রাজশাহীতে শুরু হয় নি বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম ।। নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ

আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৭, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বিএনপিকে চাঙা করতে হাইকমান্ড সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছে। স্থবির সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতেই মূলত এ ধরনের উদ্যোগ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আর এ কারণেই কেন্দ্র থেকে দেশব্যাপি এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাই ও আগস্ট মাস জুড়ে চলবে এ নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম। ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপি এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু মাসের ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও রাজশাহী জেলা ও মহানগরে সদস্য সংগ্রহের কার্যক্রমই শুরু হয় নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জুলাই ও আগস্টের মধ্যে এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট বেঁধে দেন। একইসাথে ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপি সদস্য সংগ্রহের জন্য নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশনাও দেয়া হয়। তবে রাজশাহীতে এ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগর বিএনপির সভাপতির পাশাপাশি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র। সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে নাগরিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি। শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের দাবি মেনেয় নেয়ার ব্যাপারে মেয়রকে আলটিমেটাম দেন। আর এর ফলে বেকায়দায় পড়েন মেয়র বুলবুল। তিনি এখন এ বিষয়টি সামলাতেই ব্যস্ত রয়েছেন।
অপরদিকে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নগর ফেলে তিনি পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়েই ব্যস্ত। দলীয় উদ্যোগের অভাবে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম এখনও রাজশাহী মহানগরে শুরু করা সম্ভব হয়নি। শুধু রাজশাহী নগরী না, জেলাতেও বিএনপির এ কার্যক্রমের কোনো অগ্রগতি এখনও লক্ষ্য করা যায়নি।
প্রায় সাত বছর পর ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয় রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির নতুন কমিটি। এই দুই কমিটির প্রধান চার পদের তিনটিতেই সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে নতুনদের নেতৃত্ব দেয়া হয়। নতুন এই কমিটি থেকে বাদ পড়েন প্রাক্তন দুই সাংসদ মিজানুর রহমান মিনু ও নাদিম মোস্তফা। এছাড়াও বাদ পড়েন দলের সিনিয়র নেতা কামরুল মনির।
ফলে এই নেতাদের অনুসারী প্রন্তিক পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দেয় অসন্তোষ। এরপর থেকেই রাজশাহী বিএনপির কোন্দল সামনে চলে আসে। কোন্দল ছড়িয়ে পড়ে দলটির অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনগুলোর মধ্যেও। আর এই কোন্দল থেকেই গত মে মাসে দলটির কর্মী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্য, ২০১৬ সালের শেষে মহানগর ও জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধ চলমান। এ সমস্যা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি নেতারা। বিএনপির মহানগর ও জেলার উভয় কমিটিতেই এ বিরোধ দৃশ্যমান। এ অবস্থায় রাজশাহী মহনগর ও জেলা বিএনপি’র পক্ষে নতুন সদস্য সংগ্রহ কতটুকু সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে খোদ দলটির কর্মীদের মধ্যেই।
তবে কর্মীরা এমনটা আশঙ্কা করলেও দলের নেতারা তেমনটি মনে করছেন না। তারা জানান, বড় দলের মধ্যে এ ধরনের বিরোধ থাকতেই পারে। তবে দলের স্বার্থে সবাই এক হয়ে কাজ করে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, আগামী ২৪ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান রাজশাহীতে এসে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে যাবেন। এরপর থেকে পুরো দমে নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।
রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, আমাদের জেলা বিএনপির ইউনিট ২৩টি। যার মধ্যে ৯টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলোর পাঁচটিতে এখনো কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।
মহানগর বিএনপির সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি। কার্যক্রমটি উদ্বোধনের লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার মহানগর বিএনপির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপরেই দলের নেতাকর্মীরা নতুন সদস্য সংগ্রহে মাঠে নামবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ