যেক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে এবং সোচ্চার থাকতে হবে।
কর অঞ্চল রাজশাহীর উদ্যোগে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও রাজশাহী জেলার ২০১৯-২০২০ কর বছরের সেরা ১৪ জন করদাতাকে সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে কর ভবনের কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেরা করদাতাদের হাতে সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আরো বলেন, দেশে করতাদাদের সংখ্যা কম। করতাদাতের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় অনেকে কর দিতে উৎসাহিত হবে। সামর্থবান ব্যক্তিদের কর প্রদানের আহ্বান জানচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। দেশের প্রতিটি সূচকে গর্ব করার মতো উন্নয়ন হচ্ছে। এমনকি করোনাকালেও দেশের উন্নয়ন থেমে নেই। করোনা মোকাবেলায় বিশে^র উন্নত দেশগুলো যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখনো বাংলাদেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছি। ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেছে, যার বিভিন্ন কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আরো তিনটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
মেয়র বলেন, রাজশাহী শিক্ষানগরী হিসেবে সারাদেশে পরিচিত। রাজশাহীতে আরো বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। আগামীতে কৃষি বিশ^বিদ্যালয় ও গালর্স ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। শুধু শিক্ষার উপর একমুখী নির্ভরতা বাড়াতে চাই না। রাজশাহীতে শিল্পায়নের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। পদ্মানদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে এনে রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক নৌবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চলছে। নৌবন্দর প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে ভারত থেকে মালামাল আমদানি-রপ্তানি করা সম্ভব হবে, রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। অর্থনীতিতে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। সবার সহযোগিতায় রাজশাহীকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
কর অঞ্চল রাজশাহীর কর কমিশনার মুহাম্মদ মফিজ উল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান ও কর আইনজীবী সমিতি রাজশাহীর সভাপতি মো. ফজলে করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন, অতি. কর কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সেরা করতাদারা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট পেয়েছেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী আব্দুল আওয়াল, সৈয়দ জাকির হোসেন ও আজিজুল আল বেন্টু। দীর্ঘ সময় কর প্রদানকারী হিসেবে মিজ্ আলেফা খাতুন ও আব্দুস সালাম সরকার। ৪০ বছর বয়সের নিচে তরুণ পুরুষ সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী হিসেবে তৌরিদ আল মাসুদ রনি, সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী মহিলা করদাতা নূরজাহান বেগম, রাজশাহী জেলার সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী হিসেবে কাজী মাহমুদুল হাসান মামুন, এসএম বজলুর রহমান ও মো. আব্দুস সোবহান। দীর্ঘ সময় কর প্রদানকারী করদাতা মো. আশরাফুল হক ও ওছমান আলী। ৪০ বছর বয়সের নিচে তরুণ পুরুষ সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী বেলাল উদ্দীন ও সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নারী করদাতা ইসরাত জাহান।