রাজশাহীতে শিশু হত্যায় ভগ্নিপতিসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



রাজশাহীতে শ্বশুরের সম্পত্তি পাওয়ার লোভে আট বছর বয়সী শ্যালককে হত্যার দায়ে ভগ্নিপতিসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।
সেইসঙ্গে মামলার আরেক আসামির যাবজ্জীবন সাজা কমিয়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সাত বছর আগের এই হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এই রায় ঘোষণা করে।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন এএফএম মেজবাহ উদ্দিন ও এসএম মুবিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ।
রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০১২ সালে এ মামলার রায়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মাহফুজুর রহমান অলিকে হত্যার দায়ে সাহেব আলী ও মো. মুকুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। আরেক আসামি মো. রাসেলকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
হাই কোর্টের রায়ে সাহেব ও মুকুলের সর্বোচ্চ সাজার রায় বহাল রাখা হলেও রাসেলের সাজা কমিয়ে তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ জানান।
তিনি বলেন, “রাসেল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। সহযোগিতার দায়ে তাকে সাজা দিয়েছে আদালত।”
আসামিদের মধ্যে সাহেব আলী শিশু অলির আপন বোনের স্বামী; আর মুকুল হোসেন খালাত বোনের স্বামী। তাদের পরিকল্পনাতেই ২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল রাজশাহীর মোহনপুরের কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র অলিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয় বলে উঠে আসে এ মামলার বিচারে।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অলির ভগ্নীপতি সাহেব আলী বলেন, অপহরণের ঘটনার দিন আসামি রাসেল বাই সাইকেলে করে অলিকে স্কুল থেকে নিয়ে আসে। এরপর তাকে পদ্মার পারে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরদিন রাত ২টার দিকে বিদিরপুরে তারা সাহেব আলীর সঙ্গে দেখা করে। পরে বেরাবাড়ির আব্দুল আজিজের ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে শ্বাসরোধ করে অলিকে হত্যার পর তার লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়।
রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি সাহেব আলী ও মুকুল হোসেনকে মৃত্যদণ্ড এবং রাসেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
আসামিরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে শুনানি শেষে রোববার রায় দিল হাই কোর্ট।- বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ