রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি II দহনজ্বালায় কাতর জীবন

আপডেট: এপ্রিল ২৬, ২০২৪, ১১:১১ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে গেছে। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ৩টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রচণ্ড এই তাপপ্রবাহে রাজশাহীতে বইছে লু হাওয়া। দুঃসহ গরমে কষ্ট পাচ্ছেন মানুষ। শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।

রাজশাহী আবহাওয়া কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত বছরের ১৭ এপ্রিল রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর চলতি মৌসুমে শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হলো ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০০৫ সালের এপ্রিলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

টানা এই তাপপ্রবাহে অচল হয়ে পড়েছে রাজশাহীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিরূপ প্রকৃতির কাছে সামনে থমকে দাঁড়িয়েছে জনজীবন। এপ্রিলজুড়েই স্মরণকালের তপ্ত মৌসুম পার করছেন পদ্মাপাড়ের মানুষ। মৃদু থেকে মাঝারি; মাঝারি থেকে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে খরাপ্রবণ এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে। সর্বশেষ গত তিন দিন রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পেরিয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ থেকে তীব্র দাবদাহে মানুষসহ প্রাণিকুলে হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে। তীব্র রোদ ও তাপপ্রবাহের কারণে বেশ কয়েক দিন থেকেই দুপুরের পর প্রধান প্রধান সড়ক ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। অনেক মানুষকে ক্লান্ত শরীরে গাছের ছায়ায় বসে থাকতে দেখা যায়। অনেককে আবার চোখেমুখে ঠাণ্ডা পানি দিতে দেখা যায়। তবে রিকশাচালকদের তীব্র রোদ উপেক্ষা করেই রিকশা চালাতে দেখা গেছে। এছাড়া তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটেখাওয়া অন্য পেশার মানুষেরাও।

এই খরতাপে ঝরে পড়ছে আম ও লিচুর গুটি। বৃষ্টির জন্য হাহাকার থামছেই না। দুঃসহ এই গরম থেকে পরিত্রাণ পেতে শুক্রবারও ‘সালাতুল ইস্তিসকার’ আদায় করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজশাহীর তেরখাদিয়ায় শহিদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়াম মাঠে এই সালাতুল ইস্তিসকারের আয়োজন করা হয়। নামাজ শেষে বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। অনাবৃষ্টি ও দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে টানা তৃতীয় দিনের মতো নামাজ অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ইদগাহে।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক মো. গাওসুজ্জামান বলেন, ভারী বর্ষণ ছাড়া আপাতত এই প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ প্রশমিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর দু-এক দিনের মধ্যে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাতেরও কোনো সম্ভাবনা নেই। আপাতত বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version