রাজশাহীতে মোটরসাইকেল চুরির মূল হোতা গ্রেফতার || আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে

আপডেট: জুলাই ১৫, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী নগরীর চারটি থানায় চলতি বছরে মোটরসাইকেল চুরির ১৫টি মামলা হয়েছে। কিন্তু একটি মামলার নেই কোন অগ্রগতি। তবে গত মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর নওদাপাড়া আম চত্বর এলাকা থেকে সেলিম রেজা ওরফে বাবু (২৮) নামের একজন মোটরসাইকেল চোরের মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে মোটরসাইকেল চুরির কাজে ব্যবহৃত চাবি, আধুনিক হাতুুড়ি, র‌্যাথ, স্ক্রু ড্রাইভার পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, রাজশাহী নগরীর অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার শিবগঞ্জ  উপজেলার দাদনচক গ্রামের মো. এনামুলের ছেলে সেলিম। অবশ্য গ্রেফতারের পরেরদিন বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে পুলিশকে চোর সেলিম জানিয়েছিলেন, রাজশাহী নগরীর একটি মেসে থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরি করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা শিবগঞ্জে বিক্রি করতেন। তাই পুলিশ বিভিন্ন স্থান হতে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সেলিম রেজাকে কয়েকটি চুরির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকতে দেখেছে। জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম রেজা পুলিশের কাঝে স্বীকার করেছে তার একটি গ্রুপ রয়েছে। তাদের নিয়ে ইতোমধ্যে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০-১২টি মোটরসাইকেল চুরি করেছে। তাহলে এখন পুলিশকে মূল হোতা রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারে। তা না হলে কারাগারে মূল হোতা থাকবে। আর অন্য দিকে তার সহযোগীরা মোটরসাইকেল চুরি করে বেড়াবে। তাই তাদেরকে দ্রুত চিহিৃত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। শুধু সেলিম গ্রুপ না। মোটরসাইকেল চুরির সাথে অন্য সিন্ডিকেটও থাকতে পারে। তাদের বিষয়েও খোঁজ-খবর নিতে হবে।
গত ১৯ মে শুক্রবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের গেটের ভেতর থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে রাজশাহী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলার মোটরসাইকেল চুরি হয়। কিন্তু মতিহার থানায় মামলা করার পরও তার মোটরসাইলের হদিশ পাননি এখনও। মোটরসাইকেল চুরির এক মিনিটের মাথায় আসলাম-উদ-দৌলা নগরীর মহিতার থানার পুলিশকে অবগত করেছিলেন। কিন্তু মহিতার থানার পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে উদ্যোগগ্রহণ করেনি। আসলাম-উদ-দৌলার ধারণা যদি পুলিশ দ্রুতগতি খোঁজ-খবর নিতো। তাহলে চোরকে আটকের পাশাপাশি মোটরসাইকেলটা উদ্ধার করা সম্ভব হতো। কারণ নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসিসি ক্যামেরার আওতাধীন। তাই সিসিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কিংবা রাস্তায় মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষার সময় চোরকে আটক করা সম্ভব। তাই নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনাকে আরও তৎপর হতে হবে। যাতে করে মানুষজন নির্বিঘেœ নিজের বহন নিয়ে চলাফেরা করতে পারে। সেই সাথে মালিকদেরকেও মোটরসাইকেল চুরি রোধে সতর্ক অবলম্বন করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ