রাজশাহীতে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা

আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০২৩, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

সংকটগুলো দ্রুত দূর করা উচিত

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে নানা বাস্তবতায়। মূলত কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে সরকার। কিন্তু দুঃখজনক হলো জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটসহ সমন্বয়হীনতার কারণে বহু সরকারি হাসপাতাল রোগীরা কাম্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রাজশাহীতে দুইশো শয্যার একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি ১১ মাস আগে উদ্বোধন হলেও এখনো চালু হয়নি।

জানা যায়, চিকিৎসক-নার্সসহ বিভিন্ন পদে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের অজুহাতে অবকাঠামো কাজ শেষ হওয়ার পরও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুঝে নিচ্ছে না। স্থানীয় পর্যায়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন। আশ^াস দেয়া হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে। কিন্তু আজও আলোর মুখ দেখেনি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে সেবা। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জেলার মানুষ এখানে সেবা নিচ্ছে।

বিদ্যমান সুযোগ সুবিধার কয়েকগুন রোগী থাকায় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেমন সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে তেমনি আবার দূর্ভোগের শেষ থাকছে না সেবাপ্রার্থীদের। যা শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে ঝুঁকিও তৈরি করছে।

জনচাহিদার প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের মে মাসে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিলো রাজশাহী শিশু হাসপাতালের। ২০১৮ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের শেষের দিকে নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ২৯ জানুয়ারি হাসপাতালটি উদ্বোধনও করা হয়। এরপর কে?, কিভাবে? কখন? হাসপাতালে সেবা শুরু করবে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় দপ্তরগুলোর কাছে সদত্তর নেই। উত্তর একটাই স্বাস্থ্য দপ্তরের উর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন কর্মসূচি দেখা যায়নি।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরিভিত্তিতে নেয়া উচিত। কেননা রামেক হাসপাতালে একটি বেডে ৪ থেকে ৫ জন শিশুকেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। যা শিশুর জন্মের পরপরই মানবাধিকারকেও ক্ষুন্ন করছে। অপরদিকে, বিশেষায়িত এই হাসপাতালটি চালু হলে স্বাস্থ্য সেবায় যুক্ত হবে ১৪ শয্যার জেনারেল অবজারভেশন ইফনিট, এক্স-রে করানোর জন্য দুটি এবং সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করানোর জন্য একটি করে বিশেষ কক্ষ, একটি মাইনর ওটি ও চারটি বিশেষায়িত ওটি, ১০ শয্যার প্রি ও পোস্ট ওটি, ৫৬ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), ৯৬ শয্যা ও ১৮টি পেয়িং শয্যা। যা এ অঞ্চলের শিশুদের স্বাস্থ্য সেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। শিশুদের সু-চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। যাতে করে চিকিৎসা পেতে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে না হয় শিশু রোগিদের স্বজনদের।