রাজশাহীতে সাড়ে ৬ হাজার ছাত্রীর অকাল বিয়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০২১, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

করোনাকালে দীর্ঘ ১৮ মাসের অধিক সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধকালীন অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বাল্যবিয়ে। দুরন্ত শৈশব আর কৈশরে পা দিতে না দিতেই একটা সংসারের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে অনেক কিশোরীকে। রাজশাহীতে ১৮ মাসে সাড়ে ৬ হাজারের অধিক মেয়ে শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ে শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংষতাও। আর বাল্য বিয়ের শিকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ছে। যেটা কখনোই কাম্য নয়। সুতরাং এবিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি ছাড়াও সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়াতে হবে।
‘রাজশাহীতে সাড়ে ৬ হাজার ছাত্রীর অকাল বিয়ে’ শিরোনামে দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাল্য বিয়ে বিশেষজ্ঞরাও উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে রাজশাহীতে ষষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত ২ লাখ ১২ হাজার ১৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছেন ১ লক্ষ ৩ হাজার ৪০৭ জন। এদের মধ্যে ৬ হাজার ৫১২ জন বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছেন। মাধ্যমিক পর্যায়ের এই শিক্ষার্থীদের বাল্য বিয়ের হার প্রায় ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর বাল্যবিয়ের হার নগরীর চেয়ে উপজেলার প্রান্তিক এলাকাগুলোতে বেশি। সুতরাং প্রান্তিক এলাকায় বাল্যবিয়ে রুখতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে।
প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে বলেছেন, করোনা মহামারীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার নেতিবাচক প্রভাবের ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের ক্ষতিটা শহরের তুলনায় বেশি। আর ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ার হার মহামারীকালে বেড়েছে। বাল্য বিয়ের সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে সেটা অশুভ বার্তা। তবে এক্ষেত্রে বেশকিছু বাস্তবতা আছে। আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, অসচেতনতাসহ দরিদ্রতাও অন্যতম একটি কারণ। এ জন্য পরিবারগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়টিকে অতীব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদি পলিসি নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া সরকারের বিদ্যমান দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোকেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাল্যবিয়ের এই ক্ষতিকর দিকের প্রভাব যে শুধু তাদের উপরই সীমাবদ্ধ থাকবে তাও না। তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপরও এই প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এর ক্ষতিকর প্রভাব থাকবে। আর বাল্যবিয়ে রুখতে তিনি সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের প্রতিটা ইউনিয়ন, উপজেলার বাল্যবিবাহ রোধ কমিটিকে শক্তিশালী ও সক্রিয় করতে হবে। যেটা সময়ের দাবি। সুতরাং বাস্তবতার দোহায় দিয়ে হাজারো তরুণীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে রুদ্ধ না করে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বিকাশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে। এজন্য আমাদের জনসচেতনা আরও বাড়াতে হবে। সেইসাথে আইন প্রয়োগ করতে হবে। আবার জাতীয় পরিচয়পত্র সার্ভারের মাধ্যমে দেখে কাজী বিয়ে পড়াবে। তাহলে বাল্যবিয়ে রোধ করা অনেকটা সহজ হবে। কারণ অনেকে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে কাজীর মাধ্যমে বিয়ে থাকেন। এতে করে কাজীদের আরও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে তারাও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখছেন। আগামীতে তা অব্যাহত রাখতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ