রাজশাহীতে যথাযথ মর্যাদায় বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী পালিত

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২২, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক :


রাজশাহীতে যথাযথ মর্যাদায় বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (৮ আগস্ট) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এঁর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি।

এরা আগে, “মহীয়সী বঙ্গমাতার চেতনা, অদম্য বাংলাদেশের প্রেরণা”- এই শ্লোগান সামনে রেখে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে, বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীর ৯৫ জন দুস্থ নারীদের বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ৩০ জন দুস্থ নারীর প্রত্যেকে দুই হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মো আব্দুল বাতেন, আরএমপি’র পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী রাজশাহী মহানগর সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী, রাজশাহী জাতীয় মহিলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেগম মর্জিনা পারভিন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শবনম শিরীন।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জিনাতুন নেসা তালুকদার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা,অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. জিয়াউল হক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) এএনএম মঈনুল ইসলাম,

স্থানীয় সরকার পরিচালক মো. এনামুল হক, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) শাহানা আখতার জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হকসহ রাজশাহী জেলার বিভিন্ন দফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা-কর্মচারীবৃন্দ।

বাংলাদেশর ইতিহাসে বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ্য পূর্বক উপস্থিত বক্তারা বলেন- বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। শৈশবে বাবা-মাকে হারানোর পর তিনি বেড়ে উঠেন বঙ্গবন্ধুর পিতা-মাতার স্নেহের ছায়ায়। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব। শেখ মুজিবুর রহমানের- খোকা থেকে মুজিব কিংবা বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হয়ে উঠার পেছনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের অনুপ্রেরণা আর সহযোগিতা ছিল সবচেয়ে বেশি।

বঙ্গমাতার জন্ম না হলে হয়তো শেখ মুজিবের বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠা হয়ে হতোনা, আমরা পেতাম না জাতির পিতা, স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা, নিজ ভুখÐ ও মানচিত্র। তাই ০৮ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্য দিন। এবছর সারাদেশে যথাযথ মর্যাদায় বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ।

বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ-তিতীক্ষার অকুন্ঠ সমর্থক ছিলেন বঙ্গমাতা উল্লেখ্য পূর্বক বক্তারা বলেন- সৃষ্টির আদি থেকেই নর-নারীর সম্মিলিত প্রয়াস মানব সভ্যতার বিকাশ ও অগ্রসরে ভূমিকা রেখেছে। সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি সর্বক্ষেত্রেই নারীগণ অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছেন। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর নারী কবিতায় বলেছেন, ‘কোন কালে একা হয়নি ক’ জয়ী পুরুষের তরবারি প্রেরণা দিয়াছে শক্তি দিয়াছে বিজয় লক্ষ্মী নারী’।

ঠিক তেমনি ভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আজীবনের আন্দোলন, সংগ্রাম ও ত্যাগ-তিতীক্ষার অকুন্ঠ সমর্থক ও প্রেরণাদায়ী মহিয়সী নারীর ভূমিকা পালন করেছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের অনুপ্রেরণায় উৎস ছিলেন বেগম মুজিব উল্লেখ্য পূর্বক বক্তারা বলেন- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের অনুপ্রেরণাও ছিলেন বেগম মুজিব। এছাড়াও তিনি ছিলেন জাতির পিতার সুযোগ্য সহধর্মিণী, বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা এবং সকল অনপ্রেরণার উৎস।

বঙ্গবন্ধু তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থের শুরুতেই বলেছেন,” আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে বসে বলল, ‘বসেই তো আছ, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী’।“ অর্থাৎ মহান এই নেতার জীবন- কর্ম লেখার অনুপ্রেরণার উৎসও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব। এখানে তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর আত্মত্যাগের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন মুক্ত চিন্তার অধিকারী, বিশ্বাসে অটল ও দৃঢ় প্রত্যয়ী একজন নারী।

বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও আদর্শের সঙ্গে সবসময় ছিলেন একাত্ম। মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণাদাত্রী এই মহীয়সী নারী বঙ্গমাতার আদর্শ দেশের নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে নারীদের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। কিন্তু অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনে অভ্যস্ত আর প্রচারবিমুখ এই মহিয়সী নারীর জীবনব্যাপী ত্যাগ ও অবদান থেকে গেছে লোক চক্ষুর আড়ালে, তাই আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি আত্মত্যাগে ভরপুর তাঁর জীবন ও কর্মকে।

মৃত্যুর সময়ও বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী উল্লেখ পূর্বক বক্তারা বলেন- ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট কালরাতে ধানমÐির ৩২ নং বাড়িতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ঘাতকেরা এই মহিয়সী নারীকেও নির্মমভাবে হত্যা করে।

মৃত্যুর সময়ও তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর জীবন ও কর্মের মাঝে যে আদর্শ তিনি রেখে গেছেন তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের কর্তব্য।

উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন- রতœগর্ভা বঙ্গমাতা না থাকলেও রেখে গেছেন একজন দেশরতœ- শেখ হাসিনা, যিনি তাঁর মায়ের আদর্শ, চেতনা ও প্রেরণা এবং অদম্য সাহস ধারণ করেই বাংলার মাটি ও জনগণকে ভালোবেসে নিজের সারাটি জীবন দেশের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

তাঁর হাত ধরেই, তাঁর দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হয়েছে, শেখ হাসিনার অদম্য চেষ্টায় নিজেদের অর্থায়নে আমরা তৈরি করেছি স্বপ্নের পদ্মা সেতু, তাঁর নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে চলেছে দূর্বার গতিত

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ