রাজশাহীর আ’লীগ নেতাদের সতর্ক করলো কেন্দ্র || কোন্দল সৃষ্টির জন্য দুই নেতাকে ভর্ৎসনা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮, ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীতে আওয়ামী লীগ অফিসে রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, পাশে সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন-সোনার দেশ

রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে চূড়ান্ত সতর্ক করে দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মূলত রাজশাহী জেলা ও মহানগরের আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে দলীয় কোন্দল সৃষ্টির জন্য ভর্ৎসনা করা হয়। মেয়র এইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে এক নেতাকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, তিনি পাশ পান নি। যদিও উপস্থিত নেতাদের তালিকা তিনিই তৈরি করেছেন। এ সময় ওবাইদুল কাদের বলেন, লিটন জাতীয় চার নেতার অন্যতম এএইচএম কামারুজ্জামানের সন্তান। তিনি দুই বার রাজশাহীর মেয়র হয়েছেন। তার এখন চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। তার বিরোধিতা করে কেউ কিছু করতে পারবে না। তিনি কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নন।
রাজশাহী বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহামুদ চৌধুরী জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। সে নেতা বিষয়টি অস্বীকার করলে তাকে জানানো হয় এ বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ আছে। এটা দিবালোকের মতো সত্য। রাজশাহীর সবাই জানে। প্রত্যেক আসনের এমপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো উত্তর দেন নি। গত আট মাস ধরে জেলা আওয়ামী লীগের কোনো সভা হয় না। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তারা একা একা সভা সমাবেশ করেন। এই পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে সবইকে এক যোগে কাজ করার আহবান জানান। তাদেরকে সংযত হয়ে চলার নির্দেশ দেয়া হয়।
এক পর্যায়ে চারঘাট-বাঘা আসনের সাবেক সাংসদ রায়হান আলীর কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি এবারো মনোনায়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন কিনা। তিনি উত্তর দেন, তিনি দাঁড়াবেন না। তানোর-গোদাগাড়ী থেকে মনোনায়ন প্রত্যাশি পুলিশের সাবেক আইজি মতিউর রহমান বর্তমান সাংসদ ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সংশ্রবের অভিযোগ আনেন। মহানগর সহ সভাপতি মাহাফুজুল আলম লোটন তার বিরোধিতা করেন। এ সময় তার সঙ্গে বাকবিত-া হয়।
ওবায়দুল কাদের দলের মধ্যে কোন্দল ও দ্বন্দে¦র ব্যপারে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন এটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। যারা এসব করছেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। আর ভবিষ্যতে যারা করবেন তাদেরও শাস্তি পেতে হবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জনাব ওবায়দুল কাদের এই হুশিয়ারি উচ্চরণ করেন। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে আবারো জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
কাদের বলেন, ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে কেউ যদি মনে করেন এমপি হওয়ার পথ সুগম হবে, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জরিপ রিপোর্ট আছে, আমলানামা, এসিআর আছে, ছয়মাস পরপর আপডেট হচ্ছে। সর্বশেষটাও যোগ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম যাচাই বাচাই করছে। আমাদের জনমতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দিতে হবে। যিনি বেশি গ্রহণযোগ্য তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে যতই প্রভাবশালী নেতা হোন না কেন মনোনয়ন দেয়া হবে না। নির্বাচন আর দল এক কথা না। কর্মী যদি জনমতে প্রভাবশালী নেতার চেয়েও গ্রহণযোগ্য হয় দল তাকে মূল্যায়ন করবে।’
আগামী নির্বাচন পর্যন্ত দলের কমিটি ভাঙা বা নতুন কমিটি গঠন বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জনাব কাদের বলেন, ‘শূন্যতা না থাকলে নির্বাচন পর্যন্ত কোনও কমিটি আপনারা ভাঙতে পারবেন না। নতুন কোনও কমিটিও করা যাবে না।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার একটা ঘটনা ঘটেছে বরগুনাতে এবং আরেকটা ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরে। তা আমরা মোটেও অ্যালাউ করবো না। কারও অভিযোগ থাকলে সরাসরি লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় অফিসে অভিযোগ দেবে। এটা দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা সমাধান করবেন। আমার সঙ্গে আলোচনা করবেন। যদি আলোচনা যথেষ্ট না হয়, তাহলে দলের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবো। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে যারা সিদ্ধান্ত নেবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো। যারা এসব করছেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। আর ভবিষ্যতে যারা করবেন তাদের শাস্তি পেতে হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাজশাহীর নেতাদের ডাকার নিশ্চয় কোনও কারণ আছে। প্রতিযোগিতাটা অসুস্থতা, অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমাদের ডাকতেই হবে। এখন সবার এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বিচ্যুতির কারণ ঘটেছে। রেসপনসিবল লিডাররা যদি অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন তাহলে কর্মীরা কী শিখবে? নির্বাচন করার ইচ্ছে থাকতেই পারে। শুধু একজনই মনোনয়ন চাইবেন, তা তো নয়। অন্যরাইও চাইতে পারেন। আমাদের পার্টির ফান্ডও আছে, ২৫ হাজার টাকা করে দিতে হবে, এবার ভাবছি আরেকটু বাড়াবো।’
কাদের বলেন, ‘চা দোকানে বসে গ্রুপ মিটিং করে। দলের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে প্রচারণা করে। যেটা হওয়ার কথা ছিল বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে আত্মঘাতী প্রচারণা হচ্ছে। এ আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে।’
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আক্তার জাহান, জেলা আওয়ামী লীগর সধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ জেলা ও নগর আওয়ামী লীগের কার্যানির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ