রাজশাহীতে রিজভী-শাহীন শওকতকে প্রতিহতের ঘোষণা || মহানগর ও জেলা বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবি

আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির নবঘোষিত কমিটিতে দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকতের অনুগতদেরই পদ দেয়া হয়েছে। বাইরের দুই জেলা থেকে আসা এই দুই নেতাকে রাজশাহী বিএনপির রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার সকল অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। এ ধরনের ঘোষণা দিয়েছে কমিটি থেকে বাদপড়া মিজানুর রহমান মিনুর অনুগত হিসেবে পরিচিত ‘রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটি’।
গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দুই কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন ‘বিএনপি রক্ষা কমিটি’র নেতারা। এসময় তারা মহানগর ও জেলা শাখার কমিটি বাতিল করে সম্মেলনের মাধ্যমে আবার কমিটি গঠনেরও দাবি জানান তারা।
গত ২৭ ডিসেম্বর মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সভাপতি ও শফিকুল হক মিলনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর শাখার আংশিক কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়। একইদিন তোফাজ্জল হোসেন তপুকে সভাপতি ও মতিউর রহমান মন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলার আংশিক কমিটিও ঘোষণা করে কেন্দ্র।
কিন্তু এই দুটি কমিটির বিষয়েই ঘোরতর আপত্তি তুলেছেন নিজ নিজ শাখার নেতাকর্মীরা। দুটি কমিটিই বাতিলের মহানগর ও  জেলার ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ভাঙচুর এবং দলীয় কার্যালয়ে তালাও ঝুলিয়েছেন। এ অবস্থায় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠকও করেন মিজানুর রহমান মিনু। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা আবু বাক্কার কিনুর কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন মিজানুর রহমান মিনু। বৈঠকে মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দ্কে হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল মিলন হক ও রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল হুদা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মিনুপন্থী হিসেবে পরিচিত ‘বিএনপি রক্ষা কমিটি’র নেতারা মহানগর শাখার নবঘোষিত কমিটি ভেঙে দেয়ার দাবি তোলেন। তারা মহানগর শাখার নয়া সভাপতি  ও সাধারণ সম্পাদককে পদত্যাগের আহ্বান জানান। এছাড়া মহানগর বিএনপির কমিটি থেকে বাদপড়া মিজানুর রহমান মিনু পদত্যাগের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, থানা ও ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা যা চান সেটিই তার চাওয়া। কিন্তু  দলের চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো কিছুই হয়নি বা আগামীতে হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন মহানগর সভাপতি বুলবুল।  ফলে কোনো সমঝোতা ছাড়াই ওই বৈঠক শেষ হয়।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর ও জেলা কমিটির বিষয়ে মিনুপন্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় কর্মীহীন অযোগ্য ও চরিত্রহীন ব্যক্তিরা কমিটিতে স্থান পাওয়ায় রাজশাহীবাসীর মাঝে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে এমন অথর্ব কমিটি ‘নজিরবিহীন উপহাস’। মহানগর কমিটি ঘোষণার পর ৩১ডিসেম্বর সভাপতি বুলবুলের পক্ষে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে নগরীতে বিএনপির বিপথগামীরা গোলাপ ফুল বিতরণ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, রংপুরের বাসিন্দা সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অনুগত ও পৃষ্ঠপোষক হওয়ায় বিতর্কিতদের মহানগর ও জেলার নেতৃত্বে আনা হয়েছে। বিগত দিনে আন্দোলনে মাঠে থাকা বা তাদের উপর হামলা, মামলা ও নির্যাতনের কোন উদাহরণ নেই। এছাড়াও বহিরাগতদের কমিটিতে স্থান দিয়ে তাদের রাজশাহীর রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চলানো হয়েছে। অবিলম্বে মহানগর ও জেলা শাখার ঘোষিত কমিটি বাতিল করা না হলে গণপদত্যাগেরও হুমকি দেন তারা। এছাড়াও  কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচি ‘রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে পালনের ঘোষণা দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,‘রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটি’র  আহ্বায়ক নজরুল হুদা, সদস্য সচিব সাইদুর রহমান পিন্টু, নগরীর মতিহার থানার বিএনপির সভাপতি আনসার আলী, রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি শওকত আলী, শাহমুখদুম থানার সভাপতি মনিরুজ্জামান শরিফ।
এবিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন সার্বিক দিক মূল্যায়ন করেই কমিটি করে দিয়েছেন। এই কমিটির বিরুদ্ধে কারো কোনো অভিযোগ তোলার কোনো সুযোগ নেই। এই কমিটিই আগামী দিনে জাতীয়তাবাদী শক্তির পুনরুত্থান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাহসী ভূমিকা রাখবে’।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ