রাজশাহীতে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু, উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দীর্ঘ জনস্রোত

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০২০, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাজশাহীতে ক্ষণগণনার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ-সোনার দেশ

নগরীর স্থানে স্থানে জটলা। রয়েছেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের দল। কেউ কেউ র‌্যালি নিয়ে এগুচ্ছেন। হাতে বাংলাদেশের ছোট্ট পতাকা। নগরভবন চত্বরসহ গ্রেটার রোড মসজিদ থেকে শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর পর্যন্ত দীর্ঘ জনস্রোত। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ নানা বয়সের নারী-পুরুষের ভিড়। যে কেউ দেখলেই ভাববে নগরজুড়ে রাস্তায় এতো মানুষের ভিড় কেন? অথচ গতকাল ছিলো শুক্রবার। ছুটির দিন। ছুটিন দিনে এতো মানুষের ভিড়! অন্য শুক্রবারে তো রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা থাকে। অথচ অজস্র মানুষের কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন, কেউ স্লোগান দিচ্ছেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধন উপলক্ষে নগরভবন চত্বরসহ তার সামনের সড়কে দীর্ঘ এ জনস্রোত। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কখন আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পরে বিকেলে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে অবস্থিত জাতীয় প্যারেড স্কয়ার থেকে সারাদেশে একযোগে ৮৭টি স্থানের ক্ষণগণনার শুভ উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে ২টি স্থানে ক্ষণগণনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
রাজশাহীতে ক্ষণগণনা কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে নগ ভবন ও সাহেববাজার বড়মসজিদ চত্বরে ২টি ক্ষণগণনা যন্ত্র স্থাপন এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারের আয়োজন করেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বিকেলে নগরভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন সিটি মেয়র লিটন। নগরভবনে ৭টি বড় পর্দায় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
শুক্রবার দুপুর ২টার পর থেকে নগরভবনে জড়ো হতে থাকেন রাজশাহীর সকল সরকারি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দসহ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ। সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড কাউন্সিলের নেতৃত্বে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে র‌্যালি নিয়ে আয়োজনস্থানে যোগ দেন তারা। হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে নগরভবন চত্বরে। নগরভবন চত্বর শহিদ কামারুজ্জামান চত্বর থেকে দড়িখরবনা মোড়, গ্রিনপ্লাজাসহ আশপাশের সব এলাকায় জনসাধারণে কাণায় কাণায় পূর্ণ হয়ে উঠে। শিক্ষার্থীরা ও সর্বসাধারণ আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন। অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের প্রায় তিন হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে অবস্থিত জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠান সরাসরি দেখে আমরা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির সেই মুহূর্তে যেন চলে গেলাম। যার রেশ এখনো রয়ে গেছে। আবেগঘন দিনটি স্মরণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও কেঁদেছেন। আমাদের এই আবেগ থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করতে হবে।
মেয়র আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে দেশকে গড়তে শুরু করেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে তার সোনার বাংলা গড়ার কাজ শেষ করতে দেননি। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করছেন। আজ থেকে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হলো। বছরব্যাপি রাজশাহীতেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে মুজিববর্ষ উদযাপন করা হবে।
এসময় মেয়র অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রফেসর সাইদুর রহমান খান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি একেএম হাফিজ আক্তার, জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক, জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ, রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহাকারী হাইকমিশনার সঞ্জিব কুমার ভাটি, রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আব্দুল হামিদ, রাজশাহী রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জিএম মিহির কান্তি গুহ, র‌্যাব-৫ অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান, বিজিবি রাজশাহীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক শ্যামকিশোর রায়, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. মো. আব্দুল মান্নান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সার্বিক মো. জাকির হোসেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) এএনএম মঈনুল ইসলাম, আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সুজায়েত ইসলাম ও সালমা বেগম পিপিএম, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোকবুল হোসেন, রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর হবিবুর রহমান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী, নিউ ডিগ্রি গভ. কলেজের অধ্যক্ষ জার্জিস কাদির, পোস্টাল একাডেমির অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলামসহ সকল সরকারি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন রাসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ। অনুষ্ঠানে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা শাহান আকতার জাহান, মাননীয় মেয়ররে একান্ত সচিব মো. আলমগীর কবির, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রে সমরকুমার পালসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে জমায়েত
অন্যদিকে একই বিশাল জমায়েত নিয়ে সাহেববাজার বড়মসজিদ চত্বরে শুরু হয় ক্ষণগণনা কার্যক্রম। এখানেও ২টি বড় পর্দায় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মীর ইকবাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, মাহফুজুল আলাম লোটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, রেজাউল ইসলাম বাবুল, নাইমুল হুদা রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আসলাম সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মহানগর, থানা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিশিষ্ট নাগরিক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার জনসাধারণ অংশ নেন। ক্ষণগণনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর নগর ভবনের গ্রিনপ্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উদযাপনের ক্ষণগণনা উপলক্ষে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় গতকাল শুক্রবার রাজশাহী সিটি করপোরেশন আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের ক্ষণগণনা কার্যক্রম উদ্বোধনকে তরান্বিত করতে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি স্টেশন রোডে অবস্থিত বিবিএ ভবন থেকে যাত্রা শুরু করে সিটি করপোরেশনের মূল ফটকে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ক্ষণগণনা কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সকলে নেয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এম সাইদুর রহমান খান। শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহন করেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম ওসমান গনি তালুকদার, রেজিস্ট্রার ড. মহিউদ্দীন, ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. শেখ মতিউর রহমান, ফার্মেসী বিভাগের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. একরামুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. হাবিবুল্লাহসহ বিভিন্ন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ