রাজশাহীতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমনের আবাদ

আপডেট: September 21, 2020, 12:12 am

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে আমন আবাদের চারা রোপণ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এখন আবাদের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭০ হেক্টর বেশি জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমন আবাদে পোকার আক্রমণ বেড়েছে। এতে পোকা নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন কৃষকরা। তবে বিরূপ আবহাওয়াকে মাথায় রেখে পোকার আক্রমণ রোধে আগে থেকেই কৃষকদের মাঝে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করাসহ ঢাকা থেকে একটি বিশেষ দল বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এবার রাজশাহীতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৭৬ হাজার ৫০০ হেক্টর। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৯ মেট্রিক টন। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক কৃষককে এবার দেরিতে ধান লাগাতে হয়েছে। এছাড়া হঠাৎ করেই এবার পোঁকার আক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে তারা আগে থেকেই কৃষকদের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্ট এ অধিদপ্তর। এছাড়া এবার আবহাওয়া অন্যান্য বছরগুলোর চেয়ে বিরূপ হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবেও গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
কৃষকরা বলছেন, এবার আবহাওয়ার কারণে বীজতলা তৈরিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিলো। তবে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় ধান লাগাতে ভালো হয়েছিলো। ধান গাছও ভালো ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই পোকার আক্রমণ দেখতে পায় তারা। তবে কিটনাশক প্রয়োগ করায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে এখনো পুরোপুরি পোঁকা দমনও হয়নি। এছাড়া পচনও দেখতে পাচ্ছেন তারা।
রাজশাহী পবা উপজেলার কৃষক নিরাশ আলী জানান, তিনি এবার প্রায় আড়াই বিঘা মতো ধানের আবাদ করেছেন। আবাদ ভালোই ছিলো। তবে হঠাৎ করেই পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এরপরই স্থানীয় ডিলারের পরামর্শে কিটনাশক প্রয়োগ করি। এখন অনেকটাই কমেছে। কিন্তু পুরোপুরি দমন হয়নি।
আরেক কৃষক সাত্তার আলী জানান, তিনি প্রায় দুই বিঘা মতো ধানের আবাদ করেছেন। আবাদ এখন অনেকটাই ভালো আছে। কিছুদিন আগে পোকা দেখা দিয়েছিলো। কিটনাশক প্রায়োগ করায় ভালো আছে। তবে আবাদ এখনো শঙ্কামুক্ত নন। কেননা পাশের জমিতে এখনো পোকা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া তার এক বিঘার মতো জমি কিছুটা উঁচু। শিষ না ফুটতেই ইঁদুরের আক্রমণ দেখতে পাচ্ছেন তিনি।
পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, তার উপজেলাতে অন্যান্য বছরের চেয়ে পোকার আক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে আগে থেকেই তারা সতর্ক আছেন। এবিষয়ে তিনি মাঠকর্মীদের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করছেন। পোকা দমনের বিভিন্ন পদ্ধতি তাদের জানানো হচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত তার উপজেলাতে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক জানান, এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় আবহাওয়া খারাপ। কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি- আবার ভ্যাপসা গরম। বৃষ্টি ধানের আবাদের জন্য ভালো। তবে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় বেশ কিছু জায়গায় কৃষদের ধান লাগাতে দেরি হয়েছে। আর আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে রাজশাহীতে বিশেষ করে গোদাগাড়ি ও পবা উপজেলাতে পোকার আক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তারা আগে থেকেই সতর্ক আছেন। কৃষকদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করছেন। পোকা দমনে আলোর ফাঁদ, জমিতে বিলিভাঙ্গা (রোদ খাওয়ানোর বিশেষ পদ্ধতি)সহ কীটনাশক প্রয়োগ করতে বলছেন। এতে আবাদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন করোনাকালেও প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে এবারও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমনের উৎপাদন হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ