রাজশাহীতে ১৩২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় এক হাজার ৩২৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৫৬৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এই অর্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন, রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ, সেতু ও কালভার্ট, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সংস্কার কাজে ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ, গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ, ভূমিহীন ও দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৃহ নির্মাণের কাজেও ওই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
রাজশাহী এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প ছয়টি রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৭১ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ ও ১ হাজার ৪ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ করা হয়েছে। এছাড়া ২১৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৩ হাজার ৭০৩ মিটার দৈর্ঘ্যেরে প্রায় ৯৪টি সেতু কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে ১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫টি গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া ওই অর্থ থেকে ৮৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ ও ৩৫টির মেরামত কাজ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে এই বিভাগে ৩১টি ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ ভবনের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। এদিকে সেচ চাষ কার্যক্রমের জন্য ৪২ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৮টি স্কিম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়াও ১১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ভূমিহীন ও দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১২৪টি গৃহ নির্মাণ এবং ৯৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২২টি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি। গত অর্থবছরে এইসব প্রকল্পের আওতায় কর্মসংস্থান সৃজন কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার ১০৯ জন দুস্থ মহিলার মাঝে ৩৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলী আহমেদ জানান, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। ভবন ও সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের ফলে ফলে গ্রামাঞ্চলের মানুষজন ইতিমধ্যে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। তাদের যাতায়াত ব্যয় কমেছে, বিভিন্ন পণ্যের বাজারজাত প্রক্রিয়ায় সুবিধা হয়েছে, কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারজাতে উন্নয়ন হয়েছে। ফলে ওইসব প্রকল্প মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে।
আলী আহমেদ জানান, এদিকে সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। এই কর্মসূচি কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। যা বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গ্রোথ সেন্টার নির্মাণের ফলে এতে গ্রামীণ বাজারগুলোর পারিপার্শ্বিক অবস্থার সুবিধা হওয়ায় কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উন্নয়ন ঘটবে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়সমূহে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে জাতীয় শিক্ষার হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের ভবন এই প্রকল্প তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ