রাজশাহীতে মেডিকেল বর্জ্যব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল করতে হবে

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০২১, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী মহানগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উদাসীনতা দেখাচ্ছে হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো নানা অজুহাতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে না। ফলে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো অনেক সময় খোলা পরিবেশে রাখা হচ্ছে মেডিকেল বর্জ্য। অনেকেই সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মেডিকেল বর্জ্য মিশিয়েও ফেলছেন। এতে সাধারণ বর্জ্যরে সঙ্গে মেডিকেল বর্জ্য গিয়ে পড়ছে ভাগাড়ে। আবার সাধারণ বর্জ্যরে সঙ্গে মেডিকেল বর্জ্য রাস্তার পাশেও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। মেডিকেল বর্জ্যের বেশিরভাগই সংক্রামক। এগুলোর মাধ্যমে রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মেডিকেল বর্জ্যরে পুনঃব্যবহার বা ধ্বংস না করা হলে তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করতে পারে।

নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আনতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সকল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিকেল বর্জ্য পরিবেশসম্মত ও সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা এবং পরিশোধনে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) ‘মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ এর কার্যক্রম শুরু হয়। রাসিক ও প্রিজম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই কার্যক্রমের বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রিজম ফাউন্ডেশন মেডিকেল বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করতে কাজ করছে।

বাংলাদেশে বায়ুদূষণের বড় কারণ সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব। বায়ু দূষণের ফলে শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ রোগ, যেমন- হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নাক দিয়ে পানি পড়া থেকে শুরু করে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, হার্ট অ্যাটাক ও ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বায়ু দূষণ ছাড়াও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা মাটির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস করছে। যা ভূমিক্ষয়সহ মাটির গুণগত পরিবর্তন ঘটায় ও এর বন্ধনকে দুর্বল করে। ভূমিক্ষয় ও ভূমি অপসারণ দুটি প্রক্রিয়াই মাটিকে ক্রমশ অনুর্বর করে তোলে। এতে প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্যও বিনষ্ট হয়।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাবিষয়ক ট্রেনিং বা তদারকিতে নজর দেয়া হয় না। অথচ সঠিক ব্যবস্থাপনা না হলে বর্জ্য থেকে পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা অনেক। এখন পর্যন্ত চিকিৎসকসহ অন্য চিকিৎসাকর্মীদের যে বিপুল অংশ কোভিড-১৯-এ সংক্রমিত হয়েছেন, তাঁদের একটি অংশ হাসপাতালে দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে বলেও অনেকে ধারণা করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা এবং জাতিসংঘের পরিবেশ প্রোগ্রাম (ইউএনইপি, ১৯৯৯) মেডিকেল ওয়েস্ট বা হেলথ কেয়ার ওয়েস্টের জন্য একটি গাইডেন্স ম্যানুয়াল তৈরি করেছে। এ ছাড়া হেলথ কেয়ার ফ্যাসিলিটিগুলোর হাইজিন ম্যানেজমেন্টের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি ম্যানুয়েল রয়েছে (ওয়াশফিট, ২০১৭)। দুটি ম্যানুয়েলেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে অকুপেশনাল ও পাবলিক হেলথ রিস্ককে। অর্থাৎ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং এই বর্জ্য বাইরে ফেলার ফলে যাঁরা এর সংস্পর্শে আসবেন, সেসব মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

রাজশাহী মহানগরীকে দেশের মধ্যে সবুজ ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সেই নগরীতে মেডিকেল বর্জ্যব্যবস্থাপনা নিয়ে উদাসীনতা মোটেও কাম্য নয়। বরং যারা এটি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াই বাঞ্ছনীয়। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি আত্মহত্যার সামিল হবে। মেডিকেল বর্জ্য রাজশাহীবাসীর গলার কাটায় পরিণত হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ করা শ্রেয় হবে। মেডিকেল বর্জ্যব্যবস্থাপনায় অনীহা রাজশাহীবাসীর জন্য সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ