রাজশাহীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য হবে কারিগরি স্কুল : বাদশা

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২০, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বক্তব্য রাখেন সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা সোনার দেশ

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। কিন্তু অনেক মুক্তিযোদ্ধা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের সন্তানরা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না। তাই তাদের সন্তানদের জন্য রাজশাহীতে কারিগরি স্কুল গড়ে তোলা হবে। এখানে পড়াশোনা করে তাদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা হবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নতুন কারিগরি স্কুলের গুরুত্ব তুলে ধরে বাদশা বলেন, সরকারি আমলারা কোটি টাকার গাড়িতে চড়বে আর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মৌলিক চাহিদা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে এটা হতে পারে না। আমি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে কথা বলবো। যেন রাজশাহীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য কারিগরি স্কুল গড়ে তোলা হয়। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদের মূল্য যেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছেও থাকে। যেন তারা দক্ষ হয়ে বিদেশে গিয়েও দেশের ঊন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তারা যেন ভালভাবে জীবনযাপন করতে পারে তার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অবদান রাখছে। এটি যেন বহুমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবদান রাখতে পারে তার জন্য আমার পক্ষ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা করা দরকার আমি করব।
তিনি বলেন, এই বছরটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি মুজিববর্ষ। সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা জানতে হবে। অনকেই বলে ৭ই মার্চের ভাষণ, ৬ দফা দাবিই ছিলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। আসলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হলো- আমাদের ৭২ এর সংবিধান। তাই সংবিধান অনুযায়ী আমাদের দেশকে পরিচালিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মেনে চলতে হবে। তাহলে একটি সুন্দর রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সব সময় আছেন জানিয়ে বাদশা বলেন, আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। কিছুদিন আগে তারা সোলার প্যানেল দেয়ার জন্য বলেছিলেন। আমি সোলার প্যানেলের ব্যবস্থা করেছি। আপনারা তালিকা করুন, আমি আবারো ৩০০ সোলার প্যানেল দেয়ার ব্যবস্থা করব। মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনমানের উন্নয়ন না হলে স্বাধীনতার মূল্য থাকে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- মুক্তিযোদ্ধা সংসদের রাজশাহী মহানগর ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান। সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির লিমিটেডের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রজব আলী, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমণ্ডলির সদস্য এন্তাজুল হক বাবু প্রমুখ।
নগরীতে মসজিদ-মাদরাসা ভবন নির্মাণের উদ্বোধন : এদিকে নগরীর একটি মাদরাসা ও একটি মসজিদের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। গতকাল শনিবার দুপুরে তিনি এ দুটি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন।
সকালে প্রথমে তিনি রাজশাহী দারুস সালাম কামিল মাদরাসার ছয়তলা ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। তেমনি মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থারও কোন বিকল্প নেই। এ দুটি বিষয় মাথায় রেখেই আমাদের সামনে এগোতে হবে।
তিনি বলেন, বিশে^র যে দেশগুলোই উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে তারা প্রত্যেকেই শিক্ষার ক্ষেত্রে উন্নত ছিলো। আমাদেরকেও উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষাখাতকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি এই মাদরাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। এবার যেন শিক্ষার মান উন্নত হয় সেই দিকটি আপনারা নিশ্চিত করবেন।
এ সময় রাজশাহী দারুস সালাম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এইচএম শহীদুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ জাকীর হোসাইন, প্রভাষক ইশাহক আলী, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সারোয়ার কামাল, সহ-সভাপতি সিরাজি শওকত সালেহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দুপুরে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা নগরীর সাইরগাছা জামে মসজিদের নতুন ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় নির্মাণ কাজ যেন দ্রুত শেষ হয় তার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এ সময় তার সঙ্গে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ ও ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রজব আলী, মসজিদের ইমাম বজলুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ