রাজশাহীতে শুরু আম পাড়ার কর্মযজ্ঞ

আপডেট: মে ১৬, ২০২১, ৯:১৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর স্থানীয় প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী শনিবার (১৫ মে) থেকে আম পাড়া শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই রাজশাহীর বাগানগুলোতে অনেকটা উৎসবমূখর ভাবেই আমপাড়ার কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। কিন্তু এখনো জমে উঠেনে কেনাবেচা। ইদের ছুটির আমেজ কাটিয়ে আমের বাজার জমে উঠতে এখনো কয়েকদিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কম বৃষ্টিপাত ও খরা পরিস্থিতির কারণে অল্প কিছু আম আগেই পেকে গেছে। ফলে ইতোমধ্যে অল্প পরিমাণ আম বাজারে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু বিভিন্ন জেলা থেকে আমের ক্রেতারা এখনো রাজশাহী আসা শুরু করেননি। আম পরিবহনের জন্যে শ্রমিকরাও এখনো কাজ শুরু করেন নি। আর কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোদমে আমের বাজার জমে উঠবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমের বাজার বসে রাজশাহীর বানেশ্বরে। সেখানে আম কেনাবেচা করতে দেখা যায় নি। কয়েকজন ফল ব্যবসায়ী লিচুর পসরা সাজিয়ে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের দুই ধারে বসেছিলেন। তবে বাজারের এক পাশে কিছু যুবককে ঝড়ে পড়া কাঁচা আম বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বানেশ^রের আম ব্যবসায়ীরা জানান, আমের ব্যবসা জমে উঠলে প্রতিদিন শত শত আমচাষি রিকশা বা ভ্যানে টনকে টন আম বোঝাই করে নিয়ে আসেন বানেশ্বর বাজারে। এখনো সেই বাজার বসে নি। অল্প কয়েকজন আমচাষি অল্প পরিমাণ আম বাজারে এনেছিলেন সকালের দিকে।
তারা জানান, আজকে সংগ্রহ করা আমগুলো বিভিন্ন আড়তে প্যাকেট করে রাখা হয়েছে। গাড়ি চলাচল শুরু হলে সেগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে।
আম ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন জানান, গুটি আম গাছে কিছু পাকতে শুরু করেছে। তবে এখনো ভালোভাবে পাকা শুরু হয়নি। এখনো এক সপ্তাহ লাগবে ভালোভাবে পাকতে। তবে গুটিজাতের আম নামানো যাবে। কিন্তু বাজার এখনো জমে উঠেনি। তাই তিনি কয়েকদিন পর আম নামানো শুরু করবেন।
গত ৬ মে রাজশাহী জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা করে ১৫ মে থেকে গুটি জাতের আমপাড়ার সময় নির্ধারণ করেন। যেখানে গোপালভোগ জাতের আম ২০ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা ও রানিপছন্দ ২৫ মে এবং হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত ২৮ মে থেকে বাজারজাত করার জন্য বলা হয়। এছাড়া, ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে ফজলি ও আম্রপালি এবং ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা ও বারি আম-৪ নামানো যাবে।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, গুটি আম সবার আগে পাকে। এবার রোদ-গরম বেশি। এগুলো এরইমধ্যে পাকতে শুরু করেছে। আর অন্য আম যেমন গোপালভোগ, লখনা, ক্ষীরশাপাত, ল্যাংড়া ও ফজলি জাতগুলো দেরিতে পাকে। তবে, খরার কারণে এ বছর আম কিছুদিন আগেই পেকে যাবে। এবার আমের ফলও ভালো। রোগবালাইও তেমন নেই।
চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আম হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ টন ধরে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দাড়ায় দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন।