রাজশাহীতে হচ্ছে না বৃক্ষ মেলা, নার্সারি খাতে ক্ষতি আড়াই কোটি টাকা

আপডেট: আগস্ট ১০, ২০২০, ১০:২২ অপরাহ্ণ

তারেক মাহমুদ


প্রতি বছরের মত এ বছরও ২৫ লাখ টাকা খরচ করে নিজের নার্সারির কয়েক লাখ গাছের চারা তৈরি করেছে পুঠিয়া উপজেলার অলস্কায়ার নার্সরির মালিক মফিজুল ইসলাম ডলার। নার্সারিতে কচি কচি তরতাজা বিভিন্ন ফলজ, বনজ, ওষুধি ও ফুলের হাজার হাজার গাছে এখন সবুজের সমারোহ। কিন্তু ডলারের মনে শান্তি নেই! গতবছর বৃক্ষ মেলায় তার গাছের চারা বিক্রি হয় সাড়ে চার লাখ টাকা। কিন্তু এবার কৃষি মেলা না থাকায় তাকে প্রায় মোট ৪ লক্ষ টাকা লোকশান গুনতে হবে। এমন অবস্থা রাজশাহীর প্রায় সব নার্সরি মালিকদের।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, নগরী ও জেলাতে মোট নার্সারি আছে ১৪১ টি। এই বর্ষা মৌসুমেই এখন তাদের মূল ব্যবসা। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও বৃক্ষ মেলা না থাকায় কারণে রাজশাহীতে নার্সারি খাতে এখন ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট আড়াই কোটি টাকা। নগরী ও জেলার কয়েকজন নার্সারি মালিকদের সাথে কথা হলে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। নগরী ও জেলার ৯ টি উপজেলায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার গাছের চারা বিক্রি হয়। বৃক্ষ মেলায় নগরীতে কোটি টাকার গাছ বিক্রি হয়। এছাড়াও একেকটি উপজেলায় মেলায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা গাছ বিক্রি হয়ে থাকে।
নার্সারি মালিকরা জানাচ্ছেন, কিছু দিন আগে লকডাউনে ব্যবসা বাণিজ্য কম ও এখন বৃক্ষ মেলা হচ্ছে না তাই সংকটে পড়েছে নার্সারি খাত। প্রথম থেকেই যেকোনো দুর্যোগ কিংবা সংকটে রাজশাহীর সকল জেলায় গাছের চারা পূরণে মানুষের পাশে আছে নার্সারি মালিকরা। তবে এখন মোটামুটি ব্যবসা হলেও অনেককে লোকসান গুনতে হবে।
পুঠিয়া উপজেলার অলস্কয়ার নার্সারির মালিক মফিজুল ইসলাম ডলার জানান, প্রতি বছর আমার ২৩ বিঘার দুই নার্সারিতে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়। আর খরচ হয় ১৫ লক্ষ টাকা। এই বর্ষা মৌসুমের ৫ মাস ১৫ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়। তার মাঝে সবচেয়ে বড় ব্যবসা বৃক্ষ মেলার ৩ দিনে হয়ে থাকে। সেই সময় চার লক্ষ টাকার বেশি গাছের চারা বিক্রি করি। কিন্তু এবার বৃক্ষমেলা হচ্ছে না। তবে গাছ বিক্রি থেমে নেই। এখন ফলজ গাছ বেশি বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর আমচত্বর এলাকার সোনার বাংলা নার্সারির মালিক রফিক জানান, নার্সারির ব্যবসার মূল সময় বর্ষা মৌসুম। আর তার মাঝে বৃক্ষ মেলাই প্রধান। বৃক্ষ মেলায় ক্রেতাদের চাহিদা মত সব রকমের গাছ থাকে। ছোট-বড় সকল মানুষ গাছ কিনেন। কিন্তু এবার মেলা নেই। এই করোনার সময় অনেক মানুষ বাসায় গাছ লাগিয়ে সময় কাটাচ্ছে। এখন যা বিক্রি হচ্ছে তা আশানরুপ না।
তিনি আরো জানান, ভারত থেকে অনেক গাছ আসে তা আসা বন্ধ আছে। আর প্রতিবছর সিটি কপোরেশন চত্বরে মেলা হয়। সেখানে দেশের বিভিন্ন জেলার গাছ আসে। আমাদেরও বিক্রির একটা টার্গেট থাকে। এই সময় এখানে কোটি টাকার বেশি ব্যবসা হয়। আমারও কয়েক লক্ষ টাকার বেচা কেনা হয় যা এ বছর হচ্ছে না।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক জানান, সরকার প্রতি বছর বৃক্ষ মেলা করে- তবে এবার করোনার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। ৩০ জুনের মধ্যেই সকল উপজেলা বরাদ্দ পায় এবার বরাদ্দ আসেনি। মেলা করার সিদ্ধান্ত হয়নি। মেলা হলে জনসমাগম হবে তাই। তবে আমরা সকল উপজেলার সব ইউনিয়নে ৮০০ থেকে ৯০০ গাছের চারা লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছি। উপজেলার সকল উপ-সহকারী এই দায়িত্বে থাকবে।
তিনি জানান, রাজশাহীর মোট ৩০ হেক্টর জমিতে ১৪১টি নার্সরি আছে। একেকটি উপজেলায় বৃক্ষ মেলায় কয়েক লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়। নগরীর সিটি কপোরেশন ভবনের পাশেই গতবার কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়েছে। এবার মেলা নেই বিক্রি নেই। তবে নার্সারি মালিকদের বিক্রি থেমে নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ