রাজশাহীতে শৈত্যপ্রবাহ শুরু একদিনে কমেছে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ১০:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে পৌষের শেষে এসে তাপমাত্রা কয়েকদিন বৃদ্ধির পর আবার তাপমাত্রা কমে শৈতপ্রবাহ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারের তুলনায় গতকাল বুধবার প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমেছে। ফলে বুধবার (১৩ জানুয়ারি) থেকেই রাজশাহীতে শৈত্যপ্রবাহ বইতে শুরু করেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত মঙ্গলবারের (১২ জানুয়ারি) তুলনায় বুধবার (১৩ জানুয়ারি) তাপমাত্রা কমেছে ৫ ডিগ্রির বেশি। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনি¤œ ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ৯৭ শতাংশ ও সন্ধ্যায় ৮২ শতাংশ। গত সোমবার (১১ জানুয়ারি) সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম জানান, পৌষ মাসের শেষের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমে। কয়েকদিনের গরম শেষে এখন শৈত প্রবহ শুরু হয়েছে। সামনে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা আছে।
এদিকে, আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস গণমাধ্যমকে জানান, আজ বুধবারের তুলনায় তাপমাত্রা আরও কিছুটা নামতে পারে আগামী দুই দিন। এরপর কিছুটা বাড়লেও শীতের আমেজ থাকবে আরও বেশ কিছুদিন। এখন আবার উত্তরের বাতাস বইতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি গিয়ে কমে আসতে পারে শৈত্যপ্রবাহের আমেজ।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে। মৌসুমী লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে অস্থায়ীভাবে আকাশ মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারদেশে হালকা থেকে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। উত্তরাঞ্চলে দুপুর পর্যন্ত এই কুয়াশা থাকতে পারে।
এদিকে, একদিনের ব্যবধানে হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। কয়েক দিনের গরমের পর হঠাৎ বেশি ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় ঠান্ডাজনিত সমস্যার কথাও জানাচ্ছেন অনেকে। সকালে ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন কামরুন্নাহার। তিনি জানান, কয়েক দিনের গরমের পর হঠাৎ করে ঠান্ডার তীব্রতা বাড়ায় তার সর্দি-কাশির সমস্যা হয়েছে।
এদিকে, একদিনের ব্যবধানে শীতের তিব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেকায়দায় পড়তে দেখা গেছে, নি¤œ আয়ের মানুষদের। সকালে নগরীর গোরহাঙ্গা রেলগেট এলাকায় কাজের সন্ধানে জড়সড় হয়ে বসে থাকতে দেখা যায় দিনমজুরদের। তারা জানান, প্রতিদিন এভাবে কাজের সন্ধানে এসে বসে থাকেন তারা। কাজ পেলে যান, নতুবা বাড়ি ফিরে যেতে হয় তাদের। আজকে হঠাৎ ঠান্ডা বেড়েছে। এতে সকাল পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো কাজ পাননি।
অন্যদিকে, বুধবার বিকেলের পরই নগরীর গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় দেখা গেছে। দিনের অধিকাংশ সময় নগরীতে চলাচলকারী যাত্রী, অটো রিকশা-চার্জার রিকশা চালক, বাইসাইকেল চালকদের গরম পোশাক মুড়িয়ে চলতেও দেখা গেছে।