রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

তসিকুল ইসলাম রাজা


একজন মনীষী যথার্থই বলেছেন ‘কোন দেশ বা জাতি যদি ধ্বংস করতে হয়। তাহলে সেই জাতির ভাষা ও সংস্কৃতির উপর প্রথমেই আঘাত হানতে হয়।’ সেই প্রেক্ষিতেই বলতে হয় ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট বৃটিশ রাজ্যের বিদায় ঘণ্টা বাজে এবং পকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়। অন্যদিকে ১৫ আগস্ট ভারত রাষ্ট্র্র জন্ম লাভ করে। বৃটিশ রাজ্য ভারতবর্ষে ছলে, বলে ও কৌশলে প্রায় দুশো বছর রাজত্ব করেছে এবং অকথ্য অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছে। সেজন্য ভারতবর্ষ থেকে তাদের চিরদিনের বিদায়ের নিমিত্তে রাজনৈতিক দল কংগ্রেস (১৮৮৫) মুসলিম লীগ (১৯০৬) সহ বামপন্থী দলের নেতা ও কর্মিবাহিনী দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্দোলন ও সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছেন এবং এর ফলে বৃটিশ রাজ ভারতবর্ষ হতে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বিজাতিতত্বের মাকাল ফল পাকিস্তান নামক শিশু রাজ্যের জাতির পিতা কায়দে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে আমাদের র্পূবাংলা অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন এবং ১৯৪৮ সালের ১১ মার্ট কার্জন হলে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন- ‘Urdu and Urdu only shall be the state language of Pakistan’. খুব দাম্ভিকভাবে একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্র সমাজের কতিপয় ব্যক্তিত্ব তাঁর মুখের সামনে No’ No No’ বলে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। জিন্নাহ সাহেব তখন ভাবতেই পারেন নি যে তাঁর মুখের সামনেই এভাবে প্রতিবাদ কেউ করতে পারেন? তারপর সেই দিনই বিকেলে রোসকোর্স ময়দানেও তিনি একই কথা আবারো উচ্চারণ করেন। তাঁর ইংরেজি ভাষায় বক্তৃতার অনুবাদ হলো- ’উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। এর প্রতিবাদে ঢাকাসহ সমগ্র দেশের জেলা শহর, মহকুমা শহরসহ সবখানেই এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানের সমগ্র জনগণের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ বাঙালি এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। বাঙালির প্রাণের ভাষা। এই ভাষার অপমান বা অসম্মান কোনোভা্েবই মেনে নিতে পারেন না কোনো বাঙালি।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পূর্বে ও পরবর্তী পর্যায়ে বিদগ্ধ পণ্ডিত সমাজে নবগঠিত পাকিস্তানে ভাষার প্রশ্নে বাঙালির আপসহীন মনোভাব পরিলক্ষিত হয়। ১৯৪৮ সালেই পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। এবং আমরা উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার দাবি করেছি। সে দাবি কোনোক্রমেই গৃহীত হয়নি। এর ফলে ঢাকাসহ সারাদেশে এবং বিশেষ করে রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। এর মূলে রয়েছে রাজশাহী কলেজের সংগ্রামী ছাত্রসমাজ। জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে বৃটিশ বাংলায় কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের পরই রাজশাহী কলেজের ভূমিকা ছিল। এই কলেজকে ঘিরেই ভাষা আন্দোলনসহ সব প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন সফল ও সুন্দরভাবে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে যাঁরা অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদেরকে আমরা আজ কৃতজ্ঞচিত্তে ধন্যবাদ জানাই। এবং তাঁদের কথা বারবার স্মরণ করছি।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে সামনের সারিতে ছিলেন বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বামপন্থী নেতা ও প্রগতিশীল চিন্তার ধারক ও বাহক প্রফেসর মহম্মদ একরামুল হক, হোমিও ডাক্তার আবদুল লতিফ, ডা, মেছবাহুল হক বাচ্চু, মোহাম্মদ সুলতান, প্রফেসর ড. আবুল কাশেম চৌধুরী, কৃষক নেতা কশিমুদ্দীন আহমদ সহ আরো অনেক সংগ্রামী ছাত্র বন্ধুগণ। তাঁদের অনেকেই জেল-জুলুম অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেছেন। গোপনে কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম নেতা অ্যাডভোকেট এম. আতাউর রহমান ১৯৪৮-১৯৫২ ও ১৯৫৩ সালের ভাষা আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তাঁর ত্যাগী ও সংগ্রামী জীবন এখন আমাদের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তাঁর অবদান বা কর্মের স্বীকৃতি অদ্যাবধি কোথাও হয় নি। তবে দেশ স্বাধীনের পর আমাদের হাজারও বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর তাঁকে রাজশাহী জেলার ‘গর্ভনর’ হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন।

১৯৪৯ -১৯৫০ ও ১৯৫১ সাল তিন বছর ধরে পূর্ববঙ্গের সংগ্রামী ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু জিন্নাহ সাহেব ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণের পর প্রথমে লিয়াকত আলী খান ও ঢাকার নবাব খান নাজিমুদ্দিন পাকিস্তানের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। কিন্তু তাঁরা কথা দিয়েও বাংলাভাষার প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করেন নি। এর ফলে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গীয় সংসদে সদস্যদের বাজেট অধিবেশনে স্মারকলিপি প্রদানের নিমিত্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্রসমাজ মুসলিম লীগ সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন এবং খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে রাজপথে নামেন। তখন পুলিশের গুলিতে শহিদ হন রাফিক, শফিক, বরকত, সালাম, জব্বারসহ আরো কয়েকজন। এর প্রতিবাদে ঢাকা সহ সারা দেশের মানুষ রাজপথে নামেন।
প্রতিবাদ থেকে প্রতিরোধ চূড়ান্ত পর্যায়ে শুরু হয়। নিজের মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে এভাবে রক্তদান পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
বারুদে একটি ম্যাচের জ্বলন্ত কাটি ফেলে দিলে যে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়, তেমিনভাবে সেই সংগ্রামী ছাত্রদের রক্তদানের মধ্যে দিয়ে রাজশাহীতে অর্থাৎ রাজশাহী কলেজের সংগ্রামী ছাত্ররা প্রতিবাদ মিছিল-মিটিং শুরু করেন। সেই রাতের মধ্যেই তাঁরা দেশের সর্ব প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ করেন। রাজশাহী কলেজের কাছেই গেটের ছাত্রাবাসের সামনে ‘শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ” শিরোনামে ইট ও বালিসহ কাদামাটি দিয়ে একটি ‘শহীদ মিনার’ নির্মাণ করেন। যা বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে সর্ব প্রথম ‘শহিদ মিনার’ হিসেবে রাজশাহী কলেজের ভাষা সংগ্রামী ছাত্রগণ দাবি করেন। উল্লেখ্য, উক্ত শহিদ মিনারের ছবিটি বিশিষ্ট রাজনীতিক, ভাষা সংগ্রামী ও সমাজহিতৈষী অ্যাডভোকেট মহসীন প্রামানিকের সৌজন্য পাওয়া যায় এবং আমার সম্পাদনায় ১৯৯০ সালে প্রকাশিত ‘রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন’ গ্রন্থে সর্বপ্রথম ছাপা হয়। এই ছবিটি খুব যত্নসহকারে সংরক্ষণ করেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই ছবিটি সংরক্ষণ করতে তাঁকে খুবই কষ্ট করতে হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই তিনি দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। সেই সংকটকালে টাকা পয়সা, সোনা, দানা কোথায় আছে তা দেখার সুযোগ পাননি। তবে, এই ছবিটি তিনি তাঁর হাতব্যাগে নিতে ভুলেন নি। এই অত্যন্ত দুর্লভ ও মহামূল্যবান ছবিটি সংরক্ষণের জন্য তিনি শুধু রাজশাহী নয় সমগ্র দেশবাসীর সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছেন। তাঁর কাছে আমাদের অশেষ ঋণ। সেই ঋণ শোধ হবে না কোনো দিন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী কলেজের ভাষা সংগ্রামী যাঁরা নেতৃত্বে ছিলেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখ্য ব্যক্তিত্ব হলেন, অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, ডা. এস এইচ ্এ গাফফার, হাবিবর রহমান, ব্যাংকার সাইদ উদ্দীন আহমদ, সাংবাদিক রাজনীতিক স্বনাম খ্যাত নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন আহমদ, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমদ উল্লাহ চৌধুরী, উস্তাদ আব্দুল মালেক খান, বিচাপরপতি মোহাম্মদ আনসার আলী, লুৎফর রহমান মল্লিক ডলার, অ্যাডভোকেট মো. আব্বাস আলী. ডাক্তার আজিজুল বারী চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আমির হোসেন স্পেন, জামাল উদ্দীন আহমদ, প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল হোসেন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জিয়ারত উল্লাহ, আবদুস সাত্তার মাস্টার, অ্যাডভোকেট মো. সমসের উদ্দীন, স্কুল ছাত্র মহিউদ্দীন আহমদ, মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জী, অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক, শিক্ষক নেতা আবুল হোসেন প্রমুখ।

রাজশাহীর ভাষা আন্দোলনে নারীদের মধ্যে নেতৃত্ব দানের ক্ষেত্রে জননেতা এম. আতাউর রহমানের স্ত্রী বেগম মনোয়ারা রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবী রওশন আরা খুকু, হাসিনা বেগম ডলি, প্রফেসর ড. বেগম জাহানা আরা, ডা. মোহসেনা বেগম, প্রফেসর আখতার বানু, হাফিজা বেগম টুকু, প্রমুখ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।

রাজশাহীর ভাষা আন্দোলনে প্রধান রাজনীতিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজ হিতৈষী জননেতা মাদার বখশ, ক্যাপ্টেন শামসুল হক, শহিদ বীরন্দ্রেনাথ সরকার, মিয়া মজিবুর রহমান, মো. হাবিবুর রহমান, মো. নূরুল ইসলাম (লাল মিয়া) প্রমূখ। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহণ এবং রাজশাহীর ঐতিহাসিক ভুবনমোহন পার্কে তাঁরা তীব্র ভাষায় বক্তৃতা করেন। এর ফলে, মুসলিম লীগ নেতা বখশ সাহেব তখন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মুসলিম লীগ নেতা নূরুল আমিনের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠে বলেন, ‘খুনী নূরুল আমিন সরকারের আইন পরিষদের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে লজ্জায় আমার মাথা কাটা যাচ্ছে। …যদি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় দেয়া না হয়, তবে আমি আইন পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবো।’ তিনি যে দল করেছেন সেই দলের বড় নেতার বিরুদ্ধে এমনিভাবে বক্তৃতা করার সৎসাহস ক’জন রাজনৈতিক নেতা রয়েছে। (ভুবনমোহন পার্ক, ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ বিকেল ৫টা) এজন্য তাঁকে সে রাতেই জেলখানায় নেয়া হয়। সে সঙ্গে রাজশাহী জেলার কিছু সংখ্যক ছাত্রকেও জেলখানায় নেয়া হয় ।

সেই সময় রাজশাহী কলেজের সংগ্রামী ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট মহসীন প্রামানিকের উচ্চারণে একটি স্লোগান খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। সেটি হলো: ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। বাংলা ভাষার রাষ্ট্র চাই।’ বাংলা ভাষার রাষ্ট্র আমরা পেয়েছি বটে, তবে এখনো সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন হয়নি। এটি অত্যন্ত কষ্ট ও বেদনার বিষয় । সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চিঠিপত্র ও সাইনবোর্ডে সঠিক ও নির্ভুল বাংলা লেখা হচ্ছে না।
প্রমিত বাংলা বানান ও উচ্চারণে আমরা কেন যে উদাসীন বুঝি না। ভাষা শহিদ বন্ধুদের রক্তের ঋণ কি আমরা শোধ করতে পারবো না?
পরিশেষে বলবো, তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকার আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলাভাষার বিরুদ্ধে নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকেছে। পাকিস্তানের সমারিক জান্তাসহ শাসক ও শোষক শ্রেণি বাঙালিদের পায়ের তলায় সর্বদাই দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টা করেছে। তারপর ১৯৫৪ সালে হক- ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে তাদের অর্থাৎ মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয়েছে এবং বলা যায়, তাদের চিরদিনের জন্য কবর রচিত হয়েছে। একথা সর্বজনবিদিত যে, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির রক্তস্নাত পথ বেয়েই ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, সত্তর সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালির বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ প্রেক্ষিতেই বলা দরকার আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ছয়দফা ১৯৬৬ সালে উপস্থাপনের ফলে বাঙালি তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পায়। সেই ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবসটি বঙ্গবন্ধু কন্যা বিশ্বনন্দিত সরকার প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে অত্যন্ত সাড়ম্বরে সারা বিশ্বে উদযাপিত হচ্ছে। এ আনন্দ ও গৌরব প্রতিটি বাঙালির ।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় ভাষণ দান করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বাংলা ভাষার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার নিমিত্তে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন। বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘে স্থায়ী রূপদানের ক্ষেত্রে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আমরা আশাবাদী, মন নিয়ে এবং সেই দিকে সুদৃষ্টি নিয়ে চেয়ে আছি।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক