রাজশাহীর তিন পৌরসভায় নির্বাচন আজ একটি ব্যালট ও দুটি ইভিএমে

আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২১, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আজ শনিবার রাজশাহী জেলার তিনটি পৌরসভায় নির্বাচন। পৌরসভার গোদাগাড়ীর কাকনহাট, বাগমারার ভবানীগঞ্জ ও বাঘার আড়ানীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে কাকনহাট ছাড়া বাকি দুই পৌরসভায় নির্বাচনকে ঘিরে বেশ উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। এসময় কর্মি-সমর্থকদের মধ্যে মারপিট, নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। তবে পুলিশ বলছে- নির্বাচনকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- তিন পৌরসভায় মোট ভোটার ৪১ হাজার ৬৫৪ জন। এই ভোটারগুলো স্ব-স্ব পৌরসভায় ১০ জন মেয়র প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর ভোট কেন্দ্র ২৯টি। এর মধ্যে বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর কাকনহাট ও আড়ানী পৌরসভায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় ব্যালটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পৌরসভায় নারী-পুরুষ মিলে ১৪ হাজার ৪০৫ জন ভোটার। নয়টি ওয়ার্ডের প্রত্যকটিতে একটি করে ভোট কেন্দ্র। এছাড়া এই নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের আবদুল মালেক মন্ডল। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিক ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী দুইজন রয়েছেন। এই পৌরসভায় নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বাঘার আড়ানী পৌরসভায় নির্বাচনকে ঘিরে বেশ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মুক্তির আলীর কর্মি-সমর্থকদের মধ্যে মারপিট ও আড়ানী বাজারের দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এসব ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বিষ্ফোরক আইনে ৬০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন- নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি।
এই পৌরসভায় মোট ভোটার ১৩ হাজার ৮৮৪ জন। এভিএমএ ভোটগ্রহণের জন্য নয়টি ওয়ার্ডের প্রত্যকটিতে একটি করে কেন্দ্র করা হয়েছে। এনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তোজাম্মেল হক ছাড়াও স্বতন্ত্র দুজন প্রার্থী ছিলেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র মুক্তার আলী ছাড়াও রিবন আহম্মেদ বাপ্পি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এদিকে, গোদাগাড়ীর কাকনহাট পৌরসভার বর্তমান মেয়র আব্দুল মজিদ বাদে নৌকার প্রতীক পেয়েছেন, একেএম আতাউর রহমান খান। এছাড়া বিএনপি প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজ। আর জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন রুবন হাসান। এই পৌরসভায় পরিবেশ সুষ্ঠু থাকায় নিজ নিজ পক্ষে নির্বাচনের প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, তিনটি পৌরসভায় মোট ২৯টি ভোট কেন্দ্র। নির্বাচনী এলাকার সার্বিক পরিবেশ ভালো রয়েছে। এছাড় নির্বাচনের দিনে কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার থাকবে। এছাড়া মোবাইলটিম, থানা টহল পুলিশ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবে।
এদিকে আমাদের বাঘা প্রতিনিধি আমানুল হক আমান জানান, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর নির্বাচনের সরঞ্জম বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাচন অফিস প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সরঞ্জম বিতরণ করেন।
তবে অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে ভোট কেন্দ্রগুলো আইন শৃঙ্খলাবাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। এই নির্বাচনে ১৩ পদে ৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এরমধ্যে মেয়র পদে ৪ জন। তবে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী রিবন আহম্মেদ বাপ্পি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তার প্রার্থীতা উঠিয়ে নিয়েছেন। সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৯ ও সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১০ জন।
বাঘা উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আড়ানী পৌরসভায় নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৯টি। গুরুত্বপূর্র্ণ কেন্দ্র ৯টি, বুথ সংখ্যা ৪৬টি। প্রিজাইডিং অফিসার ৯ জন, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ৪৬ জন, পোলিং অফিসার ৯২ জন, প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার ১৮ জন, ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটে, র‌্যাব ও বিজিবির ষ্টাইকিং ফোর্সের ৩টি মোবাইল টিম নিয়োগ করা হয়েছে।
মেয়র পদে প্রার্থীরা হলেন নৌকার প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদ, ধানের শীষের প্রার্থী তোজাম্মেল হক, বিদ্রোহী প্রার্থী নারিকেল গাছ মুক্তার আলী।
বাঘা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন অফিসার মুজিবুল আলম বলেন, এ নির্বাচনে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শন্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহনের জন্য আইন শৃঙ্খলাবাহিনি নিয়োগ করা হয়েছে। ভোট গ্রহনের সরাঞ্জম নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছে দেয়া হবে।
এই পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৮৪। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৮৭৮ ও নারী ভোটার ৭ হাজার ১০৬।
অন্যদিকে আমাদের গোদাগাড়ী প্রতিনিধি এ কে তোতা জানান, আজ শনিবার দ্বিতীয় ধাপে কাঁকনহাট পৌরসভার নির্বাচন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট পৌর নির্বাচনে ১৩ টি ভোট কেন্দ্র গিয়ে ১৩ হাজার ৩২৫জন ভোটার ইভিএমে ভোট প্রদান করবেন। ভোট কেন্দ্র গুলি হচ্ছে ১ নং ওয়ার্ডের ঘিয়াপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাচঁগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্য্যালয়, ২নং ওয়ার্ডে কাঁকনহাট মহাবিদ্যালয়, ৩নং ওয়ার্ডে সুন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪নং ওয়ার্ডে তালাই সুরশুনীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫নং ওয়ার্ডে মহাদেবপুর তিলাহারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬নং ওয়ার্ডে কাঁকনহাট ফাজিল মাদ্রাসা, ৭নং ওয়ার্ডে কাঁকনহাট উচ্চ বিদ্যালয়, ৮ নং ওয়ার্ডে নুন্দাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, রসুলপুর কমেদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯ নং ওয়ার্ডে ব্রাক্ষ্যমানগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যলয়।
সহকারি রিটানিং অফিসার ও উপজেলা কর্মকর্তা মসিউর রহমান বলেন, শুক্রবার সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্র ভোট গ্রহনের জন্য ইভিএম মেশিন নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পৌঁচ্ছেন।
গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) খলিলুর রহমান পাটোয়ারী বলেন,আনসার ও পুলিশ প্রতিটি কেন্দ্র ছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় টহল দিচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানে আলম বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটেরে নেতৃত্বে নির্বাচনী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্র সুষ্ঠু ও নিরপক্ষ নির্বাচন করতেই ম্যাজিস্ট্রট দায়িত্ব পালন করছে। এদিকে মেয়র পদে তিনজন, ৯ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৫৩ জন ও সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩জন প্রতিদ্বিন্দ্বীতা করছে। মেয়র প্রার্থীরা হচ্ছেন, আওয়ামী লীগের একেএম আতাউর রহমান খান (নৌকা প্রতিক), বিএনপির হাফিজুর রহমান (ধানের শীষ) প্রতিক, জাতীয় পার্টির রুবন হোসেন (লাঙ্গল প্রতিক)। তবে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ভোটাররা জানান।
আমাদের বাগমারা প্রতিনিধি রাশেদুল হক ফিরোজ জানান, ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সকল নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা। শনিবার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। নির্বাচনে পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে ১৪ হাজার ৪০৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
বাগমারা উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮ টায় থেকে ভোটারেরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা শুরু করবেন। একটানা বিকেলে ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র পদের প্রার্থী আব্দুল মালেক মন্ডল নৌকা, আব্দুর রাজ্জাক ধানের শীষ, স্বতন্ত্র (আ’লীগ পন্থি) মামুনুর রশিদ মামুন জগ ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল হোসেন নারিকেল গাছ মার্কা নিয়ে পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দুইটি কেন্দ্রকে অধিকাংশ ঝুকিপূর্ণ দেখিয়েছিলেন।
নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠ, সুন্দরসহ সহিংসতা রোধ করতে ভোট গ্রহনের দিনে ৯টি কেন্দ্রে ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ছাড়াও জেলা জর্জের মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার জন্যও একাধিক টিম মাঠে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।

এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বর্ডারগার্ড (বিজিবি) নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠ রাখতে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নির্ভয়ে আসতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, সুষ্ঠ নির্বাচন পরিচালনার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। ব্যালট পেপার ও ভোটবাক্স নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসরারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে। নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি মনে করছেন।